ঢাবিতে প্রশ্নফাঁস

দুদিনেও হয়নি তদন্ত কমিটি

  বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

২২ অক্টোবর ২০১৭, ০২:১২ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দুদিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনা তদন্তে কোনো কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বরং প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বারবার অস্বীকার করে এসেছে। ফলে তারা ঘটনা তদন্তেও কোনো প্রদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ‘ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
অন্যদিকে ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউনিটটির সমন্বয়ক ও সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে যে, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের রাতেই প্রশ্নপত্র বা এর একাংশ ফাঁস হয়েছে। এ দাবি অসত্য ও বাস্তবসম্মত নয়। যে প্রক্রিয়াই প্রশ্ন প্রণয়ন ও মুদ্রণ হয় তা এতটাই গোপনীয়তার মধ্যে করা হয় যে, তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। এভাবে সংবাদ প্রকাশ করায় আমরা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়েছি এবং প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের কাছে রাতে বা পরীক্ষা চলাকালীন ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা বাঞ্ছনীয় ছিল।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা শেষে আমরা প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জানতে পেরেছি। একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে।
গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ই-মেইল ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে। পরে ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যে প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানকার ইংরেজি অংশটির সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে।
এ ছাড়া পরীক্ষার আগের দিন রাতে পিএসসি-জেএসসি-এসএসসি এক্সাম কোয়েশ্চন নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন আপলোড করা হয়েছিল। যেখানে বাংলা অংশের প্রশ্নগুলোর সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোরও হুবহু মিল রয়েছে। টাকার বিনিময়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। এ দাবিতে আজ রবিবার পৃথক পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়ন।
ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ বলেন, ফেডারেশন এই পরীক্ষা বাতিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চায়।

 

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে