সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে না

  আসাদুর রহমান

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০২ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাত বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ‘কর্মপরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণমূলক ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইসি। তবে ইসির এ পরিকল্পনায় নতুন কিছু নেই উল্লেখ করে বিশিষ্টজনরা বলেন, এটি রুটিন ওয়ার্ক। নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতে ইসিকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তারা। তা না হলে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক আমাদের সময়কে বলেন, এটা ইসির রুটিন ওয়ার্ক। এর মধ্যে নতুনত্ব নেই। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নরমাল কাজ। তবে তফসিলের পরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কাজ করার কথা যেটা বলা হচ্ছে, তা ঠিক বলেনি। এটা এখনই করতে হবে। নয় তো সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব। তিনি বলেন, এখনই যদি তারা সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেন তা হলে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকট হতে থাকবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে না। তাই এখন থেকেই তাদের সবার সুযোগ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইসি যে কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। এখানে আইন সংস্কার করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কী কী সমস্যা আছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। আগে সমস্যা চিহ্নিত করে তার সংশোধন কিংবা সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, তাদের (ইসি) এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কাজ করতে হবে। তারা যদি সেটি না পারে তা হলে সবার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। ইসির এ কর্মপরিকল্পনার বিরোধিতা করছে বিএনপিও। ইসিকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোডই যখন নেই, তখন ম্যাপে কী হবে? নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। অন্যথায় নির্বাচনী রোডম্যাপ সার্থক হবে না। সব ব্যর্থতার দায় আপনাদের নিতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হয়েছে। তার পর আমরা বলেছি, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে সমর্থন পাবেন। ইসি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, খুব ভালো কথা। কিন্তু নির্বাচন করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে একই রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে। সেই রাস্তা কোথায়?

এ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। গতকাল তিনি আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা যে কিছু করছি সেটার সমালোচনা না করলে মনে হবে আমরা বিপন্ন হয়ে গেছি। আমি সব সমালোচনাকেই স্বাগত জানাই। কারণ সমালোচনা হলো সাহায্যকারী। কোনো ভুল থাকলে শোধরানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা একটি সাংবিধানিক বডি। আমাদের সংবিধান, আইনের আলোকে চলতে হয়। তারা অনেক দাবি করতেই পারে। সেটাকে আমি দোষ হিসেবে দেখছি না। তারা তো চাইতেই পারে। সংবিধানের আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেব। সংবিধান পরিবর্তন হয়ে এলে সেই পরিবর্তিত সংবিধান অনুসারেই পদক্ষেপ নেব।

বেসরকারি সংস্থা জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ইসি যে কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, সেটা সময়োপযোগী। সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে এই কর্মপরিকল্পনা কার্যকর ও সহায়ক বলে মনে করেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উপাচার্য বলেন, ইসি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। তারা একভাবে বিবেচনা করছে। চাইলেই ইসি সব কিছু করতে পারে না। ইসি এ বিষয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৭টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে আগামী দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির অধীনে প্রশাসনিকসহ সব ধরনের কাজের তদারকি শুরু হবে।

এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী আমরা কাজ করব। এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে ও রাজনৈতিক কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো আমাদের এখতিয়ারে নয়। সরকারের কর্মকা-ে এখনই কমিশন হস্তক্ষেপ করবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে