দুদকের ভাবমূর্তি

  ফনিন্দ্র সরকার

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইদানীং দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মহত্ত্বগাথা খবর প্রায় নিয়মিত পত্রিকার পাতায় ছাপা হচ্ছে। দুর্নীতির চুনোপুঁটি ধরে কমিশন বেজায় বাহবা কুড়ালেও রাঘববোয়ালের ভীতি রয়েছে এমন প্রমাণ দিতে তাদের সক্ষমতাও দিনে দিনে বাড়ছে। আবার দুদকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবরও শিরোনাম হচ্ছে। এই তো গত বছরের (২০১৬) সেপ্টেম্বরে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতার সংবাদ শিরোনাম ছিলÑ ‘বেড়ায় খাচ্ছে ক্ষেত’। তিন কলামের ওই সংবাদটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সংবাদের শুরুটা ছন্দ দিয়ে। বেড়ায় যখন ক্ষেত খায়, সে ক্ষেত কি রক্ষা পায়? সংবাদটি ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে। দুর্নীতি দমনের জন্য যে কমিশন সেই কমিশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি নিয়েই রিপোর্টটি করা হয়েছিল।

দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন-সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি দূরীকরণে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে দুর্নীতি দমন কমিশনে রূপান্তর করা হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি দীর্ঘদিনের, সেই অবস্থা থেকে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদাও লাভ করেছে ইতোমধ্যে। তার পরও দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষ দশে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানেই আছে। এটা লজ্জা এবং দুর্ভাগ্যেরও বটে। আরও দুুঃখজনক হবে যদি দুর্নীতি দিয়েই দুর্নীতি দমন করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা যায়। বিষ দিয়ে বিষমুক্ত করা গেলেও দুর্নীতি দিয়ে দুর্নীতি মোকাবিলা করা কখনো সম্ভব নয়, বরং দুর্নীতিকে আরও প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। আমার বিশ্বাস, দুর্নীতি দমন কমিশন কখনো এরূপ কাজ করতে পারে না। এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন তার অঙ্গীকার অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে। কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথিত দুর্নীতির কারণে কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাসকে সমুন্নত রাখতে হবে। এ কথা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে যে, তাদের কারণে রাষ্ট্র কিংবা জনগণের যেন কোনো ক্ষতি বহন করতে না হয়। ঠিক করতে হবে দুর্নীতির যথার্থ সংজ্ঞাও। ঢালাওভাবে দুর্নীতি দমন অভিযানে কখনো দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। আমাদের দেশে যেসব বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে বা এখনো হচ্ছে তা তো আমজনতার কাছে দৃশ্যমান। এ জন্য গভীর গবেষণার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। দুর্নীতি দমনের নামে অনেক নিরীহ মানুষকে যেন নিঃগৃহীত করা না হয় সে খেয়ালটা কমিশনকে রাখতেই হবে। কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে কমিশনে ডেকে নেওয়া যথার্থ প্রক্রিয়া নয়। অভিযোগের যথার্থতা যাচাইয়ের অত্যাধুনিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা উচিত। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে যাকে ডাকা হয় তিনি যেমন বিব্রত হন আবার আত্মসম্মানেরও প্রশ্ন থেকে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও তার ভাবমূর্তির সংকট দূর করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। একটা মানুষের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই সম্পদের ওপর যদি আঘাত আসে তাহলে মানবজীবনটা তো ব্যর্থ হয়ে যায়। সারাজীবনের অর্জন তার নিমিষে শেষ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ অভিযুক্তদের মর্যাদার যে হানি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেবে কে? কাজেই ঢালাওভাবে দুর্নীতির অভিযোগ আনা ঠিক নয়। যদিও সে সময় দুর্নীতি দমন কমিশন পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি।

