১৭ মের আগে খুলছে না ঢাবির হল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০১:০১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইতোপূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসরণে আগামী ১৭ মের আগে ঢাবির কোনো হল খোলা হবে না। গতকাল মঙ্গলবার অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় নতুন এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে
সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল।
এদিন সন্ধ্যায় আয়োজিত পৃথক সভায় ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের সব পরীক্ষাও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা গতকাল রাতে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে রাখেন। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষা স্থগিত রাখা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্ত। দেশের সব মার্কেটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে, পরীক্ষা স্থগিত রেখে কর্তৃপক্ষ তাদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ঢাবি একাডেমিক কাউন্সিলের ইতোপূর্বের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিলÑ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনার্স শেষ বর্ষ এবং মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ মার্চ থেকে আবাসিক পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়া হবে। গতকালের জরুরি সভায় পূর্বগৃহীত সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি স্থগিত করা হয় পূর্বপ্রণীত পরীক্ষার সব সূচিও। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৭ মে আবাসিক হল খোলার আগে নতুন কোনো পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হবে না। এর আগে, আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান ঢাবি উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী ১৭ মে থেকে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেন এরই মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে ভ্যাক্সিনের আওতায় আনা যায়। কতদিনের মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা প্রয়োগ করতে হবেÑ সভায় বিশেষজ্ঞ সদস্যরা সে বিষয়েও মতামত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। এর পর শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারে। সে কারণে আমরা সরকারকে বিনম্র আহ্বান জানিয়েছি যেন ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হয়। তা হলে ১৭ মে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো যাবে। এখন হল খোলার পূর্বশর্ত হচ্ছে টিকা গ্রহণ করা।
পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ১৩ মার্চকে সামনে রেখে যে সব বড় বড় পরীক্ষার রুটিন করা হয়েছিল, সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। কারণ সেগুলো তো শিক্ষার্থীদের হলে থাকার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো পরীক্ষাও তাই এ মুহূর্তে নেওয়া হবে না। এ বিষয়গুলো এখন একেবারেই বিভাগীয় পর্যায়ে সীমিত থাকবে। তবে যেসব বিভাগের কয়েকটা পরীক্ষা হয়েছে, দু-একটা বাকি আছে, যেগুলো অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েট হবে, সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অনুষদ।
সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা।
এর আগে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে হল খোলার দাবিতে গত সোমবার ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য বলেন, প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে অনেক সিদ্ধান্ত সমন্বিতভাবে নিতে হয়। বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিলে এর ফল খারাপ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়াই এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য। আমি প্রত্যাশা করি, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি নেই। তারা বুঝতে পারবে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সৎ ও মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বিষয়টি তাদের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তারাও সহমত পোষণ করে নতুন গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে।
যদিও মে মাসে হল খোলার সিদ্ধান্তে খুশি নন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র জুনাইদ হুসেইন খান বলেন, আমাদের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম চলছে। এর মধ্যে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। আলটিমেটাম শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ঢাবি অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি বড় সরকারি কলেজের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘোষণার এক দিন পর গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ফোকাল পয়েন্ট) ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সাতটি কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট তিন ডিনকে নিয়ে সভা করেন সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এস মাকসুদ কামাল। এ সভাতেই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত জানার পর রাতেই নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে এর প্রতিবাদ জানান কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, আমাদের চলমান পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে? শুধু পরীক্ষার জন্য আমরা গ্রাম থেকে ঢাকা এসেছি। এমন হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে চলমান পরীক্ষা নিতে হবে।
ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ হলোÑ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল