পূজার নিমন্ত্রণে

  অনলাইন ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুরু হয়ে গেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার এ কয়েক দিনও একটু ভালো খাওয়া-দাওয়া হয়। তবে দশমীতে জমিয়ে ভোজ না হলে কি চলে! করতে হয় অতিথি আপ্যায়ন। দশমীর আয়োজনে বেশ কিছু রেসিপি দিয়েছেনÑ কাকলী সাহা।

ছবি : ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

সরিষা ইলিশ

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬-৭ টুকরা, দুই টেবিল চামচ সরিষা, কাঁচামরিচ ছয়টি, কালিজিরা আধা টেবিল চামচ, হলুদের গুঁড়া এক চামচ, মরিচের গুঁড়া আধা টেবিল চামচ, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ ও লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি : প্রথমে সরিষা পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চারটি কাঁচামরিচ এর সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে বেটে পেস্ট করে নিন। একটি ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে তাতে লবণ মাখানো মাছগুলো হালকা ভেজে আলাদা তুলে নিন। এরপর তেলের মধ্যে কালিজিরা ও কাঁচামরিচ ভাজুন। হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও দুই কাপ পানি একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে এর মধ্যে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে গেলে এতে মাছের টুকরাগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এবারে এতে সরিষা বাটা দিয়ে দিন। অল্প আঁচে দুই থেকে তিন মিনিট রান্না করে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। কাঁচামরিচ দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন সুস্বাদু সরিষা-ইলিশ।

পনির পোলাও

উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম, পনির ২ কাপ, পেঁয়াজ ২টি, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ চা চামচ, গরম মসলার গুঁড়া আধা চা চামচ, কিশমিশ, বাদাম, পেস্তা কোয়াটার কাপ, ঘি ১৫০ গ্রাম, তেজপাতা ২টি, চিনি ১ চামচ।

প্রণালি : চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পনির কিউব করে কেটে কিশমিশ, পেস্তা বাদাম বাদামি করে ভাজতে হবে। হাঁড়িতে ঘি গরম করে পেঁয়াজ সোনালি রং করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ঘিয়ে তেজপাতা গোটাকয়েক লবঙ্গ দিয়ে চাল ভাজতে হবে। বেশ খানিকক্ষণ ভেজে গরম পানি দিতে হবে। চালের দেড় গুণ পানি দিয়ে ৭-৮ মিনিট ঢেকে দিন। সিদ্ধ হলে দমে দিয়ে কিশমিশ, বাদাম, পেস্তা, গরম মসলা দিয়ে নেড়ে ৪-৫ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে নিন।

খাসির কালিয়া

উপকরণ : খাসির মাংস আধা কেজি, গোলমরিচ বাটা আধা চা চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, দারুচিনি ২ সেমি., রসুন বাটা ১ চা চামচ, এলাচ ৩টি, পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, তেজপাতা ১টি, হলুদ বাটা ২ চা চামচ, লবণ ২ চা চামচ, মরিচ বাটা ২ চা চামচ, তেল ৩/৪ কাপ, জিরা বাটা ২ চা চামচ, কারিমসলা ১ চা চামচ, ধনে বাটা ২ চা চামচ, আলু আধা কেজি।

প্রণালি : মাংস টুকরা করে ধুয়ে নিন। অর্ধেক কারিমসলা ও আলু বাদে মাংসে অন্য সব উপকরণ দিয়ে খুব ভালো করে মাখান। মাংসে সমান সমান পানি দিন। ঢেকে চুলায় বসিয়ে দিন। পানি শুকিয়ে মাংস সিদ্ধ হলে আলু দিয়ে মাংস কষান। মৃদু আঁচে ১৫ মিনিট কষানোর পর হাঁড়িতে লেগে এলে এবং সুন্দর ভুনা গন্ধ বের হলে আলু ও মাংস ডুবিয়ে পানি দিন। ঢেকে আরও ১০ মিনিট ফুটান। আলু সিদ্ধ হলে বাকি কারিমসলা ছিটিয়ে দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে দমে ৫-৬ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন।

মুগডালের মুড়িঘণ্ট

উপকরণ : ইলিশ মাছের মাথা ১টা, মুগডাল ৩০০ গ্রাম, কুচানো পেঁয়াজ ১ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল

চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ, মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ছোট এলাচ ২টি, দারুচিনি ২টা, তেজপাতা ২ কাঁচা মরিচ ৫-৬টা, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ-স্বাদমতো।

