সরকার দেশকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেছে : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ নভেম্বর ২০২০ ১৭:০৫ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২০ ১৭:০৫
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পুরোনো ছবি

সরকার দেশকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ভেন্টিলেশন আছে, লাইফ সাপোর্টে আছে। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনারা পুরো দেশটাকে তো লাইফ সাপোর্টে রাখছেন। এখন ইনডিভিউজিলি কোন দল, কোন ব্যাক্তি লাইফ সাপোর্টে আছে-এটা নির্ণয় করা তো খুব কঠিন। কারণ, দেশটা টিকবে কিনা সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে মানুষ। কে যে ভেন্টিলেশনে আছেন, কে যে নাই-এটা অনুধাবণ বা উপলব্ধি করতে যদি পারতেন তাহলে অনেক আগেই মন্ত্রিসভা ছেড়ে দিতেন।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এই রক্ত দিয়ে কেনা অর্জিত বাংলাদেশ, মা-বোনের সম্ভ্মহানি করে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশটা বাংলাদেশের জনগণের হাতে নাই। আপনি (শেখ হাসিনা) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন, দেশটা আপনারও হাতে নাই। আপনি তো প্রধানমন্ত্রী না, আপনি হলেন পুতুল। আপনি নাচেন, আপনাকে কে নাচায় সেটা আপনিই ভালো করে জানেন। আমরা পুতুল নাচ দেখাতেছি গণভবনে।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে চাঁদাবাজি

গয়েশ্বর বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন অবিসংবাদিত নেতা তাকে ছোট করে ভাববার কোনো কারণ নাই, শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৬৫ দিনের জন্মদিন পালন হচ্ছে মুজিব শতবার্ষিকী। ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কল-কারখানা মালিকনা বলতে পারবেন তাদের থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে। কী পরিমাণ চাঁদাবাজি হইছে। আর কি পরিমাণ রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ হইছে তার তো হিসাব নাই। এই সবগুলো যদি একখানে করা হয় একটা জন্মদিনের তাহলে বাংলাদেশের একবছরের বাজেটের টাকা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই জন্মদিন (বঙ্গবন্ধুর) পালন করতে গিয়ে অতি উৎসাহীরা শেখ মুজিবকে বাথরুমের মধ্যে ঢুকাই দিছে।ওদের টিস্যুর মধ্যে শেখ মুজিবের ছবি ছাপাইছে। এই টিস্যু কিসে ব্যবহার হয়? ভালো কাজে ব্যবহার হয়, না। তারা শেখ মুজিবকে নামতে নামতে নামতে একেবারে লেটরিনের মধ্যে নিয়ে গেছে। অথচ এই ব্যক্তিটির তার জীবনে যতটুকু অবদান আছে, সেই অবদানের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রামের ইতিহাসে একটা বিরাট অংশ তিনি দখল করে আছেন। তার জন্য তার মেয়ের এত কিছু করার দরকার নাই। আর এই যে ঘুষ-দুর্নীতির টাকা দিয়ে জন্মদিন পালন করে তার প্রতি কী তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন নাকি অপমান করছেন?’

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কাজী মো. আমির খসুরর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদলের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেইন প্রমুখ।