১১ দেশেই সীমাবদ্ধ জনশক্তি রপ্তানি

  মো. মাহফুজুর রহমান

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১২:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাচ্ছে তাদের পাঠানো অর্থ। প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে ১৬২টি দেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন, সরকার এমন দাবি করলেও প্রচলিত ১১ শ্রমবাজারেই জনশক্তি রপ্তানি সীমাবদ্ধ। আর এই দেশগুলো হলোÑ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া। এর বাইরে অন্য দেশে কেউ থাকলেও তা বিচ্ছিন্ন বলে দাবি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সমৃদ্ধশালী দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে আপাতত উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ব্রাজিল, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা কাজে লাগানো হবে। তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজার আরব আমিরাতে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও গত মাসের শেষ দিন পর্যন্ত মাত্র ৪০৯ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। অথচ আগে থেকেই দেশটিতে প্রায় ২৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেনÑ মালয়েশিয়া, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় নানামুখী প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, ইতিপূর্বে কতিপয় জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সরকারকে সহযোগিতা না করে নানা সময়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এতে সংকট বেড়েছে। কথিত ওইসব ব্যবসায়ীদের অনিয়মের কারণেই অনেক বাজার বন্ধ হয়ে যায়। অধিক মুনাফার লোভে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশে পাঠানো হায় চাহিদার অতিরিক্ত কর্মী। এমনকি এই খাত সংশ্লিষ্ট নেতারাই ছয় থেকে আট লাখ টাকায় সৌদিতে কর্মী পাঠিয়েছেন, যা প্রমাণিত। আর এমন প্রতারণা এক সময় ছিল নৈমিত্তিক ব্যাপার। তাদের এসব অনিয়মের কারণেই অনেকে বিদেশ গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কাজ না পেয়ে জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে।

জানা গেছে, সেই মুনাফালোভীদের কর্মকা- গোয়েন্দা সংস্থা পর্যালোচনা করছে। শিগগির তা দাখিল করা হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। সরকার এর পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি অপতৎপরতা বন্ধে কম খরচে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বিদেশে লোক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সরকার নয়, একযোগে কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরও।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি বেনজির আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত। আমরা এ ব্যাপারে সরকারকেও সহযোগিতা করতে চাই। ইতোমধ্যে বায়রার পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক শ্রমবাজার নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানও করা হয়েছে। দেখা গেছে, উন্নত বেশ কিছু দেশে কেয়ার গিভার, নার্সসহ দক্ষ জনশক্তির বেশ চাহিদা রয়েছে। তাদের চাহিদা পূরণে আমরা কাজ করছি। তবে এ জন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে জানুয়ারি মেয়াদে চার লাখ ৬০ হাজার ৯৫৪ কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছে। ৮৩টি দেশে তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে। গত সাত মাসে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৮৪ বাংলাদেশি দেশটিতে যেতে পেরেছেন। এই তালিকায় দুই নম্বরে সালতানাত অব ওমান। গত সাত মাসে দেশটিতে ৯৬ হাজার ১৫ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। যদিও এত দিন দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল আরব আমিরাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাতার কর্মী নিয়েছে ৬১ হাজার ৭৫৪ জন। চতুর্থ স্থানে থাকা বাহরাইনে ৫০ হাজার আটজন এবং পঞ্চম স্থানের কুয়েতে গেছে ৩৩ হাজার সাতজন বাংলাদেশি কর্মী।

এ ছাড়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে গেল সাত মাসে সিঙ্গাপুরে ২৭ হাজার ৬৬৬, মালয়েশিয়ায় ১৫ হাজার ৪৩৪, মালদ্বীপে ১১ হাজার ৭৬৬, জর্ডানে ১১ হাজার ৯০৪, লেবাননে ৮ হাজার ২৩৩, ব্রুনাইয়ে ৩ হাজার ৮৩৩, মরিশাসে দুই হাজার ৪৪০ এবং ইরাকে এক হাজার ৮৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান সাকিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে আমাদের সময়কে বলেন, সরকার চেষ্টা করলেও প্রচলিত ১১টা দেশের মধ্যেই বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি সীমাবদ্ধ। কিন্তু এসব বাজারে এক সময় কোটাজনিত কারণে বিদেশিকর্মী নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে। তাই আমাদের পরামর্শ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোতে নতুন বাজার সৃষ্টি করা।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে