শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে

রোমান আকন্দ শরীয়তপুর
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:২০

১০০ শয্যার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঘটনার পর পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে সদর হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালের নিচতলার তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ে।

সদর হাসপাতাল সূত্র জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রবিবার সকালে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে প্রবেশ করলে দেখতে পান পলেস্তারা খসে পড়ে কক্ষের টেলিফোন, কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। তাৎক্ষণিক তারা ঘটনাটি তত্ত্বাবধায়ককে জানান।

জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগ ১৯৮৫ সালে ৩০ শয্যার একতলা সদর হাসপাতালটি নির্মাণ করে। একতলা ভবনের ওপরে ২০০৫ সালে তিনতলা করা হয়। তিনতলা ভবনটি ২০০৮ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে কার্যক্রম চললেও কিছুদিন পরপরই নিচতলা ভবনের বিভিন্ন অংশের ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়তে দেখা যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি পুরনো হাসপাতালের পাশে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার রফিকুল ইসলাম মামুন বলেন, ঘটনাটি আমাদের মাঝে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ হাসপাতলে দায়িত্ব পালন করি ততক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহম্মেদ খান বলেন, আমি হাসপাতালের যে কক্ষে বসে অফিস করতাম, গত শনিবার রাতে কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। অনেক সময় রাতেও অফিস করি। ভাগ্য ভালো সেদিন রাতে আমি অফিস কক্ষে ছিলাম না। এর আগেও হাসপাতালে কয়েকটি অংশে পলেস্তারা খসে পড়ে। পুরো হাসপাতালটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘটনার পর সদর হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের আবাসিক ভবনের একটি রুমে অফিস করব। এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ফিরোজ বলেন, হাসপাতালের নিচতলা ভবনের কক্ষগুলো পরিদর্শন করেছি। তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। আরএমওর কক্ষটিও ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য কক্ষগুলোতে সীমিত আকারে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, হাসপাতালের ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় তত্ত্বাবধায়কের অফিস কক্ষ হাসপাতালের আবাসিক একটি ভবনের কক্ষে শিফট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিবে।