নবম শ্রেণি পর্যন্ত অটোপাস

এম এইচ রবিন
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৯

করোনা সংক্রমণের কারণে এবার বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়েই প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ওপরের শ্রেণিতে তোলা হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল বুধবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে পরিস্থিতি তাতে এবার কোনো বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে কারিগরির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে বলেন, এ বছর প্রাথমিক স্তরেও বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। সব শিক্ষার্থীই পরের ক্লাসে প্রমোশন পেয়ে যাবে। পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে দক্ষতা যাচাইয়ের মতো বয়স নয়। ভিন্ন কোনো উপায়ে আমরা তাদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করব। পরের শ্রেণিতে সে অনুযায়ী পাঠদান হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণের জন্য ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে এনসিটিবি। ওই সিলেবাসের আলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতিসপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সেই অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ক্লাসে তা পূরণের চেষ্টা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে ওঠার ক্ষেত্রে এ অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের যে কোনো প্রভাব থাকবে না, তা জানিয়ে দীপু মনি বলেন, এ মূল্যায়নটার মাধ্যমে যেন কোনো চাপ সৃষ্টি করা

না হয়। এ মূল্যায়ন শুধু আমাদের বোঝার জন্য যে শিক্ষার্থীদের কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো পরের ক্লাসে কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করব।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল হলেও কারিগরির পরীক্ষা হবে। সাধারণ বিষয়ে পরীক্ষা ছাড়া ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হলেও কারিগরি শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। কারিগরি শিক্ষার্থীদের লেখার চাইতে ব্যবহারিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেটি না শিখলে তাকে পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেওয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে সেশন পর্বের পরীক্ষার মাধ্যমে এ স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পর্বে প্রমোশন দেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, কারিগরি স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিষয়ে আমরা জানিয়ে দেব।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না হলেও শিক্ষার্থীদের সমাপনী সনদ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সনদ ও বৃত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানিয়ে দেব। নভেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কিনা এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনাদের কী মনে হয়? এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ আছে বলে মনে হয়? যেসব দেশে খুলেছিল অধিকাংশ জায়গায় বন্ধ করার পর্যায়ে আছে।

করোনা মহামারীর মধ্যে বিপাকে পড়ে যারা এক এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় গেছেন সেসব শিক্ষার্থী নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপাতত যুক্ত থাকতে পারবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

করোনায় যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা চাকরি হারিয়েছেন তাদের কাছ থেকে সন্তানের টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে মানবিক আচরণ করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা চাকরি হারিয়েছেন বা আয়-রোজগার হারিয়েছেন তাদের বলব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মানবিক আচরণ করে এবং তাদের যতটা সম্ভব ছাড় দেওয়া, না হলে কিস্তিতে টিউশন ফি পরিশোধ করাসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষকে আন্তরিকতার সঙ্গে সন্তানদের শিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেদের সামর্থ্যমতো যা কিছু করা সম্ভব তা করার জন্য বারবার আমি আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সন্তানদের যেমন শিক্ষা চালিয়ে নিতে হবে, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও চালু রাখতে হবে। আমাদের শিক্ষকদেরও জীবন-জীবিকার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কাজেই ঢালাওভাবে বেতন বাদ দিয়ে দেওয়া বা এখন বেতন দেওয়া হবে না, এ জাতীয় কোনো সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।

আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এখন এমন একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যে, খুব বেশি সামনে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। তবে যাদের সামনের বছর এসএসসি ও এইচএসসি আছে, তারা অবশ্যই নিজেরা নিজেদের প্রস্তুতি নেবে। সবার কাছে বই আছে, যতদূর সম্ভব অনলাইনে অ্যাকসেস করবে। কারণ পরীক্ষা যদি কিছুদিন পরেও হয়, সময়মতো হয়ত করার আমরা চেষ্টা করব, সময়মতো হলে তো হলোই, না হলে যদি কিছুদিন পরেও হয় তা হলেও কিন্তু পরীক্ষা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে দীপু মনি বলেন, আমাদের কয়েক বছর ধরে প্রচেষ্টা ছিল সমন্বিত পরীক্ষা শুরুর। আমরা মনে করি, এ বছর যে বাস্তবতা, তাতে এ সমন্বিত পরীক্ষাটি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গুচ্ছ পদ্ধতিতে এ পরীক্ষা আয়োজনে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সঙ্গে নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দীপু মনি বলেন, সমন্বিত পরীক্ষা যদি দেশব্যাপী নিতে পারি তা হলে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই হয়তো সেটি করা সম্ভব। কারণ প্রতি জেলায় যদি পরীক্ষা হয় এবং সারাদেশে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আছেন, তারাই নানাভাবে ইনভিজিলেটর, পরীক্ষা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে মান নিশ্চিত করতে পারেন। আমাদের ধারণা, এটি করা সম্ভব।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি চলছে। মহামারীর কারণে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও হচ্ছে না।