মামুন মুস্তাফার দশ দশমী

৩০ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২০ ২১:৪৭

যে কবিতা পড়তে ভালো লাগে, যে কবিতা পাঠের পর তৃপ্তি পাওয়া যায়, ভালো লাগার রেশ লেগে থাকে দীর্ঘসময়, তাই ভালো কবিতা। সাধারণের কাছে কবিতা, ভালো কবিতা, সৎ কবিতার সংজ্ঞা নির্ধারণ জরুরি নয়। রসাস্বাদনের জন্য প্রয়োজনীয়ও নয়। যে কবিতা মনোযোগ দাবি করে, তাই ভালো কবিতা। কবিতা পরিবর্তন হচ্ছে। ভাব ও ভাষাও। ধীরে হলেও শুধু উপস্থাপন কৌশল আয়ত্ব করে অনেকে পাল্টে দিতে চাচ্ছেন কবিতার মেজাজ, গতিপথ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সচল মামুন মুস্তাফা শুধু উপস্থাপন কৌশল ব্যবহার করতে চাননি। তিনি ভাব ও ভাষার ওপর ভর করে পাঠককে তৃপ্তি দিতে চেয়েছেন। আত্মতৃপ্তিও খুঁজেছেন। নিজের নির্বাচিত কবিতা সংকলনের (দশ দশমী) ভূমিকায় সেই সরল স্বীকারোক্তি থেকে বলেন, ‘একজন কবির প্রতিনিয়ত নতুন কবিতা লেখার আকাক্সক্ষা থাকে কিন্তু কবিতার পালাবদল ঘটবে অহরহ, ভাঙচুর করতে হবে, এমন কোনো প্রতিজ্ঞা থেকে আমি কবিতা লিখিনি। বরং এক সহজাত মনের খেয়ালে কবিতার শব্দ, বাক্য নিয়ে খেলা করেছি দিনরাত।’ সেই খেলার জগতে দীর্ঘদিন সচল থাকায় ইতোমধ্যে মামুন মুস্তাফার ঝুলিতে জমা হয়েছে ১০টি কাব্যগ্রন্থ। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো নতুন কবিতা লিখতে চাননি, পালাবদল, ভাঙচুর করতে চাননি। কিন্তু যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তিনি নিজেকে সচল রেখেছেন, সেই অভিজ্ঞতাই তাকে প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে নতুন করে উপস্থিত হতে বাধ্য করেছে। তিনি সচেতনভাবেই প্রতিবার, নিজেকে পাল্টেছেন। সেই পাল্টানোর কাব্যিক ভাষায় যতটা না, তারচেয়ে বেশি কাব্যিকবোধে। বিষয় ও প্রকরণের দিক থেকে প্রতিটি কাব্যগ্রন্থেই তিনি নতুন হয়ে ধরা দিয়েছেন। এই নতুনের দিকনির্দেশনায় তিনি কখনই পলায়নবাদীর ভূমিকা নেননি। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ, একজন সংবেদনশীল মানুষ দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময়, সাধারণের চোখে আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ বিষয়ও এড়িয়ে যেতে পারেন না। মামুন মুস্তাফা একজন সমাজসচেতন লেখকের ভূমিকাই পালন করেছেন। তার কবিতায় যেমন স্মৃতিকাতরতা রয়েছে, রয়েছে ফেলে আসা জীবনের জন্য হাহাকার। তেমনিভাবে তিনি ইতিহাস এবং সমকালকেও উপেক্ষা করেননি। তাই তার কবিতায় খুঁজে পাওয়া যায় বাঙালির মহৎ অর্জন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বগাথা। আছে ব্যক্তিগত পাওয়া না পাওয়ার হিসাব, আছে গল্পের আবহ, আছে মিথ ও পুরাণের বহুমাত্রিক উপস্থাপন। শেষের কথা, বইটি নবীন লিখিয়ে ও পাঠকের হাতে যাওয়া জরুরি। সেই আশাবাদ থেকে ‘দশ দশমী’র বহুল প্রচার কামনা করছি। া