অর্জনও থাকবে বর্জনও থাকবে

মঈন আবদুল্লাহ
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:২৭

পৃথিবীতে কোনো পুরস্কারই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। তাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার পর প্রতিবছরই একশ্রেণি সমালোচনা করেন, আবার অন্য শ্রেণি প্রশংসা করেন। যারা পুরস্কারের আশা করেছিলেন, তাদের মনে একটু কষ্ট তো থাকবেই। একজন পরিচালক যখন একটি কাজ করেন, সেটি সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে করে থাকেন। আমি তাই মনে করি। আমরা যখন কোনো লেখা লিখি, সেটি মনের ভালোবাসা থেকেই লিখে থাকি। তবে ইদানীং মৌলিক লেখার সংখ্যা কমে গেছে। মারিং-কাটিং যুগ চলছে। তেমনি চলচ্চিত্র বলেন আর নাটকই বলেন- সবাই কারও দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। এই অনুপ্রাণিত আসলে নকল করাকেই বলা হয়ে থাকে। আর জাতীয় পুরস্কারগুলো একটু অন্যরকমই হয়ে থাকে। দেখবেন যে ছবি দর্শক পছন্দ করছে, সে ছবি পুরস্কার পাচ্ছে না। আবার যে ছবি সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে, কিন্তু সেটি দর্শক দেখছে না। আসলে এটি কারও দোষের নয়। মানুষের রুচির অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফেসবুক রাজত্ব করছে এখন দুনিয়ায়। এমন পৃথিবীতে কারও মুখই আপনি চাইলেই আটকে রাখতে পারছেন না। যে যার মতো, যা খুশি বলে যাচ্ছেন। যে চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো সমালোচনার যোগ্যতাই রাখেন না, তিনিও সমালোচনা করে চলেছেন। আবার মনের ক্ষোভ থেকে যারা পুরস্কার পাননি, তারা নানা কথা বলে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই যে পুরস্কারের প্রত্যাশা করেছেন, সেটি পাননি। সেই হতাশা থেকেও নানা কথা বলে যাচ্ছেন। আবার সেটি ফেসবুকে পোস্টও দিচ্ছেন। আর সেই পোস্ট থেকেই সাংবাদিকরা নিউজ করে যাচ্ছেন। এগুলো নিয়েও আরও সচেতন হতে হবে।

‘আবার বসন্ত’ ছবিতে অভিনয় করার জন্য তারিক আনাম খান সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন। এ ছবিতে এই অভিনেতা অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ছবির মেকিং বলুন, কাহিনির দুর্বলতা বলুন- সেগুলোকে ছাপিয়ে তারিক আনাম অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকে। তাই আমি মনে করি, সেরার স্বীকৃতি তাকে মানিয়েছে। আবার সেরা ছবি ‘ন ডরাই’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’। দুটি ছবিই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বানিয়েছেন নির্মাতা। শুধু যে গল্পই ভালো তা নয়, এগুলোর নির্মাণশৈলীও প্রশংসার দাবি রাখে। আবার আজীবন সম্মাননায় সুচন্দা ও সোহেল রানাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমালোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এ সম্মান আরও আগে তাদের দেওয়া উচিত ছিল। তার পরও জুরি বোর্ডে বাছাইয়ের জন্য ধন্যবাদ পেতেই পারেন। তবে গানের ক্ষেত্রে জুরি বোর্ড আরও সচেতন হতে পারত। যেসব গানের জন্য শিল্পী কিংবা গীতিকার ও সুরকার পুরস্কার পেলেন, এসব গান পুরস্কারের জন্য মানানসই নয়। কোনো গানই মানুষের মন জয় করা গান নয়। এর পরও গানের বাজারের তুলনায় পুরস্কার দেওয়ার মতো শিল্পী পাওয়া গেছে- এটিই কম কিসে। আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে এ পুরস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এটি। তাই যে যা-ই বলুক, সবার মনেই এ পুরস্কার পাওয়ার গোপন ইচ্ছা কিন্তু লুকিয়ে থাকে। যারা এ জগতে কাজ করেন, সবারই এটি একটি স্বপ্ন। এর পরও অনেক পুরস্কারই অনেক শিল্পী বর্জন করেছেন। ফারুক থেকে শুরু করে শাবানা, মোশাররফ করিমসহ অনেকেই পুরস্কারের তালিকায় নাম থাকার পরও গ্রহণ করেননি। তাই আমাদের দেশে অর্জন-বর্জন দুটিই আছে। এর পরও ভালো কাজ হবে, পুরস্কারও দেওয়া হবে। অর্জনও থাকবে, বর্জনও থাকবে। পরিশেষে যারা পুরস্কার পাচ্ছেন, তাদের প্রতি রইল ভালোবাসা।