করোনা কেটে গেলে ডেথ রেফারেন্স শুনানি

ফেনী প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ০৮:৫৩

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ের গতকাল এক বছর পূর্ণ হলো। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। করোনার সংকটময় পরিস্থিতি কেটে গেলে মামলাটির শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন ফেনী আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদ-াদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি।

হাফেজ আহমেদ আরও বলেন, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনায় প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনের ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। এর পর চারজন আসামি খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আইনজীবীদের মাধ্যমে আপিল করেছেন। বাকি ১২ জন আসামি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করেছেন।

ফেনী জেলা কারাগারের কারা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অন্য মামলা থাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর, সাবেক পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকসুদ আলমকে ফেনী কারাগারে রাখা হয়েছে। কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পাকে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন ও মোহাম্মদ শামীমকে রাখা হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিনা আক্তার বলেন, খুনিরা রাফিকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। দেড় বছর আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দুই চোখের পাতা বন্ধ করলে রাফির পোড়া শরীর আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই, উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক। খুনিরা যেন পার পেয়ে না যায়।

মামলার বাদী রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা আদালতের প্রতি আস্থাশীল। নি¤œ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করছি উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচার পাব।