১৭ জেলায় বন্যার থাবা

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত চার দিনের টানা বর্ষণ আর ভারতের বিভিন্ন নদী দিয়ে নেমে আসা নদীতে পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ১৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল নামা অব্যাহত থাকায় যমুনা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হচ্ছে সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দ্বিতীয় দফা বন্যায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এসব জেলার মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলায় জেলায় প্রশাসন জরুরি সভা করছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের সব নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ঘোলঘর পয়েন্ট এলাকায় বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ২৮৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলার ৭ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষের সঠিক সংখ্যা জেলা বন্যা তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র এখনো জানাতে না পারলেও নিম্নাঞ্চলের একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, ‘লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।’

দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টির কারণে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

কুড়িগ্রাম : পাউবো কুড়িগ্রাম কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীতে ব্রিজ পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৬ সেন্টিমিটার ও তিস্তায় পানি ২৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাট : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার পাঁচ উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা, ধরলা, রতনাই, শনিয়াজানসহ প্রায় সব নদ-নদীর পানি বেড়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা গ্রামের বুমকা এলাকায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধরলা নদীর ওয়াপদা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২০ ফুট এলাকা ভেঙে গেছে।

নীলফামারী : উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট (৪৪টি) খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা ছাড়াও পানি বেড়েছে বুড়ি তিস্তা, চারালকাটা, বুড়িখোড়া, যমুনেশ্বরী, খড়খড়িয়া, দেওনাই, খেড়–য়া, শালকি, নাউতারা, কুমলাই, ধুম, ধাইজান, চিকলি, আউলিয়া খানা নদীতে। তিস্তা নদীবেষ্টিত আশপাশের ১০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। এদিকে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সৈয়দপুরের খড়খড়িয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার একর ফসলের ক্ষেত ও পুকুর নালা, খাল-বিল ও বাড়িঘর ডুবে গেছে। আর এক ফুট পানি বাড়লে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়তে পারে। এতে বিমানবন্দরসহ পুরো শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট : পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলায় তলিয়ে গেছে দুই হাজার হেক্টর বোনা আমন ও পাঁচশ হেক্টর বীজতলা। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোয় পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। গোয়াইনঘাটের (নবাগত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা চেয়ে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শেরপুর : পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি নদী ভোগাইয়ের অন্তত ১৩টি স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীর গড়িয়ে প্লাবিত হচ্ছে চেল্লাখালী নদীর পানিও। এতে পৌরসভাসহ এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম আকস্মিক বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। শনিবার ভোর থেকে চেল্লাখালীর তীর উপচে পানি আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমান শনিবার সকাল থেকেই বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

পঞ্চগড় : ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে পঞ্চগড় শহর ও পাঁচ উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, ভেরসাসহ জেলার সবকটি নদীর পানি বেড়েছে। জেলা শহরসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখেই আশ্রয় কেন্দ্রে চলে এসেছে। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করলেও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় শিশু ও নারীসহ লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ভেরসা নদীর ওপর নির্মিত ভেরসা প্রকল্পের একটি গেট ভেঙে গেছে। পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। করতোয়ার পানি বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ছাতক : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। শনিবার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান, বন্যার পানিতে এখন পর্যন্ত রোপণকৃত ৫৬ হেক্টর আমন ক্ষেত ও ২৫ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বঙ্গেরচর গ্রামের জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এসব গ্রামে শুক্রবার দুপুর থেকে অস্বাভাবিকভাবে পানি ঢুকছে। ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালন্দি খালটি দিয়ে ভারতীয় ঢলের পানি প্রবেশ করছে। দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। শনিবার বিকালে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও পৌরসভা মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল স্থলবন্দরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও মোহাম্মদ শামছুজ্জামান জানান, পানি ঢুকে পড়া গ্রামের যাদের বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণ (মাটিরঘর) তাদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। তা ছাড়া ত্রাণ প্রক্রিয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

কসবা : পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবারের ভারী বর্ষণে কসবা সীমান্ত হাটের বাংলাদেশের অংশের একটি সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে এবং পানিতে ডুবে উপজেলার কায়েমপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সিজানের (১২) মৃত্যু হয়েছে।

নেত্রকোনা: অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এলাকার বহু রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। ভেসে গেছে বিভিন্ন মৎস্য খামারের মাছ। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

গাইবান্ধা : ২৪ ঘণ্টার টানা বর্ষণে ৭ উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। ছিন্নমূল পরিবারের শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পেরে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল প্ল­াবিত ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাঘাটা উপজেলায় কয়েক হাজার একর রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি শনিবার বিকাল ৪টায় শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রবার রাত থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

চন্দনাইশ : অবিরাম ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় রাস্তাঘাট কিংবা হাট-বাজার মানবশূন্য হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলও তুলনামূলকভাবে কম।

ঠাকুরগাঁও : তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পনিবন্দি দিন যাপন করছে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ। কাঁচা ও আধাপাকা দুই সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। শহরের ডিসি বস্তি ও হঠাৎপাড়া টাঙ্গন নদীর পানি ঢুকেছে। ডিসি বস্তির রিয়াদ (২০) নামে একজন নিখোঁজ হয়েছে। সদর থানার ওসি মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের জন্য রংপুর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঠাকুরগাঁওয়ে রওনা দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে আবার পানি বাড়ছে। গত ১৮ ঘণ্টায় পানি ৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, আগামী ২-৩ দিনে পানি ব্যাপক বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

ফুলবাড়ী : গত তিন দিনের মাঝারি ও ভারী বর্ষণে এবং বড়পুকুরিয়া খনির ভূমি অবনমন হয়ে প্রায় ৩ ফিট পানির নিচে তলিয়ে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া সড়ক। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বড়পুকুরিয়া এলাকাসহ ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

হালুয়াঘাট : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার লক্ষ্মীকুড়া, কড়ইতলী ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ভারতের মেনংচরি নদী দিয়ে নামা পাহাড়ি ঢলে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব মহিষলেটি গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে