কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২০ ২২:৫৫

শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৪-১৯৯৫) বাংলা ভাষার অন্যতম কবি। লিরিকধর্মী কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি ষাটের দশকে হাংরি আন্দোলনের অন্যতম সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগরে জন্মগ্রহণ

করেন। ১৯৯৫ সালের ২৫ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন কলকাতায়।

শক্তি স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ত্যাগ করেন এবং লেখালেখি করেই জীবিকা নির্বাহের ইচ্ছা করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও কোনোটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। তিনি দোকানের সহকারী হিসেবে ফার্মেসিতে কাজ করেছেন। জুনিয়র পদে মোটর কোম্পানিতেও কাজ নেন। একসময় ব্যবসা করার চেষ্টা করেন এবং বিফল হন। পরে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেন দীর্ঘদিন।

তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ- ধর্মে আছো জিরাফেও আছো, সোনার মাছি খুন করেছি, ভাত নেই পাথর রয়েছে প্রভৃতি। এ ছাড়া অনুবাদ করেছেন ওমর খৈয়াম, মির্জা গালিব, লোরকা, মায়াকোভস্কিসহ বিশ্বখ্যাত অনেক কবির কবিতা। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো’ কাব্যগ্রন্থ ইংরেজি ও মৈথিলী ভাষায় অনূদিত হয়। ১৯৮৩ সালে লাভ করেন সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার।

শক্তির রচিত অসংখ্য পঙ্ক্তি ঘোরে কবিতাপ্রেমীদের মুখে। যেমন- ‘আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবি/এমন ছিল না আষাঢ় শেষের বেলা/উদ্যানে ছিল বরষা পীড়িত ফুল/আনন্দ ভৈরবী’। অথবা- ‘দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া/কেবল শুনি রাতের কড়া নাড়া/অবনী বাড়ি আছ’। যেমন আরও- আমার কাছে এখনও পড়ে আছে/তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি/কেমন করে তোরঙ্গ আজ খোল’।