ফেঁসে যাচ্ছেন পলাতক আসামিদের জামিনদাররা

  রহমান জাহিদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

জঙ্গি, শীর্ষসন্ত্রাসীসহ বড় ধরনের মামলায় পলাতক আসামির জামিনদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছে আদালতে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মস্ত্রণালয় থেকে ঢাকার সিএমএম, সিজেএম, জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, বিশেষ জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ে ‘জামিনদারের দরকার কী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া আসামিদের জামিনদারের বিরুদ্ধে আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকলেও তা না নেওয়ায় দিন দিন এই হার বেড়েই চলেছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় বৈঠক করে সারা দেশের নি¤œআদালতে জঙ্গি ও শীর্ষসন্ত্রাসীসহ বড় ধরনের মামলায় পলাতক আসামির জামিনদারদের বিরুব্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী আদালতগুলোতে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা সিএমএম আদালতের এক বিচারক বলেন, আমরা মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী বড় ধরনের যেসব মামলার আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছে, তাদের জামিনদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মূলত কোনো আসামির জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত জামিনদার ও মুচলেকার টাকার পরিমাণ ঠিক করে দেন। সে অনুযায়ী আদালতে জামিননামা দাখিল করলেই জামিন পান বা কারামুক্তি ঘটে সংশ্লিষ্ট আসামির। সাধারণত পরিচিত কাছের কোনো ব্যক্তি এবং নিযুক্তীয় আইনজীবীকে জামিনদার এবং হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন আদালত। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন্ডের টাকা ৫ থেকে ১০ হাজারই নির্ধারণ হতে দেখা যায়।

ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫১৪ ধারায় বলা হয়েছে, আসামি জামিনে পলাতক হলে জামিনদারকে জামিননামায় উল্লেখিত টাকা কেন পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেবেন আদালত। যদি জামিনদার পর্যাপ্ত কারণ দর্শাতে না পারেন এবং বন্ডের টাকা প্রদান না করেন তবে আদালত তার অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রির মাধ্যমে তা আদায় করতে পারবেন। এর মাধ্যমেও অর্থ আদায় করা না গেলে জামিনদারকে ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাবাসের আদেশ দিতে পারবেন আদালত। কিন্তু ঢাকার আদালতগুলোতে বিভিন্ন মামলায় হাজার হাজার আসামি পলাতক থাকলেও আইনের এ ধারা কোনো জামিনদারের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হয়নি। এমনকি ঢাকার বাইরের ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ও দায়রা জজের অধিকাংশ আদালতেও এর প্রয়োগ নেই বলে জানা গেছে। আর এ ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী (ভিকটিম) বিচারের বিষয়ে যেমন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তেমনই রায় পেলেও মনের তৃষ্ণা মেটে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে