ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে

ভারত-বাংলাদেশের সম্প্রীতি

অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির

২০ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে স্বর্ণযুগের সম্পর্ক বিরাজ করছে। সম্পর্কের এ নৈকট্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আভাস যেন। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ হাত বাড়িয়ে দিয়েছেÑ বাজার অর্থনীতির যুগে নিকটতম প্রতিবেশীর সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক যে কোনো দেশ বা জাতির আত্মবিকাশের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। গভীরতর সম্পর্ক সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার এই উপলব্ধি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও বোঝাপড়া এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক দুই দেশের পক্ষেই শুভ।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরকে ব্যবহারের সুবিধার্থে কনসোর্টিয়াম গঠন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহমান নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জয়েন্ট বেসিন ম্যানেজমেন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। আর্থনীতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন বাঁধন জোরদার করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে বড় দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে, এ তথ্য এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়। গত শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘোষণা যৌথভাবে প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যৌথ ঘোষণায় শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ভাষা দিয়ে গাথা তা আরও দৃঢ়তার দিকে যাবে। দুই দেশই অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দিয়ে পরিচালিত। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে আরও অসংখ্য মিল। দুই প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে অটুট। এ সম্পর্ক অংশীদারিত্বের। সবদিক এতে বিদ্যমান, আর তা সার্বভৌমত্ব, সমতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার ভিত্তিতে গঠিত। আর এই অংশীদারিত্ব যে কোনো কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেয়েও বড় কিছু। এই অঞ্চলে শান্তি, সবার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই নেতা তাদের পুরনো অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ঘোষণার ৬২টি অনুচ্ছেদে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয়ের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। চিন্তার মধ্যে আসে এমন সব বিষয়ই এই যৌথ ঘোষণায় রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশ তাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার পথে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

তবে বাংলাদেশ-ভারতের এই সুসম্পর্ক আজকের সৃষ্টি নয়। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্রতিবেশী বৃহৎ এ দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের সাড়ে সাত কোটি মুক্তিকামী মানুষের ওপর। তারা জোর করে এ জাতির ওপর একটা অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। বাংলাদেশের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর নজিরবিহীন হামলা ও গণহত্যার শিকার অসহায় মানুষ ২৬ মার্চ থেকেই সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটে গিয়েছিল প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ভারতের সরকার ও জনগণ সেই চরম দুঃসময়ে বাংলাদেশের কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। আশ্রয় দেওয়া এই জনসংখ্যা ইউরোপের বহু দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।

এর পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা ভারতের মাটিতে বসেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বাস্তবতা তুলে ধরেন। এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য শীর্ষ পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে, প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে সাহায্য করেছে। সবশেষে ৩ ডিসেম্বর ভারতের ওপর পাকিস্তানি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সংক্ষিপ্ততম সময়ে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ ও ভারতের নেতৃত্বে যদি বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী না থাকতেন, আওয়ামী লীগ ও কংগ্রেসের ভেতর যদি আদর্শগত মিল না থাকতÑ এ দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক এত গভীর হতো না। বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারত দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে দুই দেশ ২৫ বছর মেয়াদি মৈত্রীচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভারতের সশস্ত্রবাহিনী শুধু যুদ্ধ জয়ে সহযোগিতা করেনি, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্নির্মাণেও সহযোগিতা করেছে, ভারত থেকে প্রত্যাগত শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করেছেÑ যা কূটনীতির ইতিহাসে বিরল।

বঙ্গবন্ধুর সময়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়েছে ৫৪টি অভিন্ন নদীর জলবণ্টনের সমস্যা নিরসনের জন্য। ১৯৪৭ সাল থেকে বিরাজমান ছিটমহল সমস্যা সমাধানের জন্য ঐতিহাসিক ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সম্প্রতি তা বাস্তবায়নও হয়েছে। দুটি প্রতিবেশী দেশের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন যে কোনো সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়Ñ দক্ষিণ এশিয়ায় এই কূটনীতির সূচনা করেছেন বঙ্গবন্ধু। শুধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়, বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক সাফল্যের একটি প্রমাণ হচ্ছে, স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের ভেতর শতাধিক দেশের স্বীকৃতি অর্জন, যা বিশ্বের কম দেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাপারটি উঠে এসেছে শেখ হাসিনার সরল স্বীকারোক্তিতেও। শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক লেখায় তুলে ধরেছেন ভারতের অবদানের কথা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমরা ভারতের বন্ধুপ্রতিম মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভের ক্ষেত্রেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জন, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং তার প্রিয় জনগণের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধি মূল ভূমিকা রেখেছিলেন। আমরা আমাদের কঠিন সময়ে তার পাশাপাশি ভারতের সব জনগণকে পাশে পেয়েছি। এর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুনিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতির পিতাকে। আমি আমার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হারিয়েছি, যেখানে আমার মা, তিন ভাই ও ভাবি ছিলেন। আমি এবং আমার ছোট বোন রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। এ দুঃসময়ে ভারত আমাদের পাশে ছিল। আমি দীর্ঘ ছয়টি বছর দেশের মাটিতে পা রাখতে পারিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার অনুপস্থিতিতেই আমাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচন করে। আমি জনগণের সমর্থন নিয়ে এর পর দেশে ফিরি।’

সর্বশেষ শেখ হাসিনা গত ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যান। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে ২২টি চুক্তি ও ১৪টি সমঝোতা স্মারক হয়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক পাঁচটি, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা সম্পর্কিত চারটি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্যাটেলাইট ব্যবহারবিষয়ক তিনটি চুক্তি রয়েছে। এর বাইরে বাণিজ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই স্বাক্ষর দুদেশের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পরমাণু চুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক দৃঢ় আস্থা প্রকাশিত হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফর এবং দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তুলেছে।

প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তার রূপরেখার মধ্য দিয়ে দুই দেশের আস্থার সম্পর্কের দৃঢ় প্রতিফলন ঘটেছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি আগেই হয়েছে। ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগে থেকেই ছিল। দুদেশের মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ বিনিময়, দুর্যোগ মোকাবিলা সহায়তাসহ অনেক বিষয়েই সহযোগিতা ছিল। কিন্তু এবারের চুক্তির মধ্য দিয়ে আসলে দুদেশের এই সহযোগিতার বিষয়গুলোকে একটি রূপরেখা বা কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক করা হয়েছে। ফলে দুদেশই উপকৃত হবে। প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ভারত থেকে অস্ত্র কিনলেও তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে। কারণ অন্য দেশের তুলনায় কম টাকায় তা পাওয়া যাবে। চীন থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি হলে ভারতের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। রাশিয়ার সহায়তায় বাংলাদেশ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র করছে। কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশে যথেষ্ট দক্ষ বিশেষজ্ঞ জনবল না থাকায় ভারতের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হওয়ায় বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অন্য বিষয়ে যেসব চুক্তি হয়েছে, তাও বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং এতে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এ সফরে ভারত সর্বোচ্চ সৌহার্দ্য এবং শিষ্টাচার দেখিয়েছে। সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলেছে, এগুলো ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিশ্চয়ই দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা এবং সমঝোতা অবশ্যই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য যেসব চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, সেগুলোও খুবই ইতিবাচক। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছিল, এ সফরে তাও দূর হয়েছে বলে আশা করা যায়। দুই দেশের বর্তমান সরকারের আমলেই তিস্তাচুক্তি হবেÑ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ বক্তব্যকে তিস্তাচুক্তির বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তিস্তা বিষয়ে মমতাকে পাশে রেখেই নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, দুদেশের বর্তমান সরকারের আমলেই এ চুক্তি হবে। তাই বলা যায়, তিস্তার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বড় অগ্রগতি হয়েছে।

বিলম্বে হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের সম্মাননা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে স্নায়ুগত অস্থিরতার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি, এ সফরের মাধ্যমে। সার্বিক দিক থেকে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাসহ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্বই বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার।

য় ড. শরীফ এনামুল কবির : সদস্য, সরকারি কর্মকমিশন, সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে