সাঘাটায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা
১৩ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২০ ২৩:০৮

করোনায় দাম না পাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও সব জমিতে সবজি, পাট ও বর্ষালি ইরি লাগিয়েছিলেন কৃষকরা। আবাদে অধিক সময় ও পরিশ্রম দুটোই ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সবকিছুই এখন প-শ্রম। বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে তাদের ফসল। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় কৃষকের মাঠের পর মাঠ পড়ে আছে পানিতে পচে যাওয়া ফসলের ক্ষেত। ধার দেনায় উৎপাদন খরচ করে এখন এ অবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বুরুঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘কষ্টের কতা কয়ে কী লাব হবে বাহে? কেডা নেয় হামার খবর। কেউ অ্যানা আসে কোলো না তোমার ক্যাংকা ক্ষতি হচে।’ একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, প্রতিবারই বন্যায় লাখ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হলেও সরকারিভাবে তেমন কোনো সহায়তা কপালে জোটে না। তিনি আরও জানান, এবার বর্ষায় তার জমিতে পানি আটকে প্রায় দুই লাখ টাকার পটল ও করলা গাছ পচে নষ্ট হয়েছে। সবজি চাষ করে পথে বসতে হয়েছে তাকে। সংসার চলবে কীভাবে- এ চিন্তায় মাথায় দুশ্চিন্তার আকাশ ভেঙে পড়ছে। উপজেলার চর এলাকা গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে আবাদ তলিয়ে নষ্ট হওয়ায় সব আশা ভেঙে গেছে। ৪ বিঘা জমির পাট তলিয়ে পচে যাওয়ায় কোনো কিছু ভালো লাগছে না বলে জানালেন, চর এলাকা নলছিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম। এছাড়াও ওই এলাকার প্রায় ৩০০ জন কৃষকের পাট তলিয়ে গেছে। পানি কমে যাওয়ায় জমির পর জমি পচে নষ্ট হওয়া আবাদ চোখের সামনে দেখে প্রলাপ বকছেন অনেক কৃষক। কচুয়া এলাকার কৃষক বাবলু প্রধান বলেন, লক্ষাধিক টাকা খরচ করে করলার আবাদ করেছি। কিন্তু যখন করলা তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসারের উন্নতি করব, ঠিক তখনি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে তার সব আশা চুরমার হয়ে গেেছ।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, করোনায় করলা, মরিচ, লাউ, টমেটো, শসাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদে লোকসান গুনতে হয়েছে। সে কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চরের অধিকাংশ কৃষকই পাট ও বর্ষালী ইরি ধানের চাষ করেন। সে আশা ধূলিসাৎ হয়ে গছে তাদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে পাট ও ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়।

একই মাসে পর পর দুই দফা বন্যায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। অন্তত ৫ হাজার কৃষকের ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাদেকুজ্জামান জানান, বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষি অফিস কর্তৃক ভাসমান বীজতলা তৈরি ছাড়াও কৃষকদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তালিকা করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।