২০০ রানের হার বাংলাদেশের

  এম.এম. মাসুক, ইস্ট লন্ডন থেকে

২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০০:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাফেলো পার্কে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ গড়িয়েছে। এ ম্যাচ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি কেউ! পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেডিয়ামে হাজির দর্শকরা। খেলা মাঠে না গড়াতেই ভারত মহাসাগরের পারের নয়নাভিরাম স্টেডিয়াম দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ। এক দল ব্যান্ড পার্টি নেচেগেয়ে দর্শকদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকে বারবিকিউ পার্টিতে মেতেছেন। বড়দের সঙ্গে শিশুরাও ব্যাট-বল হাতে উন্মুক্ত সবুজ ঘাসের গ্যালারিতে ক্রিকেটীয় বিনোদনে ব্যস্ত। কিটজ গ্যালারি যেন শিশুমেলা! সব মিলিয়ে ক্রিকেটই বড় উৎসবের উপলক্ষ এনে দিয়েছে তাদের! বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে উৎসবের রং ছড়ালেও ২২ গজে বাংলাদেশের হতাশার প্রতিচ্ছবি। টানা ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা বাংলাদেশ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও সামর্থ্যরে জানান দিতে পারেনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছে ২০০ রানের ব্যবধানে। ওয়ানডে ইতিহাসে আগে তিনবার ২০০ বা তার বেশি রানে হারের রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। এর আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২০৬ রানে হেরেছিল টাইগাররা। সবচেয়ে বেশি রানে হারের রেকর্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে (২৩৩ রানে), ২০০০ সালের জুনে ঢাকায়।
টেস্ট সিরিজের মতো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও (৩-০ ব্যবধানে) হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই প্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনো বিভাগেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি মাশরাফিরা। দলের সেরা দুই খেলোয়াড়কে তামিম-মোস্তাফিজকে ছাড়া তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলতে নেমে বিবর্ণ বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৫৬ বল হাতে রেখে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে, দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৪ রানে হারের পর আরেকটি বিশাল হারের লজ্জা! সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে সুনাম অর্জন করেছে, তাতে এই ফল মানানসই নয়। তিন ম্যাচের সিরিজের ব্যর্থতা বাংলাদেশকে বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ম্যাচশেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, প্রত্যেক ম্যাচেই প্রত্যাশিত লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। দুয়েকজন পারফরম করলেও দল হিসেবে ভালো খেলতে পারেননি তারা।
৩৭০ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৬১ রানের মধ্যেই নেই ৫ উইকেট। সাকিব-সাব্বির ৬৭ রানের জুটি গড়লেও বড় হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। মারক্রামের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৬৩ রানে আউট হন সাকিব। বলার মতো ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির। টপ অর্ডার ভেঙেছে তাসের ঘরের মতো। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল, সৌম্য ও লিটন মিলে মাত্র ২৫ রান তুলেছেন। বড় লক্ষ্য পেয়েই কী দল মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে? ম্যাচশেষে মাশরাফি জানান, এমন উইকেটে ২৮০ বা ৩০০ রানের ভেতরে লক্ষ্য রাখতে পারলে দলের জেতার সামর্থ্য ছিল। তারপরও ব্যাটিং অবশ্যই হতাশাজনক। আরও বড় রান করা দরকার ছিল অবশ্যই। দ্রুত ৩  উইকেট পড়ে যাওয়ায় দলের ওপর চাপ পড়ে যায়। শুরুতে বেশি উইকেটের পতন হলে খেলা কঠিন হয়ে যায়। জেতা তো অসম্ভব ছিল সেই সময়ে।
অধিনায়ক হিসেবে গতকাল ৫০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর আগে বাংলাদেশ দলকে ৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাবিবুল বাশার। ৫০টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন সাকিব আল হাসানও। অধিনায়কত্বের ৫০তম ম্যাচে টসভাগ্য সহায়ক হয়নি মাশরাফির। ব্যাটিংস্বর্গ উইকেটে আগে ফিল্ডিং করতে নেমে হতাশায় পুড়েছেন বোলাররা। ম্যাচটি রাঙাতে পারেননি মাশরাফি নিজেও। দলে ফিরে ৫৯ রানে ২ উইকেট নেন মিরাজ। ৬৬ রান দিয়ে ২ উইকেট পান তাসকিনও। ব্যাক-স্টেইনে টান পড়ায় ‘অবসরে’ যান ডু প্লেসিস (৯১)। এ ছাড়া ডি ককের ৭৩ ও মারক্রামের ৬৬ রানের সুবাদে প্রায় পৌনে চারশ রানের স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে