মোবাইল অ্যাপসে লেনদেন বাড়ছে জনপ্রিয়তা

  আবু আলী

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল অ্যাপস। গত এক বছরে দেশের পুঁজিবাজারে মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭ গুণ। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হচ্ছে সাতশ কোটি টাকারও বেশি।

জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য স্টক একচেঞ্জের মতো দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রযুক্তি উন্নয়ন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ মার্চ মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন চালু করে ডিএসই। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও এক বছরের মধ্যে বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার ৪ মাসের (জুন) মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। অক্টোবরে তা দ্বিগুণ হয়। ডিসেম্বরে মোবাইলে লেনদেনে গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় হাজার। চলতি বছরের শুরুর দিকে এটি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ফলে ২০১৭-এর প্রথম চার মাসে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাত হাজার।

ডিএসই সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুন মাস শেষে মোবাইলে শেয়ার লেনদেনকারীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ডিএসইতে মোবাইলে শেয়ার লেনদেনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫১০ জনে।

জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের ফলে বিনিয়োগকারীরা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। এর মাধ্যমে যে কোনো আর্থিক তথ্য দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া দ্রুত ম্যানেজমেন্ট নোটিফিকেশন প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা পত্রকোষ সম্পাদন এবং যে কোনো জায়গা থেকে লেনদেনে অংশগ্রহণ করে তা সম্পন্ন করতে পারছেন।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপসটি ব্যবহার করে তারা বেশ উপকার পাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে তাদের ব্রোকারেজ হাউসে আসতে হচ্ছে না। রাস্তায় যানজটে পড়তে হচ্ছে না। মোবাইল অ্যাপসটি চালু হওয়ার আগে পোর্টফোলিও দেখার জন্য বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউসে আসতে হতো। এখন যারা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছেন তারা যে কোনো জায়গা থেকেই নিজেদের পোর্টফোলিও দেখতে পারেন।

জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপে লেনদেন করা ছাড়াও ডিএসই মোবাইল কর্নারে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ডিএসই- মোবাইল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এটি সম্পর্কে অন্য সব তথ্য জানতে পারেন।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ আমাদের সময়কে বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই আমরা মোবাইল অ্যাপ চালু করেছি। তবে প্রচারণা বাড়ালে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে ২০১০ সালে দেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৮টি ব্যাংক এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মুঠোফোন হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৩৬ লাখ। আর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৯ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে দেশে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ লাখ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবাবঞ্চিত দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে এখন ৮৫ শতাংশ মানুষ আর্থিক লেনদেন করতে পারছে। একই দেশের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি অন্য দেশে অর্থ পাঠাতেও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মোবাইল ব্যাংকিং।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে