পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা

পরীক্ষকদের দায়িত্বহীনতার দায় কে নেবে

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। দিন যতই যাচ্ছে এ অভিযোগ আরও বাড়ছে। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের অবহেলা চিহ্নিত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, যা শিক্ষা খাতের জন্য খুবই দুঃখজনক। জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা ২০১৭-এর উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের

বিভিন্ন ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে। বিষয়টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সময় প্রমাণ হয়েছে। ঢাকা বোর্ডে গণিত বিষয়ে ২০, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ১৪, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা ২, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ২, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ১, রসায়নে ৭, বাংলা বিষয়ে ৮, ইংরেজিতে ১০, জীববিজ্ঞানে ৪, পদার্থবিজ্ঞানে ২, সাধারণ বিজ্ঞানে ১ ও ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং বিষয়ে ১ জন পরীক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ৭২ পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় এসব পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। কিন্তু পুরো বিষয়টির মধ্য দিয়ে শিক্ষকরা যে দায়িত্বহীনতা ও অনৈতিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, যার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। যে কোনো পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন অবহেলা কারো কাম্য নয়। পরীক্ষকের একটা ভুলের জন্য একজন শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট হবে কেন? তাই এর প্রতিকার অন্বেষণে নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, লাভবান হচ্ছে সরকার। কারণ প্রতিটি বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর সরকার বা শিক্ষা বোর্ড ওই অর্থ আর ফেরত দেয় না। অথচ চ্যালেঞ্জে হেরে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ড, পর্যবেক্ষক বা পরীক্ষক। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, এ জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু লোক দেখানো নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নেবেÑ এমন প্রত্যাশাই সবার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে