শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৩৪

নিজের ৭৪তম জন্মদিনে দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের থেকে শুরু করে দল-মত নির্বিশেষে বহু মানুষ এদিন নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন করেছেন। ছিল আলোচনা, দোয়া মাহফিল, দরিদ্রদের সহায়তা প্রদান, কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের মতো কর্মসূচিও।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষিত অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এদিন দেশব্যাপী নেত্রীর জন্মদিন উপদযাপন করেছেন দলের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করেছে। দিনটি উপলক্ষে অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আয়োজন করেছিলেন নানা কর্মসূচি।

রাজধানী ঢাকায় নেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল দুপুর সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমিত সংখ্যক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়। এতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ জোহর এবং দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায় মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, সকাল ১০টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি), মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ, ভোর ৬টায় তেজগাঁও জকমালা রানীর গির্জা এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধীদের উপহার : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধীদের খাবার-বস্ত্র উপহার দিয়েছে যুবলীগ। গতকাল দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর যুবলীগ নেতাকর্মীরা দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে অনলাইনে বক্তব্য দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ : শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। গতকাল সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে সংগঠনটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান : সকাল ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কৃষকদের মধ্যে বিনামূলে সার ও বীজ বিতরণ করে কৃষকলীগ। পরে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠাষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুস্থদের রিকশা উপহার : উত্তরার ১৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে গরিব-দুস্থ ব্যক্তিকে রিকশা উপহার হিসেবে তুলে দেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও দোয়া।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতীলীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগ পৃথকভাবে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্মদিন উদযাপন করে।

চট্টগ্রামে যুবলীগের পৃথক কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন কেন্দ্র করে আবারও বিভক্তি দেখা গেল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কর্মসূচিতে। দিনটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু একটি মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। অন্যদিকে চারজন যুগ্ম আহ্বায়ক আলাদাভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন অন্য মসজিদে। এ বিভক্তির কথা নেতারা স্বীকারও করেছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির বয়স সাত বছর পেরিয়ে গেছে। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে তিন মাসের জন্য এই কমিটি গঠন করেছিলেন যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। ফলে এর পর দীর্ঘসময় আহ্বায়ক কমিটিতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ার কারণে নেতার মধ্যেই হতাশা দেখা দেয়। আবার নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বও লেগে আছে নিয়মিত। বিশেষ করে ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কিছু নেতা অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। এ নেতারা আবার নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। তবে সম্প্রতি যে নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেছে, তারা সবাই মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বলেই পরিচিত। আ জ ম নাছিরের অনুসারী যুবলীগ নেতাকর্মীদের সে অর্থে নগরীতে চোখে পড়েনি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল নগরীর শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী মুসাফিরখানা জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। এর পর সেখানে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়। কিন্তু এ কমিটির চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম ও মাহবুবুল হক সুমন ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে লালদীঘি জামে মসজিদে পৃথক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন।

আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন খোকা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছু দিন ধরে অসাংগঠনিক কার্যক্রমের চর্চা হচ্ছে। এ কারণে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ অবস্থা। তবে আমরা নেত্রীর জন্মদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদযাপন করেছি। আমরা আশা করি অচিরেই আমাদের এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।’

যুগ্ম আহ্বায়কদের সঙ্গে বিভক্তির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘আজ নগরীর প্রায় প্রতিটি মসজিদেই নেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি ছিল। এর বাইরেও কর্মসূচি হয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ফলে সবাই একসঙ্গে কোথাও থাকতে পারিনি।