নির্বিষ বোলিংয়ে সম্বল তিন উইকেট

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:৪৭ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ২২:১৬

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম টেস্টে বড় হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনলেও বোলিংয়ে তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশ টিমে। মিরাজ, শফিউল, তাসকিনদের বাদ দিয়ে রুবেল, শুভাশিষ ও তাইজুলকে ভেড়ানো হলেও বোলিংয়ে নির্বিষ টাইগাররা। বরং আগের ম্যাচের চেয়ে করুন তাদের অবস্থা। এদিকে প্রথম টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া টাইগার কাপ্তান মুশফিকুর রহীম দ্বিতীয় টেস্টেও একই ভুল করেছেন। যদিও দ্বিতীয় সেশনের শেষের দিকে এবং শেষ সেশনের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ভাগ্যের শিকে ছেড়েনি মমিনুলদের। যার ফলে প্রথম দিনেই দক্ষিণ আফ্রিকার রানের দেয়ালে চাপা পড়েছে টাইগাররা। দিন শেষে তিন উইকেটে ৪২৮ রান করেছে প্রোটিয়ারা।

এদিন ব্যাটিংয়ে নেমেই মুশফিকের সিদ্ধান্তকে মাঠেই মেরে দেন ডিন এলগার ও এইডেন মার্করাম। প্রথম উইকেটের জন্য প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। দিনের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডিন এলগারকে ফেরান শুভাশিষ রায়। ৫৪তম ওভারের চতুর্থ ওভারে এলগারকে মুস্তাফিজের তালুবন্দি করেন তিনি। প্রোটিয়াদের রান তখন ২৪৩। এলগার করেন ১১৩ রান। ক্রিজে আসেন প্রোটিয়াদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হাসিম আমলা।

আমলার নিজের খোলস ছেড়ে বের হবার আগে তাকে নিয়ে এগুতে থাকেন মার্করাম। তবে জুটিটা বড় হতে দেননি রুবেল হোসেন। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে মার্করামের স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি মিস করা মার্করাম ১৪৩ রান করে বিদায় নেন। তার পরপরই টেম্বা বাভুমাকেও ফেরান শুভাশিষ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। মাত্র ৭ রান করেন তিনি। দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৪০ রান তুলে নিয়ে সফরকারীদের আবার খাদের কিনারে ঠেলে দেন হাশিম আমলা ও ফাফ দু প্লেসিস।

এদিন ব্লুমফন্টেইনের ঘাসের পিচে ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই পরীক্ষায় পড়তে দিতে চাননি মুশফিক। পেসাররা যেন বাড়তি সুবিধা পায় সেটি মাথায় রেখেই ফিল্ডিং বেছে নেন টাইগার দলনায়ক। মুশফিক নির্ভাবনায় ফিল্ডিং বেছে নিলেও চমকে দেয়া কথাই বলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। টসের সময় উপস্থাপককে তিনি বলেছিলেন, এমন পিচে টসে জিতলে দশবারের মতো নয়বারই তিনি ব্যাটিং নিতেন। ডু প্লেসিসের বক্তব্যের সত্যতাই যেন ফুঠে উঠে দুই প্রোটিয়া ওপেনারের ব্যাটে।

২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার কিংবা মরকেলের মধ্য হতে যেকোনো একজনকে ছাড়া টেস্ট খেলতে নামল প্রোটিয়ারা।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও শুভাশিস রায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: ডিন এলগার, এইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ডিলে ফেলুকওয়ায়ো, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, ওয়েইন পারনেল ও ডোয়াইন অলিভিয়ে।