তিন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের তিন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। সংঘর্ষের সময় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মাথায় গুলি করে খালেদ আহমদ লিটু (২৩) নামের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়। রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে দুগ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। এ ছাড়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির সদস্যরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের পল্লব গ্রুপ ও পাভেল গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কলেজের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিয়ানীবাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধনে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ান। গতকাল দুপুরে ছাত্রলীগের পল্লব ও পাভেল গ্রুপে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একটি গ্রুপ শ্রেণিকক্ষে ঢুকে লিটুকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। লিটু ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী জানান, খালেদ আহমদ লিটু ছাত্রলীগের কর্মী। কিছু বহিরাগত তাকে কলেজে ঢুকে হত্যা করেছে।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর নিহত লিটুসহ ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ওই কক্ষে বসে ছিল। হঠাৎ কক্ষে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লিটুর লাশ উদ্ধার করে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সকালে কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে লিটুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার লাশ বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মাথায় গুলি লাগায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। গতকাল দুপুরে দলীয় টেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের মধ্যে বকতিয়ার, ফাহিম, দিপু ও আকাশের নাম জানা গেছে। অপরজনের নাম জানা যায়নি। পরে আকাশসহ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক বাইতুল হোসেন তরুর সমর্থকরা পাশাপাশি বসে ছিলেন। এ সময় দুই গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। এর পর একপর্যায়ে উভয় গ্রুপ বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হন।

কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির বলেন, টেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আসন বরাদ্দ এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের অন্যতম সদস্য, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের আসন বরাদ্দ নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ সাদেকী শান্ত, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে সহ-সভাপতি আরাফাত হোসেন-মতিন গ্রুপের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরই জেরে সোমবার ভোরে আরাফাত গ্রুপের লোকজন শান্ত গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করে। এ নিয়ে সকালে দুই গ্রুপে ক্যাম্পাস চত্বরে পাল্টপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের দুটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পাবনা-ঢাকা মড়াসড়কে এসে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় রাস্তার দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে