সচিব পর্যায়ের বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকাকে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা

  আমাদের সময় ডেস্ক

০৬ অক্টোবর ২০১৭, ০১:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক গতকাল সন্ধ্যায় ভারতে তার কাউন্টারপার্ট এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামা শুরুর পর দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হলো।

বাংলাদেশ চাচ্ছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় ভারত আরও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুক, কিন্তু ভারতের নিজস্ব নানা বাধ্যবাধকতার কারণে সে কাজটা মোটেও সহজ হচ্ছে না। বিবিসি বাংলা।
এদিনের বৈঠকের শেষে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ না-করলেও বিবিসি জানতে পারছে, বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত দুটোÑ প্রথমত, এ মাসের শেষদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর, আর দ্বিতীয়টি রোহিঙ্গা সংকট।
বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ কমিশনের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দিতে সুষমা স্বরাজের এ মাসের ২৩ তারিখ নাগাদ ঢাকায় আসার কথা। সেই সফরের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বা জমি তৈরি করতে দুই সচিব নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরেছেন।
তবে অবশ্যই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ছিল রোহিঙ্গা সংকট। এ সংকটের প্রথম পর্যায়ে ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশকে বেশ হতাশ করেছিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারে সফরে গিয়ে অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো কথাই বলেননি। কিন্তু এদিন দুই পররাষ্ট্র সচিবের মুখোমুখি বৈঠকে সেই অনাস্থা বা ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে রোহিঙ্গা সংকটে তারা ভারতের কাছ থেকে আরও সদর্থক ভূমিকা আশা করে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত যেন এ সংকট নিরসনের চেষ্টা করে। সে ব্যাপারে বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে মূলত তিনটি বিষয় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছে।
একÑ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীÑ দুজনের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক খুব ভালো। ফলে এক দেশের পক্ষ নিয়ে অন্য দেশের প্রতি ভারত কিছুতেই আক্রমণাত্মক হতে পারবে না।
দুইÑ এই সংকটের মানবিক দিকটা অ্যাড্রেস করতে ভারত তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তৃতীয়তÑ ভারত বাংলাদেশকে এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। কারণ এর জন্য চাই আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস।
এ কারণে বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে যারা রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছেÑ সেই চীন বা রাশিয়ার সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলতে, যেন তারাও মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাবটাকে কাজে লাগাতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে