ভারতের সঙ্গে ঋণচুক্তি

এবার দ্রুত দক্ষ বাস্তবায়ন চাই

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির বাংলাদেশ সফরের দ্বিমুখী তাৎপর্য আছে। তার সফরের প্রধান বিষয় ছিল নতুন আরেকটি ঋণচুক্তি সই করা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে সহজ শর্তে নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পাবে। এ টাকা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ব্যয়িত হবে। তার সফরের অন্য তাৎপর্য হলোÑ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানে ক্ষুণœ এবং কিছুটা ক্ষুব্ধ বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা যে, ভারত বরাবরের মতো তার পাশেই আছে। ভারতের এ বার্তা বাংলাদেশের সরকারকে হয়তো সত্যিই অনেকটা আশ্বস্ত করে থাকবে, কিন্তু দেশের জনগণকে তা তেমন আশ্বস্ত করেনি বলেই মনে হয়।

মানুষের মনে ভারতীয় ঋণসহায়তা নিয়েও কিছু প্রশ্ন ও সংশয় আগে থেকেই রয়েছে। এটি ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে তৃতীয় ঋণচুক্তি। এর আগে প্রথম দফায় এনডিএ সরকারের সামনে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয় এবং দ্বিতীয় চুক্তি হয় এ সরকারের আমলেই ২০০ কোটি ডলারের। দীর্ঘদিন আগেকার ৩০০ কোটি ডলারের ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ এ যাবৎ পেয়েছে মাত্র ৩৫ কোটি ডলার। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এসবের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে। ঋণের সুদের হার কম হলেও ১ থেকে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশÑ লাইন অব ক্রেডিট নামে পরিচিত এ ধরনের চুক্তিতে দাতা দেশই প্রকল্প বাস্তবায়নে সব পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করবে, কাজের ঠিকাদারি পাবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এবং এসবের সব বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি ব্যক্তিও আসবেন সে দেশ থেকে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, এ ধরনের ক্ষেত্রে উন্নত মানের পণ্যসামগ্রী ক্রয় বা সংগ্রহের স্বাধীনতা থাকে না। একচেটিয়া ব্যবসায়িক সুবিধার নেতিবাচক ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। দেখা যাচ্ছে, পূর্তকাজের প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ এবং অন্য প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে নিতে হবে। ফলে একই পণ্য অন্য কোনো দেশ থেকে সস্তায় উন্নত মানের পাওয়া গেলেও তা নেওয়া যাবে না।

ভারতের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৫০ কোটি ডলার তার দেশের দিক থেকে কোনো দেশকে দেওয়া সর্বোচ্চ ঋণ। এটি অবশ্যই ভারত সরকারের বন্ধুত্বের নিদর্শন। তবে বাংলাদেশের দেখতে হবে ভারতের সঙ্গে সম্পন্ন সব চুক্তির দ্রুত সুষ্ঠু বাস্তবায়ন যেন নিশ্চিত করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের কাজ তদারকের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। আবার প্রয়োজনে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে কিংবা অন্য যে কোনো সঙ্গত কারণে চুক্তি থেকে বাংলাদেশের সরে আসার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। এবারের ঋণের অর্থে বিদ্যুৎ, রেলপথ, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ মূলত অবকাঠামোর উন্নয়নে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ঋণপ্রবাহ শুরু হওয়ার ২০ বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এই ঋণের একটি বড় অংশকে অনুদানে রূপান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের ওপর ঋণের বোঝা অতিরিক্ত না হয়। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবং ঋণের ক্ষেত্রে ভারত প্রকৃত বন্ধুর ভূমিকাতেই থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে