দুর্নীতির কারণ ও তার প্রতিকার

  প্রফেসর মো. আবু নসর

০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ন্যায়নীতি বিসর্জন দিয়ে নিয়মবহির্ভূত সব ধরনের কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা এবং জাগতিক লোভ ও ক্ষমতার বশবর্তী হয়ে বিত্তবাসনা চরিতার্থ করার জন্য অবৈধ পথে আয়-উপার্জন করাকে দুর্নীতি বলে। অসৎ উপায়ে টাকা-পয়সা কামানো যেমনÑ সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ফাঁকিবাজি, কালোবাজারিসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পদ আহরণই হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি বলতে আমরা বুঝি প্রাপ্ত বা অর্জিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করা। অন্য কথায় যাবতীয় অনিয়মই দুর্নীতি। দুর্নীতি ইংরেজি প্রতিশব্দ শব্দটি ল্যাটিন ক্রিয়া শব্দ থেকে এসেছে। শব্দটির অর্থ করা হয়েছে ঘুষ, ভেজাল, কৃত্রিম এবং নকল হিসেবে। উইকিপিডিয়া অনুসারে দর্শন, ধর্মশাস্ত্র অথবা নৈতিকতার আলোকে দুর্নীতি হলো আধ্যাত্মিক ও নৈতিক অবক্ষয় অথবা অর্থনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুতি। দুর্নীতি হচ্ছে অনার্জিত আয় যা প্রাপ্তিতে আইন ও বিধিস্বীকৃত রোজগারের পন্থা অনুসৃত হয়নি। সহজ কথায় অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার করা, দায়িত্বে অবহেলা করা, নিজ স্বার্থে নীতিভ্রষ্ট হয়ে কাজ করাই হলো দুর্নীতি। অন্যায়ের কাছে নীতির পরাজয়, অর্থের কাছে বিবেকের পরাজয়ই হলো দুর্নীতি। অন্য কথায় নীতির বিপরীত দুর্নীতি। নীতি হলো সত্যের নির্দেশ। আর সত্যের নির্দেশকে অমান্য করা বা তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন ও বিচ্ছেদ করাটাই দুর্নীতি।

দুর্নীতি ও সন্ত্রাস অপরাধমূলক মানব আচরণ যা জাতীয় বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনে। দুর্নীতি মানব অধিকার লঙ্ঘন ও হরণের অন্যতম শক্তিশালী অবলম্বন। প্রতিটি মানুষের ভেতর একটা হিংস্র পশু আছে, যেটা প্রতিনিয়ত আমাদের অন্যায় ও পাপ কাজে উৎসাহিত করে। সেই হিংস্র পশু বা পাপিষ্ঠ আত্মার ক্রিয়াকর্মই হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি তখনই হয়, যখন নিজের আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, যখন সত্যের ওপর মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, যখন পশুত্ব মনুষ্যত্বকে অতিক্রম করে, যখন প্রয়োজনের তুলনায় চাহিদা বেশি হয়, যখন ক্ষুধা ও লোভ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। অভাব নয়, অতিরিক্ত চাহিদা ও লোভের কারণেই দুর্নীতি হয়। দুর্নীতি বর্তমানে আমাদের দেশে একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির ভাষায়, মানুষের চাহিদা এবং অভাব হলো অপরিসীম। মানুষের অতিরিক্ত চাহিদাই সৎ জীবনযাপনের প্রধান অন্তরায়। অভাবই দুর্নীতির একমাত্র কারণ নয়, কেননা নৈতিকভাবে যারা আদর্শবান ও নির্লোভ তারা অভাব সত্ত্বেও সব সময় দুর্নীতি থেকে দূরে থাকে। বস্তুত দুর্নীতি মানুষের সহজাত কুপ্রবৃত্তিগুলোর অন্যতম। বিশ্বনবী হজরত মুহম্মদ (স.) বলেছেন, কোনো আদম সন্তান যদি স্বর্ণ-রতœরাজি পরিপূর্ণ একটি সম্পূর্ণ উপত্যকা কোনো সময় পেয়ে যায়, তাহলে সে দ্বিতীয় উপত্যকাটি চাইবে। মাটি ছাড়া কোনো কিছুই তার মুখ বন্ধ করবে না। মানুষ এক প্রকার প্রাণী যা জন্মগ্রহণ করে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে। সবকিছুই তার চাই। একটা পূরণ হলে আর একটা চাই। এভাবেই চলে মানুষের চাহিদা, ক্ষুধা ও লোভের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি। প্রত্যেকে যেহেতু বিত্তবাসনার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, তাই অনিবার্য হয়ে ওঠে দুর্নীতি। ফ্রাঙ্কবুকম্যান বলেছেন, ‘পৃথিবীতে সবার প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে কিন্তু সবার লোভ মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।’ প্রয়োজন অপেক্ষা অতিরিক্ত জাগতিক উচ্চাভিলাষ ও লোভ-লালসা দুর্নীতির কারণ। দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ নৈতিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার অভাব। দুর্নীতির অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, সর্বোপরি সরকার পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের সঠিক, কার্যকরী ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের অভাব। দুর্নীতিবাজরা সমাজের ও দেশের বিত্তশালী রাক্ষস। অর্থসম্পদের ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত লোভ এবং মোহ মানুষকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয়। মানুষের সম্পদের প্রতি মোহ প্রকৃতিগত। সম্পদের প্রতি মোহ এমন যে, এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। দুর্নীতি আকাশ ছুঁয়েছে, আর সন্ত্রাস আমাদের নামিয়েছে অতল গহিনে। দুর্নীতি মানুষকে আত্মমর্যাদাহীন করে তুলেছে।

নৈতিক অধঃপতন ও নৈতিক সংকটের আবর্তে ক্লিষ্ট ভাগ্যহত মানুষ আমরা। আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিদারুণভাবে আহত। ঘুষ, দুর্নীতি, সম্পদ পাচার, লুটপাট যদি আমাদের দেশে অর্ধেকও হয়, তা হলে বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল দুর্নীতিই দেশের জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ খেয়ে ফেলেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন করতে পারলে জিডিপির বর্তমান হার আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে, যা ২০১৪ সালে ১৪তম স্থানে ছিল। দুর্নীতি দারিদ্র্য ও সব ধরনের অনিয়ম, অবিচার বাড়ায় ও উন্নয়নকে ব্যাহত করে। দুর্নীতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। দুর্নীতি অথনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য বাড়ায়। বাংলাদেশের দুর্নীতির ক্ষতির বোঝা মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বিত্তশালী জনগোষ্ঠীর তুলনায় নিম্ন আয়ের জনগণকেই বেশি বইতে হয়। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ দুর্নীতি। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে যদি নৈতিক মূল্যবোধ ও নীতিবোধ সদাজাগ্রত থাকত তা হলে ৪৭ বছরের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। যারা দুর্নীতি করে তাদের অর্থের জোর থাকলেও মনের জোর থাকে না। দুর্নীতিবাজরা কখনই জনগণের চেয়ে শক্তিশালী নয়।

দেশে দুর্নীতি এখন বড় সমস্যা। দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। যে দেশ যত বেশি দুর্নীতিমুক্ত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। দুর্নীতি হয় আড়ালে, অন্ধকারে। এর বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে প্রকাশ্যে। লোভ ও সুযোগ এই দুইয়ের সমন্বয় হলেই মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। দুর্নীতিগ্রস্তরা জীবনযুদ্ধে প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে পরাজিত। দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়নের প্যাকেজ ভাঙতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত, দায়িত্বহীন ও নৈতিকতাহীন মানুষ যে কোনো শক্তির কাছে পরাজিত, পরাভূত ও পর্যুদস্ত এবং আশাহীন ও দিশাহীন। তাই মানুষের নৈতিক সংস্কার দরকার। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে আমাদের চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে। যে দিন আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সুশিক্ষা ও নৈতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে সৎ ও সুন্দরভাবে গঠন করার দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত করব, সেদিন আমাদের দেশ ও সমাজ থেকে দুর্নীতি চিরতরে বিদায় নেবে, এর আগে নয়। নিজের কাছে সৎ, নির্লোভ, নির্মোহ ও বিশ্বস্ত থাকলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে। ভালো ভালো মেধাবী ও সার্টিফিকেটধারীরা অনেকেই আজ দুর্নীতির দায়ে জেলে আছেন ও শাস্তি ভোগ করছেন। এ জন্য সবাইকে সৎ এবং নির্লোভ হতে হবে। ভোগবিলাসের জীবনযাত্রা এবং স্বার্থপরতা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত অবস্থায় সাধারণ হয়ে কীভাবে অসাধারণ হওয়া যায় তার প্রমাণ রেখে যেতে হবে। যার আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে এবং যিনি নির্লোভ তিনি কখনো দুর্নীতি করতে পারেন না। সঠিক পন্থা এবং সৎ পথ ধরে এগোলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পাওয়া যাবে। সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুর্নীতিকে ও দুর্নীতিবাজদের সর্বতোভাবে বয়কট করতে হবে।

মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণ দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা, সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ, সামাজিক আন্দোলন ও দুর্নীতিবিরোধী সভা-সমাবেশ প্রয়োজন। দুর্নীতি দমনে মনমানসিকতার পরিবর্তন ও সদিচ্ছাই যথেষ্ট। দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা কারিকুলামে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টিকারী শিক্ষা সংযোজন বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। সর্বক্ষেত্রে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিকারী শিক্ষাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। কারণ নৈতিকতা অর্জন ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল করা কখনো সম্ভব নয়। মানুষকে মহৎ হতে হবে। কেননা মহৎ মানুষের জীবন ও আদর্শই সাফল্যের বাতিঘর। শৈশব থেকে শিশুদের মনে দুর্নীতির কুফল এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজের সুফলের ধারণা দিতে পরিবার ও বিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমিয়ে আনতে কর্তাব্যক্তির সদিচ্ছাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে রূপ দিতে সারা দেশে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বার্ষিক সমাবেশ করা, ইউনিয়ন কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর করা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা প্রয়োজন। দেশের অথনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সমাজ পরিবর্তনের স্বার্থেই দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। দুর্নীতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তখনই সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে যখন বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে। দুর্নীতি রোধ করার প্রধান হাতিয়ার হলো সুস্থ ও সৎ মনমানসিকতা ও অনুপম চরিত্র গঠন। এ জন্য দক্ষতা ও মানবিকতার বিকাশ, নৈতিক ও নিষ্ঠার অনুশীলন, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা প্রয়োজন। দুর্নীতি বন্ধে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের কর্মকা-কে তদারকির আওতায় এনে দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সরকারের কঠোর পদক্ষেপই অধিক যুক্তিযুক্ত পন্থা।

দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে স্বচ্ছ থাকতে হবে এবং সরকারের জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দুদকের কাজের মান বাড়াতে কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং দুর্নীতি অনুসন্ধান বাড়াতে গোয়েন্দা সেল গঠন করেছে যা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয়। এতে দুদকের কর্মক্ষমতা ও দুর্নীতি দমনের সাফল্য আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, দুর্নীতিকে ন্যূনতম প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান। দুর্নীতি দমন করা সত্যিই চ্যালেঞ্জ। তথাপিও দুদক দুর্নীতি দমনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। দুদকের দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক বেশি। দুর্নীতি দমনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বর্তমানে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা বিদ্যমান। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মানুষের জীবন একটাই। এ জীবনে রয়েছে সৃজনশীলতা, কল্যাণ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। এই সৌন্দর্যের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়েই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়। আত্মশুদ্ধি ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। চরিত্রহীন, লোভী ও স্বার্থপর মানুষই বিভিন্নভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রাণের পরশ জাগায়। বুকে অন্ধকার পুষে রেখে অর্থাৎ দুর্নীতিগ্রস্ত অবস্থায় চোখে আলো দেখা যায় না। প্রতিশ্রুতি নয়, সর্বত্র জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে চরিত্রবান ও নির্লোভ মানুষের সংখ্যা বেশি, সে সমাজ ও রাষ্ট্র সুখ ও সমৃদ্ধিতে তত উন্নত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবারভিত্তিক প্রতিবাদ জোরালো করলে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটিত হতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নিজের ভালো এবং অপরের কল্যাণ কামনায় সাধ্যমতো চেষ্টা করা হলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব। জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। এ জন্য গ্রামে গ্রামে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও চেতনাবোধ জাগাতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালনায় ও স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীদের সততা, নৈতিকতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে সততা সংঘের আয়োজনে বিক্রেতাবিহীন ‘সততা স্টোর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও দমনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজের ধারা অব্যাহত রাখছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের আরও যথার্থ ক্ষমতায়নপূর্বক দায়িত্বশীল পত্রপত্রিকা ও রেডিও-টিভিসহ স্বাধীন গণমাধ্যমও একটা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার দেশে নৈতিকতার মানদ- তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের নিমিত্তে সরকারের যে কোনো আইনি পদক্ষেপই অভিনন্দনযোগ্য এবং বর্তমানে দুদকের সার্বিক কর্মকা- প্রশংসনীয়। দেশে দুর্নীতি দমনের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে, যাতে এটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। উল্লেখ্য, দুদকে পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফোর্স ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত টিমের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে এই ইউনিটের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিশেষে আমাদের সেøাগান হোকÑ ‘সবুজ শ্যামল বাংলা ছেড়ে দুর্নীতি যাবে জাদুঘরে জাগো মানুষ জাগো দুর্নীতি প্রতিরোধে জাগো।’

য় প্রফেসর মো. আবু নসর : কলাম লেখক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে