মানবতার জননী

  বিশ্বজিত রায়

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওই আসছেন মানবতার জননী। পথে দাঁড়িয়ে হাজারো পীড়িত মানুষ। মানবতার মহীয়সী ‘মা’ শেখ হাসিনাকে দেখতে অপেক্ষা করছেন তারা। তাদের দুঃসহ জীবনের করুণ বাস্তবতা দেখে কী বলেন তিনি, তা শোনার জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অবশেষে আশ্রিত জনসমুদ্রের বিশাল বেদনায় পূর্ণ তটে এসে দাঁড়ালেন ‘মানবতার জননী’ শেখ হাসিনা। তিনি আসলেন, দেখলেন, কথা বললেন এবং পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন নিজ অবস্থানের কথা। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার এমন মানবতাবাদী আচরণে মুগ্ধ দুনিয়া। তাই তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে আখ্যায়িত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর টেলিভিশন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যখন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তার বর্ণনা করতে গিয়ে এই বিশেষণ ব্যবহার করেছেন চ্যানেল ফোরের এশিয়া করেসপনডেন্ট জনাথন মিলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে চ্যানেল ফোরের এই সংবাদভিত্তিক ভিডিওটি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ফোরের এই সংবাদ ভিডিওতে বলা হয়, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করে প্রত্যেকের কাহিনি শোনেন মনোযোগ দিয়ে। হাত দিয়ে জড়িয়ে রাখেন আনাসকে। মিয়ানমার আর্মির গুলিতে আরাকানের লাবানা গ্রামের নয় বছর বয়সী আনাসের নাক ক্ষতবিক্ষত। এই আনাসকে ধরে দাঁড়িয়ে নির্যাতনের কথা শোনেন শেখ হাসিনা। পরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

নেতৃত্বের নন্দিত মহিমায় উদ্ভাসিত বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। হাজারো প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে নিজেকে প্রশংসিত পথে পরিচালিত করেছেন প্রতিবার। জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন জাতিকে। বিশ্ববুকে বাংলাদেশকে অনন্য অবস্থানে নিয়ে যেতে শেখ হাসিনার রয়েছে অযুত অবদান। অসুর শক্তির সর্বনাশী থাবা থেকে বেঁচে আসা এই নারী নক্ষত্র দেশ ও জাতির জন্য এক আশীর্বাদস্বরূপ বৃহৎ পাওনা। যোগ্য পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে সম্মুখে এগুনোর প্রয়াসে সর্বদা ব্রতী রয়েছেন। যশ ও পাহাড়সম খ্যাতির সর্বোচ্চ শিরে অবস্থান করা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনা দেশকে দিয়েছেন সঠিক পথের দিশা। বাংলাদেশের বিস্ময় জাগানিয়া উত্থানে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্বমোড়ল ও বিশ্ববিশিষ্টজন প্রাজ্ঞ প-িত-মহাপ-িতরা। শুধু হাসিনাপ্রিয় মানুষরাই নয়, দেশ-বিদেশের ঘোর বিরোধী শক্তিগুলোও তাকে মেনে নিয়ে পর্দার অন্তরালে বাজাচ্ছে তৃপ্তির হাসিনা মাদল।

জীবনবাজিতে জয়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সফলতা দেশকে দিচ্ছে দুহাত ভরে। কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি জনকল্যাণমুখী কর্মকা- থেকে তাকে পিছু হটাতে পারেনি। প্রকৃতি ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে নাজেহাল শেখ হাসিনা একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। দেশের মানুষকে যেমন উন্নয়ন অগ্রগতির মন্ত্রজাদুতে মুগ্ধ করেছেন, তেমনি বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ শুভ-সুন্দরের পথে আসতে মেদিনী মাতব্বরদের ছবক দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মহলে শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা প্রায় শত শতাংশে গিয়ে পৌঁছাতে পেরেছে বলে প্রতীয়মান হয়। তার নিপুণ নেতৃত্বের ম্যাজিক্যাল গুণাবলিতে মুগ্ধ দুনিয়া বনেছেন নীরব শ্রোতা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহানুভবতা, আদর্শ-ত্যাগ ও রাজনীতির পরিচ্ছন্ন পাঠশালায় দীক্ষিত হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে এক প্রতিভাবান প্রাজ্ঞ প্রতীক ও শান্তির শুভ্র চাদরে মোড়ানো মানবতার মহৎ মূর্তি। তিনি যা করছেন সবকিছুই বাংলাদেশ তথা গোটা দুনিয়ার জন্য শিক্ষণীয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে শুধু সেবা-শুশ্রƒষাই করেননি, তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ পাওয়া ভঙ্গুর বাংলাদেশে তিনি রোপণ করেছেন শক্ত অর্থনীতির পরিপক্ব বীজ। এটা গল্প নয়, পরীক্ষিত বাস্তবতা।

সর্বস্ব হারানোর নিদারুণ শোক বুকে বয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করা এই কীর্তিমতি কামিনী জয় করেছেন বিশ্বকে। বহুল প্রতীক্ষিত বহু কাজের সফল বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নাধীন কর্মকা-ে রেখেছেন সোনালি স্বাক্ষর। যোগ্যতা, দক্ষতা, একাগ্রতা, বিচক্ষণতা, সততা, নিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় এগিয়ে শেখ হাসিনা রোল মডেল বাংলাদেশের ডিজিটাল কারিগর। তিনি বহির্বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন পিছিয়ে পড়া একটি রাষ্ট্রকে কীভাবে টেনে তুলে দাঁড় করাতে হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছাড়াও বৈশ্বিক নানা সংকট সমাধানে কীভাবে সফলতা অর্জন করতে হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দেশীয় দৈত্য-দানবের প্রাণনাশী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কীভাবে বাঙালি জাতির গায়ে অগ্রগতির অহংবোধসম্পন্ন শ্বেতকায় উত্তরীয় সযতনে পরিয়ে দেওয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করা যায়। শুধু তাই নয়, মানবতার মহান তরীতে চালকের আসনে বসে সগৌরবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন এই মহীয়সী নারী।

শেখ হাসিনার এত্তসব গৌরবগাথা কথনের একটু বিপরীতে বৈঠা বাইতে চাই। নইলে নিন্দুক নিত্যানন্দরা আমায় ভর্ৎসনা করতে পারেন। বঙ্গবন্ধু তনয়ার পক্ষে সাফাই গাওয়ার অপরাধে আমায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটাও অসম্ভব নয়। একজন লেখক হিসেবে সত্য-অসত্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সত্যকে সবার সামনে উপস্থাপন করা নিশ্চয়ই অপরাধ নয়। আমি সত্যের পূজারি, মানবতার পক্ষে অবস্থানকারী এক নগণ্য লেখক। সেই সত্তার পরিচ্ছন্ন প্রেক্ষাপট থেকে বলছি, দেখুন শেখ হাসিনা আমার-আপনার মতো রক্তে-মাংসে গড়া পূর্ণাঙ্গ পরিচয়ের মনুআত্মার মানবী। তবে তিনি মানুষ হলেও সবার চেয়ে আলাদা। কারণ তিনি জাতির জনকের কন্যা, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং মেদিনী মহলে এক নন্দিত নারী। সবাই ইচ্ছে করলেও এই গৌরবের অংশীদার হতে পারবে না। তাই তিনি আলাদা। তবে বিতর্কের খাতিরে অনেক কথাই বলা যেতে পারে। আপনি তার ভুলত্রুটির যৎসামান্য কথামালা দিয়ে শেখ হাসিনার বিশাল অর্জনকে সাময়িক অস্বীকার করতে পারবেন। কিন্তু পরিশুদ্ধ পরিচয়ের সচেতন নাগরিক ও বিশ্ববাসীর সুনজর থেকে বিচ্ছিন্ন করাটা একেবারে কঠিন হবে।

আমরা সবাই ত্রুটিবিচ্যুতি ও ভুলভ্রান্তির গোলকধাঁধায় বন্দি। এটা অমান্য করার ক্ষমতা কারো নেই। শেখ হাসিনাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারও ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তাই বলে অল্প ভুলে গল্প সাজাবেন, তা হতে পারে না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকবেন, সাদাকে কালো দিয়ে মুড়িয়ে দেবেন, তাহলে নিজেকেই যে ছোট করা হবে। একটা মানুষের বৃহৎ সব অর্জনকে ক্ষুদ্র অংশে বিসর্জন দিলে সেটা হবে অনর্থক অপচেষ্টা বৈকি। ভুলভ্রান্তির মিশেলেই মানুষ। কেউ যদি শেখ হাসিনার সমালোচনায় মশগুল থাকতে চান, তাহলে আগে রাষ্ট্রনায়কোচিত হাসিনার ঢের অর্জনকে স্মরণ করুন এবং তার পর এগিয়ে যান।

য় বিশ্বজিত রায় : কলাম লেখক

bishwa85@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে