রোহিঙ্গা নির্যাতনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মার্কিন আইনপ্রণেতারা

  আমাদের সময় ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বৈঠকে সংঘাতপূর্ণ রাখাইনে সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। শুনানিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের পরামর্শ দেন এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।
এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের পূর্বাভাস পেয়েও মিয়ানমারে জাতিসংঘ মিশন তা উপেক্ষা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই চলমান সংকট সমাধানের দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।
ক্ষুধার জন্য আহাজারি, পিপাসায় কাতর, আর নানা রোগে দিশাহারা রাখাইন থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া শরণার্থীরা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন দিন-রাত ত্রাণ সরবরাহে কাজ করলেও দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না রোহিঙ্গাদের। কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় সীমাহীন সংকটের মধ্যেই রাখাইনে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় বাংলাদেশমুখী শরণার্থীর ঢল বেড়েই চলেছে।
এ অবস্থায় রাখাইন সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেশটিতে সহযোগিতা বন্ধের মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক আইনপ্রণেতা। রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন দ্রুত তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান।
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস বলেন, মিয়ানমার সরকারকে সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবাধে চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কী কী করা হচ্ছে, তা সবার সামনে আসা দরকার। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের পূর্বাভাস পেলেও জাতিসংঘ তা গোপন করে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেশটিতে জাতিসংঘ মিশনে রাখাইনে সংঘাতের বিষয়ে আগে থেকেই অবহিত করা হলেও, তারা সচেতনভাবেই তা চেপে যায়। গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।
গত মে মাসে ইয়াঙ্গুনভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড হোর্সে একটি প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের পূর্বাভাস জাতিসংঘকে জানান; কিন্তু মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাতা লক দেসালিয়ানের অবহেলার কারণে সেটি কোনো গুরুত্ব পায়নি বলে সংস্থার এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।
এ অবস্থায় রাখাইন পরিস্থিতি উন্নয়নে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন অবদুল আজিজ। মস্কো সফরকালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত একটি সমাধান খুঁজে বের করারও পরামর্শ দেন তিনি।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে