আগস্টে সড়ক-মহাসড়কে প্রাণ গেছে ৪৫৯ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:২৩ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৩৩
পুরোনো ছবি

বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯ জন নিহত ও ৬১৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সময় রেলপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন এবং নৌ-পথে ৪১টি দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। 

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ বুধবার বিকেলে বিষয়টি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানিয়েছেন।  তিনি জানান, সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৪৪৪টি দুর্ঘটনায় আগস্ট মাসে ৫৫৩ জন নিহত এবং ৬৬৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জন চালক, ১২৫ জন পথচারী, ৮০ জন নারী, ৪৪ জন শিশু, ৩৮ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন পরিবহন শ্রমিক, নয় জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ, একজন বিমানবাহিনী, একজন সিআইডি ও একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, নয়জন শিক্ষক, আটজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, তিনজন চিকিৎসক, একজন সাংবাদিক এবং একজন প্রকৌশলীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

এর মধ্যে নিহত হয়েছে ১৬৭ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৩ জন নারী, ৩৪ জন শিশু, ৩২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৬ জন শিক্ষক, ৩ জন চিকিৎসক, ৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (তিনজন পুলিশ, একজন বিমানবাহিনী, একজন সিআইডি), একজন প্রকৌশলী ও একজন সাংবাদিক। এইমাসে সংগঠিত দুর্ঘটনায় ২৮.৯৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬১ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.১২ শতাংশ বাস, ৮.৭৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৯.৭৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৭.৭১ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৭.০৩ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির জানায়, এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ৪ আগস্ট এইদিনে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২জন নিহত ৪৬জন আহত হয়। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১৯ আগস্ট ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪জন নিহত ৩জন আহত হয়। মোট দুর্ঘটনার ৫২.৮৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৭.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩.৯১ শতাংশ খাদে পড়ে, ৪.৮৯ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.২৫ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০.২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এইমাসে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৮.৯৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪.৬৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.১৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.২৫ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক উঠে আসায় এবং বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও বেপরোয়া চলাচল সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়াও সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও জবাবদিহীতার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পদ্ধতি ঢেলে সাজানো ব্যাতিরেখে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।