অর্ধেকের বেশি অভিভাবক স্কুল খোলার পক্ষে নন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৯:২৮
পুরোনো ছবি

করোনা মহামারীর এ সময়ে ৫৪.৭ শতাংশ অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদবোধ করছেন না। তবে ৬৮ শতাংশ শিক্ষক এখনই স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অভিভাবক ও শিক্ষক ছাড়া অন্যদের মধ্যে ৬০.৫০ শতাংশ মানুষ স্কুল খোলা উচিত বলে মনে করেন। যদিও এদের মধ্যে ৫২ শতাংশ মনে করেন, এতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম বাংলাদেশের করা এক অনলাইন জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ‘অবশেষে স্কুল খুলছে : আমরা কতখানি প্রস্তুত?’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে প্রকাশ করা হয় এ জরিপের ফল। মোট এক হাজার ৯৬০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপটিতে ৫৭৬ অভিভাবক এবং ৩৭০ শিক্ষকের মত নেওয়া হয়।

জরিপের ফল উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপ ও যোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ১৯৬০ জনের অংশগ্রহণে এই অনলাইন জরিপে ৫৪.৭ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদবোধ করছেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৬৮ শতাংশ শিক্ষক স্কুল এখনই খুলে দেওয়ার পক্ষে। আবার ৬৭ শতাংশ অভিভাবক সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি প্রদানে আগ্রহী নন এবং ৬৮.৮ শতাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহনে সরকারি অনুদানের কথা উল্লেখ করেন। ৫০.৭ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, তাদের সন্তানের স্কুল সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সক্ষম না। যদিও ৬৮ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, তাদের স্কুলের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা নিশ্চিতের সামর্থ্য রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী অন্যদের মধ্যে ৬০.৫ শতাংশ মনে করেন স্কুল খোলা উচিত, যদিও ৫২.২ শতাংশ এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন।

নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ‘স্কুল খোলার পরিস্থিতি নিয়ে একটি মিশ্র চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মূল কারণ স্কুল খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার প্রস্তুতি সমান নয়। স্কুল বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির অভিগম্যতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রস্তুতিতে পার্থক্যের পাশাপাশি শহর এবং গ্রামের স্কুলের মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।

সংলাপে এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মঞ্জুর আহমেদ প্রস্তাব করেন, সব বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে, শুধু কিছু মৌলিক বিষয়ে জোর দিয়ে স্কুল খোলা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কম পড়বে।