ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ইয়েমেন : জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক
২১ নভেম্বর ২০২০ ১৮:৪৪ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০১:২৫
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার অনিবার্য ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়েমেন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণ হারাতে পারে লাখ লাখ মানুষ। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এমন সতর্কতা দেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ত্রাণকর্মীদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ইয়েমেনে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হবে এবং সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, ‘প্রভাবশালী সবাই যেন বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয় আমি সেই আহ্বান জানাই। আমি আরও অনুরোধ করব, ইতিমধ্যেই শোচনীয় অবস্থায় থাকা দেশটির বিরুদ্ধে কেউ যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।’

গুতেরেস জানান, জাতিসংঘ সমন্বিত ত্রাণ কর্মসূচিতে তহবিলের পরিমাণ কমে যাওয়া, ইয়েমেনি মুদ্রায় অস্থিতিশীলতা ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দেশগুলোর আরোপিত প্রতিবন্ধকতার কারণে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বেড়েছে।

দেশটির ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে পাঁচ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।

২০১৫ সালের মার্চে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক নারী-শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।