সংকটের কেন্দ্রে আইনমন্ত্রী সচিব ও ১১৬ অনুচ্ছেদ

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৩২ | প্রিন্ট সংস্করণ

১১৬ অনুচ্ছেদ : বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরি) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির কর্ম প্রযুক্ত হইবে।

রেজাউল করিম প্লাবন ও আরিফুজ্জামান মামুুন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপক্ষের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সংকটের কারণ আইনমন্ত্রী, আইন সচিব ও সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। এমনই ধারণা পর্যবেক্ষক মহলের। তবে জটিলতা যে এমন অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর অবস্থায় উপনীত হবে, তা সবার ভাবনার বাইরে ছিল।

বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপক্ষের বর্তমান পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের মধ্যে অব্যাহত দূরত্ব। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি যেসব উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। এর পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেন আইনমন্ত্রী ও আইন সচিব।

বিচার বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এ ক্ষেত্রেও আইনমন্ত্রী, আইন সচিবের নেতিবাচক অবস্থান ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা।

প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও আদতে ফল ছিল শূন্য। অধিকন্তু সম্প্রতি আইন সচিবকে আরও ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রশাসনিক বিভাগের সম্পর্কের দূরত্বের আরও একটি অনুঘটক। এ ছাড়া বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের দূরত্বের আরেকটি কারণ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ। এ অনুচ্ছেদকেও দায়ী বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বলা হয়েছেÑ ‘বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরি) ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির কর্ম প্রযুক্ত হইবে।’

বিচার বিভাগের প্রত্যাশা ছিল মাজদার হোসেন মামলা মোতাবেক সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন। কিন্তু সরকার এ রায় বাস্তবায়নে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। বিভিন্ন অজুহাতে রায় বাস্তবায়নে সুপ্রিমকোর্টের কাছ থেকে বারবার সময় নিয়েছে। প্রধান বিচারপতির ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি চাইলেও আইনমন্ত্রী ও আইন সচিব না চাওয়ায় সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিন থেকে উদ্ভূত কারণগুলোর জন্য বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে যে জটিলতা হয়েছে তার কারণ আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের ওপর প্রধান বিচারপতির রাগ-ক্ষোভই প্রধান।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি ‘সুপ্রিমকোর্ট’-এর পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতি’র ওপর ন্যস্ত করার বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে শব্দের এই প্রতিস্থাপন সংবিধান পরিপন্থী বলেও অভিমত দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি তার অভিমতে বলেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রিমকোর্ট’ শব্দটির পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রপতি’ প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হাইকোর্টের ওপর ন্যস্ত। ফলে ১১৬ ও ১০৯ অনুচ্ছেদ একসঙ্গে মিলিয়ে ‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আইন সচিব আবুল সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক গত বৃহস্পতিবার বলেন, বড় গলায় কথা বলবেন না। কারো রায়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। জাতির জনককে অস্বীকার করা, তার একক নেতৃত্বকে অস্বীকার করা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করার শামিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আদালত কোনো সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে) মামলা করেনি।’

আইন সচিব আবুল সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেন, ‘কোনো আদালতের রায়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। কারো রায়েও হয়নি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ভাই মুক্তিযোদ্ধা। এক ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। জাতির জনকের ডাকে তারা যুদ্ধে যান।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে