সরকারের জিরো টলারেন্সেই সন্ত্রাসবাদ দমনে সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:৪৭

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স মনোভাবের কারণেই এটি দমনে সাফল্য আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ ধারা বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোতে সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও সাফল্য আসবে। গত মাসের শেষ দিকে সিডনিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের এ অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। সূচকে ১৬৩টি দেশের মধ্যে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। গত বছরে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩০তম। তারও আগের বছর সূচকে বাংলাদেশ ছিল ২৫তম অবস্থানে। এমনকি সূচক অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ বাড়লেও তা দমনে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে দেশ।

সূচকে দেখা যায়, সন্ত্রাসবাদ দমনে বিশ্বে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বে ১৩৮তম অবস্থানে আছে ভুটান। তবে গত বছরের মতো এবারও সারাবিশ্বে সূচকে সন্ত্রাসবাদে শীর্ষে আছে আফগানিস্তানের নাম। পাশাপাশি দুই ধাপ উন্নতি করে পাকিস্তান রয়েছে সপ্তমে এবং ভারত ও নেপাল রয়েছে যৌথভাবে ২৭ নম্বরে।

প্রতিবেদনে দেশগুলোকে শূন্য থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। ৮-এর বেশি থেকে ১০ স্কোর পর্যন্ত দেশগুলোয় সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। স্কোর ৬-এর বেশি থেকে ৮-এর মধ্যে থাকা দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের উচ্চ হুমকিতে রয়েছে। ৪-এর বেশি থেকে ৬-এর মধ্যে স্কোর রয়েছে যেসব দেশের, সেগুলোয় মাঝারি মাত্রার

সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। আর ২-এর বেশি থেকে ৪ পর্যন্ত স্কোর পাওয়া দেশগুলোয় সন্ত্রাসবাদের উপস্থিতি কম। চলতি বছরের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৪.৯০৯। অর্থাৎ বাংলাদেশে এখনো মধ্যম আকারে সন্ত্রাসবাদ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এবং কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্সের কারণে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার বাংলাদেশে অনেক কমেছে। এটি আরও কমানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে এবারের সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কমেছে। আশা করি আগামীতে অবস্থান আরও ভালো হবে।