চ্যালেঞ্জের মুখে যাত্রা নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের

  এম সাখাওয়াত হোসেন

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

 

নতুন নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। যাত্রার শুরুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে অনেকটা খোলাসা করে বলেছেন, শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি নির্মোহ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন এবং তেমনভাবেই কাজ করবেন। তিনি নতুন টিমলিডার, যার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। এই কমিশন সংবিধানের পরিবর্তিত ১১৮(১) ধারায় দ্বিতীয় পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন একসঙ্গেই যাত্রা শুরু করলেও দু’জন সদস্যের প্রশাসনিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কয়েক বছরের পরিচয় রয়েছে এবং বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের পরিধি ও তাদের কার্যক্রমের পরিবর্তনের সঙ্গে যথেষ্ট পরিচিত।

বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হলেও এর পূর্ণতা লাভ করে ২০০৮ সালে সচিবালয় নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত হওয়া ও পরে নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পর এ পরিবর্তন তত সহজ ছিল না। দুঃখজনক হলেও সত্য, যা বিগত কমিশন যেভাবে পরিবর্তন করে গেছে তাতে প্রধান উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। যাক সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করব।

যেমনটা আগেই বলেছি, বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ রয়েছে, তেমনি তার যে নতুন অবয়ব গঠিত হয়েছে সেটাকে অনুধাবন করেই নিবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনকে সেভাবে প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতি বিগত বছরগুলোতে হয়েছে সেখান থেকে টেনে তুলতে হবে। ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট : এ কম্পেনডিয়াম অব কমনওয়েলথ গুড প্রাকটিস’ নামের গবেষণা স্মারকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে তাতে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। যার অর্থ বাইরের হস্তক্ষেপ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে তার কার্য সম্পাদন করার ক্ষমতা সরকারের প্রভাব থেকে দূরে থাকা এবং আর্থিক স্বাধীনতা বজায় রাখা।’

যাহোক আগেই বলেছি, বাংলাদেশের কমিশনের ড. হুদা কমিশনের সময় ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সদন থেকে উপজেলা পর্যায়ের সার্ভার স্টেশন এবং দেশে-বিদেশে প্রশংসিত ডিজিটাল ভোটার লিস্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, যার পথ ধরে স্মার্টকার্ড এসবই নির্বাচন কমিশনের অবসর সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশের ভোটার লিস্ট এবং ডাটাবেস তৈরি এ দেশের অর্জনের একটি মাইলফলক, যার সঙ্গে বর্তমানের একজন নির্বাচন কমিশনার যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশের এই সার্থক প্রকল্পের অনুরূপেই নেপাল তার বর্তমান ছবিসহ ভোটার তালিকা, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে, সঙ্গে পরিচয়পত্র তৈরি করেছে। তৈরি করেছে ডাটাবেস, তবে বাংলাদেশের অনুপাতে ডাটাবেস বেশ ছোট আকারের। আশা করা যায়, অন্তত এই দুজন তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে কমিশনকে যে বিতর্কিত অবস্থায় রকিব কমিশন রেখে গিয়েছেন তার থেকে উত্তরণ ঘটাতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন। তাদের এই নতুন পরিচয়ে কার্যক্ষমতা দেখার অপেক্ষায় গোটা জাতি।

যদিও সিইসিসহ অপর দুজনের সঙ্গে আমি তেমন পরিচিত নই, তাই তাদের সম্বন্ধে তেমন কিছুই বলতে না পারলেও নিশ্চয় তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উজ্জ্বল ছিলেন। যদিও তারা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত নন, তথাপি মনে করা স্বাভাবিক যে, তারা উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বলেই ছয়জনের উচ্চ পর্যায়ের সার্চ কমিটি কীভাবে তাদের খুঁজে পেল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ছোট ছোট দল যারা বৃহৎ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ তারাই বা খুঁজে পাবেন কীভাবে। সার্চ কমিটির ভাষামতে, তারা রাজনৈতিক দলের নামগুলোই প্রাধান্য দিয়েছেন, হয়তো এসব দলের রাজনৈতিক অবস্থান মাথায় রেখেই ১৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রদত্ত ছকে দশজনকে নির্বাচন করেছেন। কাজেই যাদের নির্বাচন করে তালিকাভুক্ত করেছে সার্চ কমিটি তাদের দু-একজনকে নিয়ে বিতর্ক করে লাভ কী, কারণ তারা তো স্বেচ্ছায় নাম প্রকাশ করেননি। খুঁজে বের করার দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি তাদের হাতেই দিয়েছিলেন।

নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন এমন অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করছে, যেখানে তাদের আগের কমিশন অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের জায়গা তৈরি করে গেছে, যেগুলো এই নুরুল হুদা কমিশনকে ধর্তব্যে অবশ্যই নিতে হবে। তবে ড. হুদা কমিশনের উত্তরসূরিরা যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে গিয়েছিল তার তুলনায় এসব চ্যালেঞ্জ কম হলেও কয়েক জায়গায় কিছুটা ভিন্নতর। আমি সবগুলোর বিস্তারিত না গিয়ে স্বল্পপরিসরে যতটুকু সম্ভব পাঠক, আপামর জনসাধারণ এবং নুরুল হুদা কমিশনের জন্য উত্থাপন করছি। এগুলো আমার অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে লব্ধ এবং আমার মতামত তবে বাস্তব নিরিখে অনেকেই এই মতামতগুলোর সঙ্গে একমত হবেন।

চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে প্রথম হলো নবনিযুক্ত কমিশনকে গত কমিশনের ব্যর্থতার কারণগুলো খুঁজে তার প্রতিকার কীভাবে করবে তার ছক তৈরি করা। তাদের ওপর মানুষের, রাজনৈতিক দল এবং অন্য শরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যোগাযোগ সৃষ্টি করা। মনে রাখতে হবে, শরিকদের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এতদিন স্বস্তিতে থাকা যেমন কষ্টকর, তেমনি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করাও সম্ভব নয়। এ যোগাযোগ একাধিকবার হতে পারে। বিগত কমিশন তার পূর্বসূরিদের দেখানো পথে হাঁটেনি বিধায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শরিকদের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ করেনি, তেমনি কোনো সহযোগিতাও পায়নি। একটি আমলাতান্ত্রিক আবরণ বজায় রেখেছিল, যার কারণে ‘মেরুদ- তত্ত্বের’ জন্ম দিয়েছিল। বর্তমান বিশ্বের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বহু দেশে এই যোগাযোগ বাধ্যবাধক এবং আইন দ্বারাও বিধৌত।

এই কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংসস্তূপ হতে তুলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আগের কমিশনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ এখানেই। এই বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে কমিশনের সৎ, সাহস ও স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে। এই কমিশনকেই আগামী সংসদ নির্বাচন করতে হবে সংসদ রেখে এবং দলীয় সরকারের অধীনে। সে বিষয় মাথায় রেখে সামনের প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সততা, নিরপেক্ষতা আর দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারলে ক্রমেই মানুষের মনে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস ফিরতে শুরু করবে। তবে মনে রাখতে হবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক মানদ-ে বিচার করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচন। মাত্র দুবছর অথবা তারও কম সময় রয়েছে জাতীয় নির্বাচনের। অবশ্য ভোটার লিস্টের মতো বড় কাজ হুদা কমিশনের অন্যতম বৃহৎ সার্থক কর্মকা- ছিল, যার সঙ্গে নবনিযুক্ত কমিশনার জড়িত ছিলেন কাজেই হালনাগাদ করাও কোনো বড় চ্যালেঞ্জ নয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল যুগের সূচনাই হয়েছিল এই ভোটার লিস্ট ও পরিচয়পত্র তৈরির পর থেকে। কাজেই জাতীয় নির্বাচনের বড় কাজটি সম্পন্ন হয়েছে মাত্র হালনাগাদ করাই কাজ। এ দুবছরে একটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তার একটি রূপরেখা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শরিকদের এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করলে স্বচ্ছতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রকিবউদ্দীন কমিশন তাদের পূর্বসূরির রাস্তা ধরেনি বরং শরিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগই করেনি। বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগকে নির্বাচনী প্রশাসনের ভালো উদ্যোগ বলা হয় তার ধারকাছ দিয়েও আগের কমিশন যায়নি। যার কারণে একদিকে যেমন বিচ্ছিন্ন ছিল, অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। নির্বাচন কমিশন এখন আস্থার সংকটে ভুগছে এবং আস্থা না ফেরালে কোনো উদ্যোগই বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

সংক্ষেপে দু-একটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা বলেছি। আরও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের জন্য, যা লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে। বহু বছর ধরে সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের অকান্ত প্রচেষ্টায় এবং হুদা কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্বাচন কমিশনের আওতায় ন্যস্ত করায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে। ২০০৮ সালের জারিকৃত ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অধ্যাদেশ’ পরবর্তীকালে অপরিবর্তিত অবস্থায় ২০০৯ সালে সংসদ দ্বারা আইনে পরিণত ও অনুমোদিত হয়। এ দাবি আদায় করতে বহু আন্দোলন হয়েছিল। প্রতি দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলেও ২০০৮ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। অবশ্য পরে আওয়ামী লীগ সরকার অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরিত করে। পরবর্তীকালে এই আইনের অধীন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নিয়োগ বিধিসহ অন্যান্য বিধি তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে নিয়োগ, বদলি এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার পদন্নতিও বিধির আওতাভুক্ত হওয়ায় সচিবালয়ের ওপর স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রেষণে শুধু সচিবসহ সচিবালয়ের কয়েকটি পদ উন্মুক্ত ছিল। এই বিধি তৈরির ফলে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সরকারের প্রভাবমুক্ত অবস্থায় কর্মসম্পাদন করার নতুন সংস্কৃতি হুদা কমিশন সম্পন্ন করে বহু বছরের পদোন্নতির জট খোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন ঞঙতঊ তৈরি করে মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির পথ খুলে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ স্বাধীন সত্তা হিসেবে পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে। এসব বিধি অজ্ঞাত কারণে রকিব কমিশন যেভাবে পরিবর্তন করে, তাতে জেলা পর্যায়ে জেলা কর্মকর্তাদের জন্য যে উপসচিবের পদগুলোতে সরকারের কর্মকর্তাদের প্রেষণের সুযোগ করে দেওয়া এবং মধ্যম ও উচ্চতর পদোন্নতিতে সরকারের অনুমতির বিধি সংযোজন করে পরিবর্তন করাতে স্বাধীন সচিবালয়ের অবস্থানে পরিবর্তন হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। [বাংলাদেশ গেজেট এপ্রিল ৬, ২০১৬ এবং উক্ত গেজেটের বিধি ২ (খ) এর প্রতি পদে বিশেষ করে আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তা নিয়োগবিধি দ্রষ্টব্য]। এ কাজটি বিগত নির্বাচন কমিশন কেন করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এসব কর্মকা-ে নির্বাচন কমিশন শুধু নিজের স্বাধীনতাই খর্ব করেনি, বরং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও জটিলতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।

এ বিষয়টি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিপরীত। শুধু কমিশনই নয়, সচিবালয় যদি সরকারের প্রভাবের আওতামুক্ত না থাকে তবে কমিশনের স্বাধীনতা যে খর্ব হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এভাবে পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে বলে মনে হয় না। আমি মনে করি, বহু কষ্টে অর্জিত সচিবালয়ের স্বাধীনতা তথা কমিশনের স্বাধীনতার সনদে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনিভুক্ত হয়েছিল; নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯-এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে পরাভূত করেছে এবং কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার স্পৃহাকে স্তিমিত করেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা যদি তাদের মাথা উঁচু রেখে কাজ করতে না পারে তবে তার কাছ থেকে শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক সততা আশা করা যায় না।

নুরুল হুদা কমিশনকে অবশ্যই এই পরিবর্তন নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে যখন এই কমিশনকে সব দলকে নিয়ে সংবিধানের পরিবর্তিত অবস্থানের আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। খুব একটা সহজ কাজ হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ নাই বা টানলাম। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী আইন ‘আরপিও ১৯৭২’-এ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে ওই সময়ের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সিভিল সোসাইটি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এক অবস্থান তৈরি হতে পারে।

যাহোক নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের পথ খুব সুগম নয়, যা হওয়ার কথা ছিল হয়নি, যে কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার অভাব ঘটেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর শুধু সাধারণ মানুষই নয়, খোদ সরকারি দলের সদস্যরাও প্রশ্ন তুলেছেন। কাজেই এ জায়গা থেকে নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন জনগণ ও ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তরিক থাকবে বলে আশা করি। তাদের সামনে তাদের পূর্বসূরির দুটি মডেল রয়েছে। তারা কোনটা বেছে নেবেন, এটা হবে তাদের সিদ্ধান্ত। নবনিযুক্ত কমিশনেরর সার্বিক সার্থকতা কামনা করে অভিনন্দন ও সহযোগিতার অঙ্গীকার রইল।

য় এম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনবিষয়ক পিএইচডি গবেষক

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে