যুক্তরাজ্যের হালনাগাদ তথ্য

বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশে দুটি বাধা

  হেফাজুল করিম রকিব, লন্ডন

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশে দুটি বাধা আছে। ধর্মীয় উগ্রবাদী ও ক্ষমতাসীনরা এ দুটির উৎস। উগ্রবাদীদের কাছ থেকে কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের বা মৃত্যুর ভয়ে থাকলে তার সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সরকারের বিরাগভাজন হলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুরক্ষা পাওয়া যায় না। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ কথা বলা হয়।

ব্রিটেনের হোম অফিস বাংলাদেশ বিষয়ে ২০১৭ সালের জুলাইয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক প্রাণনাশের ভয়ে ব্রিটেনে আশ্রয়ের আবেদন করলে কীভাবে বিবেচনা করা হবে, তার দিকনির্দেশনা হিসেবে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট : জার্নালিস্ট, পাবলিশার্স অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্লগার্স’ শীর্ষক নির্দেশনায় বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও অনলাইনে ভিন্নমত প্রকাশের ঝুঁকিগুলোর বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু স্বাধীন মতপ্রকাশের ঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো নির্দেশিকা, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, ব্লগারদের আশ্রয় আবেদন বিবেচনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি আছে। তার পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইনের ধারার অপব্যবহার করে সরকারের পক্ষে হুমকি, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ নেয়। এমনকি নজরদারিতেও রাখা হয়, পাশাপাশি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও আনা হয়। অনেক সময় বাধ্য করা হয় সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকরা যেন নিজ থেকেই সরকারের সমালোচনার পথ এড়িয়ে চলে (সেলফ সেন্সরশিপ)।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন করে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি বাধা, আইনের অপব্যাখ্যা করে হয়রানি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে হুমকি ও সাংবাদিকদের নিপীড়নের অস্তিত্বের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয় ৩২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে।

সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে কোনো কোনো সংবাদপত্রের কর্মীদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া প্রসঙ্গ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মতপ্রকাশের কারণে ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ৯ জন ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে নিহত হন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে