সিলেটে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার

সিলেট ব্যুরো,ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:২৪ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৫২
রবিউল ইসলাম ও শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি। ছবি : আমাদের সময়

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ রোববার রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং নবীগঞ্জ থেকে রবিউলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তার শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি হবিগঞ্জ সদর থানার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে ও রবিউল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন বড়নগদীপুর (জাগদল) গ্রামের বাসিন্দা।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে রনিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা রবিউলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।’

এর আগে ওই গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি অর্জুন লস্কর (২৫) গোয়েন্দা পুলিশের হাতে প্রেপ্তার হন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আজ রোববার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অর্জুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মাধবপুর থানাকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে শুধু অবহিত করা হয়েছে। পুরো অভিযানটি পরিচালনা করেছে গোয়েন্দারা। অর্জুনকে গ্রেপ্তারের পর সেখান থেকে সরাসরি সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়।’

তারও আগে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮) সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত হয়ে ভারতে পালানোর সময় রোববার ভোর ৬টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে সাইফুরকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সাইফুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ছাতক থানা থেকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা-পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে পাঁচ-ছয়জন যুবক জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন তারা। পরে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে ওই হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি আছে।