প্রণালি : মুগডাল শুকনো কড়াইতে হালকা ভেজে নিয়ে কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখুন। অন্যদিকে, ইলিশ মাছের মুড়ো কেটে নিয়ে লবণ, হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন হালকা ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইয়ে ঘি ও তেল গরম করে গরম মসলা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা ভেজে নিয়ে আদাবাটা, রসুন বাটা ও গুঁড়ামসলা দিয়ে, লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এর মধ্যে হালকা ভাজা মাছের মুড়ো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ঝুর ঝুরে করে নিন। এবার মাছের মুড়ো তুলে নিয়ে জল ঝরানো ডাল দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিয়ে জল দিন। মাঝে মাঝে নাড়তে হবে। ডাল সিদ্ধ হলে মাছের মুড়ো দিয়ে রান্না করে নিন। শেষে কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা কুচি ও জিরা গুঁড়া ছড়িয়ে অল্প কিছুক্ষণ পর নামিয়ে নিন।

চালকুমড়ার চাক ভাজা

উপকরণ : চালকুমড়ার টুকরা ৪-৫টি, আদা বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা

চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, সয়াবিন তৈল আধা কাপ।

প্রণালি : চালকুমড়ার চাকা করে কেটে নিন। মসলার সব উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। কড়াইয়ে তেল দিন। তেল গরম হলে মাখানো চালকুমড়া মৃদুআঁচে ঢেকে দিয়ে ৫-৬ মিনিট রান্না করুন। ঢাকনা খুলে মাঝে মাঝে নেড়ে দিন। ২-৩ মিনিট ভাজুন। এবার পরিবেশন করুন মজাদার চালকুমড়ার চাক ভাজা।

টক মিষ্টি চাটনি

উপকরণ: কাঁচা আমড়া ১ কাপ, আনারস ১ কাপ, টমেটো ১ কাপ, আলুবোখরা ৭-৮টা, কিশমিশ ১০-১৫টা, শুকনো মরিচ ৩-৪টা, পাঁচফোড়ন, আধা চা চামচ, গোলমরিচ কোয়াটার চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ, ১ চা চামচ, চিনি ৩ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি : একটি পাত্রে সরিষার তেল গরম করে পাঁচফোড়ন দিন। কয়েক সেকেন্ড পরে শুকনো মরিচ ফোড়ন দিন। এবার কাঁচা আমড়া, আনারস, টমেটো ছোট ছোট টুকরা করে দিন। অল্প ভাজা ভাজা হয়ে এলে গোলমরিচ গুঁড়া, লবণ আর মরিচ গুঁড়া দিন। সামান্য পানি ছিটিয়ে চাপা দিয়ে দিন। আঁচ মাঝারি রাখুন। ধীরে ধীরে ফলগুলো নরম হয়ে আসবে। তারপর ভালো করে নেড়ে নিন। এবার আলুবোখরা, কিশমিশ ও চিনি দিন। আরও পাঁচ মিনিট ফুটতে দিন। ২ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে নিন।

দই পাবদা

উপকরণ : পাবদা মাছ ৪-৫টি, টকদই আধা কাপ, আদা বাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চামচ , তেজপাতা ১টি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মিহি করে কাটা ২ টেবিল চামচ, টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৭-৮টি, পানি ও তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি : মাছগুলো ভালো করে ধুয়ে লবণ ও হলুদ মেখে নিন। পাত্রে তেল গরম করে নিন। এরপর কুচি করা পেঁয়াজ দিয়ে হালকা ভেজে তাতে সব বাটা ও গুঁড়ামসলা, টক দই, তেজপাতা ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং পানি দিয়ে মসলা ভালো করে কষিয়ে নিন। তারপর মাছগুলো মসলায় ঢেলে তাতে সামান্য পানি ও কাঁচামরিচ দিয়ে রান্না করুন ১০ মিনিট। মাছ মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ঘন দুধের পায়েস

উপকরণ : দুধ ১ লিটার, চিনি ২৫০ গ্রাম, পোলাওয়ের চাল আধা কাপ, কিশমিশ ২ চা চামচ, এলাচ গুঁড়া ৩-৪টা, ঘনদুধ আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি : প্রথমে চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার হাঁড়িতে দুধ জ্বাল দিয়ে ফুটে উঠলে চাল দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে। এভাবে ৭-৮ মিনিট পর চাল সিদ্ধ হয়ে এলে চিনি দিয়ে আবার জ্বাল দিতে হবে। চিনি গলে দুধ ঘন হবে ক্ষীর, কিশমিশ ও এলাচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে অল্প আরও কিছুক্ষণ রেখে দিন। ঘি ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে ঠা-া করে পরিবেশন করুন ঘনদুধের মনোলোভা পায়েস।

বেগুনের চাক ভাজা

উপকরণ : গোল বেগুন ২টি, হলুদ গুঁড়া, ১ চামচ, লবণ স্বাদমতো, জিরা গুঁড়া ১ চামচ, তৈল ১ কাপ, চিনি ১ চামচ।

প্রণালি : প্রথমে বেগুনগুলো গোল করে চাক চাক করে কেটে ধুয়ে নিতে হবে। এবার বেগুনের টুকরো লবণ, হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও চিনি দিয়ে মেখে ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এখন কড়াইয়ে তেল গরম করে বেগুনগুলো এপিঠ ও ওপিঠ বাদামি করে ভেজে তুলুন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে