অপ্রচলিত খাতে বাড়ছে রপ্তানি

  রুমানা রাখি

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৬-১৭ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে মোট আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৭০০ কোটি মার্কিন ডলার আর আয় হয়েছে ৩৪৮৩ কোটি ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১৭ কোটি ডলার কম। গত বছর মোট ৬১টি পণ্যের মধ্যে ৩৮টি পণ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। যে কয়টিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, সে সবের অধিকাংশই অপ্রচলিত পণ্য। কিন্তু প্রচলিত রপ্তানিযোগ্য বা ঐতিহ্যবাহী খাতে রপ্তানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত বা ঐতিহ্যবাহী খাতগুলোতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়লেও সেই তুলনায় খাতগুলো বিস্তৃত হচ্ছে না। একই সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ তৈরি হয়েছে, যে কারণে রপ্তানি কমছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক মন্দা, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রদবদল এবং নানাবিধ অস্থিতিশীলতার কারণেও অনেক প্রচলিত পণ্যের রপ্তানি কমছে।

তারা আরও বলেন, প্রচলিত খাতগুলোতে রপ্তানি কমলেও নতুন অনেক খাত তৈরি হয়েছে; নতুন নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে, পণ্য রপ্তানি বাড়ছে এবং অবদান রাখছে দেশের রপ্তানি আয়ে। নতুন করে রপ্তানি হচ্ছে এমন পণ্যের প্রতি মনযোগ দিতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেওয়া তথ্যমতে, রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে পোশাক খাত। সেই পোশাক খাতেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কমেছে ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। একইভাবে হিমায়িত খাদ্যে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পাটজাতীয় পণ্যের রপ্তানি কমেছে দশমিক ১৬ শতাংশ।

কিন্তু ইপিবির হিসাবে, রপ্তানি আয়ে এখন নতুন করে অনেক পণ্য যোগ হচ্ছে। যেসব পণ্য রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে চলতি বছর মশলা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি। একইভাবে শুকনো খাবারে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যমতে, সিমেন্ট, অপরিশোধিত লবণ ও পাথরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ৪৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া হস্তশিল্প খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ডলার; রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। পশম ও পশমি পণ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ডলার; রপ্তানি হয়েছে ৩ লাখ ডলার। পরচুলা ও মানুষের চুলের ক্ষেত্রে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। একইভাবে কাচ ও কাচজাতীয় পণ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ লাখ ডলার; রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ডলার। এখানে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। ইস্পাত খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার; রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। তামার তারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার; রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ৪৪ লাখ ৩৬ ডলার।

এ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এতদিন হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ও পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল আমাদের রপ্তানি বাজার। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। নতুন নতুন বাজারে আমাদের পণ্য যাচ্ছে। রপ্তানি তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন পণ্য। যার ফলে প্রধান কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি কমার পরও রপ্তানি আয় খুব একটা পিছিয়ে নেই। তাই এখন এসব খাতগুলোর দিকে মনযোগ দিতে হবে। যাতে এরারও সামনে রপ্তানি আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে