পানিতে ডুবে প্রাণ হারালেন মা ও ছেলে

রংপুর সংবাদদাতা
২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯

রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- নগরীর শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৮) এবং তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রিপন (৬)। এ নিয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পাঁচ দিনে রংপুর নগরীতে চারজন প্রাণ হারালো।

সূত্র জানায়, নগরীর মিস্ত্রিপাড়া থেকে গতকাল দুপুরে মা রোকেয়া বেগম ছোট ছেলে রিপনকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটুপানি মাড়িয়ে বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম রোহানকে (১১) জুম্মাপাড়ার মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বড় ছেলে রোহান পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে

যায়। তখন ছোট ছেলে রিপনকে হাঁটুপানিতে রেখে বড় ছেলেকে বাঁচাতে মা রোকেয়া পানিতে ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেন। পরক্ষণেই ছোট ছেলে অন্য পাশের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তখন তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন মা। এরপর পানি থেকে ছেলে ও মা উঠতে পারেননি। এলাকাবাসী বহু খোঁজাখুঁজির পর মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত শনিবার রাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে ডুবে যায় রংপুর নগরী। গত কয়েকদিনে বেশিরভাগ এলাকার পানি নেমে গেলেও কিছু কিছু এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এখনো তলিয়ে আছে মিস্ত্রিপাড়া-জুম্মাপাড়ার সড়কটি। ফলে ওই পথে চলাচলকারীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। তাদের দাবি, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তলিয়ে যাওয়া সড়কটির দু’ধারে বাঁশ বা কোনো কিছু দিয়ে চিহ্নিত করা হলে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো না। তারা আরও জানান, রংপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জলাবদ্ধতায় নগরীর মিস্ত্রিপাড়া থেকে জুম্মাপাড়া যাওয়ার প্রায় চার কিলোমিটারের রাস্তা হাঁটুপানিতে ডুবে আছে। এর মাঝে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে নিচু এলাকা হওয়ায় পানি থৈ থৈ অবস্থা। বিকল্প রাস্তা দিয়ে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয় গন্তব্যে। এজন্য এলাকাবাসী মাত্র চার ফিট প্রশস্ত একটি সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।

সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেকেন্দার আলী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে কচুরিপানা অপসারণসহ ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সড়কটি আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতার কারণে এর আগে গত রবিবার নগরীর উত্তর বাবুখা এলাকায় দেয়াল ধ্বসে এক পরিবহন শ্রমিক এবং পাকপাড়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে একজন মারা যান।