দুর্নীতি সারা বিশ্বেই হয়ে থাকে কম-বেশি। ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের নামটি কবে বাদ যাবে সে ভাবনাটা নিয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে বড় বড় রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নামকরা সাংবাদিক, ডাক্তার এদের কেউ কেউ কম-বেশি দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা কারণে। কেউ ইচ্ছায় কিংবা অধিক অর্থপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় আবার কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লিপ্সায়, কেউ কেউ চক্রে পড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সৎ হওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে গিয়ে নানা চাপে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। প্রিয় পাঠক, গত বছরের (২০১৬) সেপ্টেম্বরে পত্রিকার পাতায় দেখেছেন বেশ কিছু জেলা প্রশাসকের সংবর্ধনা নেওয়ার খবর। মুন্সীগঞ্জের সদ্য জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলকে ১৭ দিনের ব্যবধানে ৫৭টি বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ সংবর্ধনাগুলোয় তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের উপহার সামগ্রী পেয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীর রাজকীয় সংবর্ধনা। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহউদ্দিনের মাসব্যাপী সংবর্ধনার খবরও ছাপা হয়েছে। এসব সংবর্ধনার পেছনে যে সীমাহীন দুর্নীতি রয়েছে সে জন্য তো কোনো গবেষণার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। সংবর্ধনা কোনো অন্যায় কাজ নয়। একজন কর্মকর্তা বিদায়বেলায় সংবর্ধনা কিংবা যোগদানের সংবর্ধনা পেতেই পারেন। সেটা হতে হবে বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সংবর্ধনা দিতে যদি স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদরা ব্যাপকভাবে অর্থ খরচ করেন সেখানে একটা রহস্য থাকবেই। বিষয়টি রুলস অব বিজনেসে আছে কিনা তা দেখতে হবে। কিন্তু এতে দুর্নীতি আছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এ তো গেল জেলা প্রশাসকদের বিষয়। এর পর এসি ল্যান্ড, সাবরেজিস্ট্রার, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দুর্নীতির খবর মুখে মুখে প্রচারিত। এদের ক’জনকে দুদক ডেকেছে? আমি বলছি না এদের সবাই দুর্নীতিবাজ। কিন্তু ঘুষ কিংবা অবৈধ রোজগার করে কে বিত্তবান হয়েছে এসব তথ্য-উপাত্ত তো লোকাছাপা নয়। ঘুষ, দুর্নীতি রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ক্ষতিকর বিষয়। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি উদাহরণ দিচ্ছিÑ আমি এক সময় ঢাকা সিটি করপোরেশনে চাকরি করতাম। সে সময় মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন ছিল। ট্যাক্সেশন বিভাগে কর্মরত থাকাকালে আমি দেখেছি, কীভাবে একজন ট্যাক্সেশন কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে রাষ্ট্রের ক্ষতি করতেন। একজন ট্যাক্সেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব হচ্ছে, করপোরেশন আওতাভুক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ এবং তা আদায়ের ব্যবস্থা করা। নতুন কর উৎস বের করা। এখন কীভাবে হয় জানি না। সে সময় পাঁচ বছরের জন্য অ্যাসেসমেন্ট হতো। কোয়ার্টারলি ট্যাক্স পরিমাণ হিসাব করে পাঁচ বছরের জন্য ট্যাক্স নির্ধারণ করা হতো। সিটি করপোরেশনের আইনকে উপেক্ষা করে ঘুষের বিনিময়ে ট্যাক্স কমিয়ে ধরা হতো সীমাহীনভাবে। বাড়ির মালিক ও ট্যাক্স কর্মকর্তারা লাভবান হলেও ক্ষতি হতো রাষ্ট্রের। এই ক্ষতি কোনোদিনই পোষানো সম্ভব হতো না। কেউ নতুন বাড়ি করলে সেই বাড়ির একটি নম্বর দরকার, যা ইস্যু করে থাকে করপোরেশন। যতক্ষণ পর্যন্ত হোল্ডিং নম্বর না হবে ততদিন ওই বাড়ির ট্যাক্স হবে না এবং বাড়িঅলা গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ কিছুই পাবে না, না পেলে বাড়িভাড়াও দিতে পারবে না, ফলে ক্ষতি বাড়ির মালিক ও করপোরেশনের। কিন্তু ট্যাক্স কর্মকর্তা সহজে নম্বরটি দেবেন না। যতক্ষণ বাড়িঅলা ট্যাক্স কর্মকর্তাকে ঘুষ না দেবেন। যেই ঘুষ দেবেন সঙ্গে সঙ্গেই নম্বর পেয়ে যাবেন। এভাবেই করপোরেশনের ট্যাক্স বিভাগ চলত, হয়তো এখনো চলছে। পাঠক এ পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারায় চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হই। যাহোক আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি নেই এমন অসংখ্য কর্মকর্তা কোটিপতি এখন। অনেকে বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং রাজনীতিবিদও হয়েছেন। ক’জনকে ধরা হয়েছে? হয়নি। কিন্তু রাষ্ট্রের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের প্রায় সব বিভাগেই দুর্নীতি হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ করে বাড়িঅলারাও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়াও তো এক ধরনের দুর্নীতি। দুর্নীতি দমন কমিশন এদের কতজনকে ধরছে? তাদের ধরার ক্ষমতাই বা কতটুকু? পাঠক নিশ্চয় সবার মনে থাকার কথা, ১/১১ রাজনৈতিক একটি পরিবর্তন সংগঠিত হয়Ñ জারি হয় ইমার্জেন্সি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। গোটা দেশ হয়ে পড়ে রাজনীতিশূন্য। বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ, বড় বড় ব্যবসায়ী, আমলা ধরাশায়ী হন। এমনকি বড় দুটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও জেলে যেতে হয় দুর্নীতির দায়ে। দুদকের সেই হুঙ্কার আজও কেউ ভুলতে পারেনি। এ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানায়। কিন্তু কিছুদিন পরই মানুষের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরতে শুরু করে। আস্তে আস্তে সবাইকে ছেড়ে দিতে হয়। এর পর নির্বাচন হলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে জিতে ক্ষমতাসীন হলো। দুদককে নতুন করে সাজানো হলো স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ শেখ হাসিনার সরকারই নিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় দফা ক্ষমতাসীন হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেন। সেই ক্ষমতাবলে এখনো দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে দুদক নিয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ দেশের মানুষ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দুদকের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে চায়।

বর্তমান কমিশন সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতি দমন করবেÑ এটাই প্রত্যাশা করে সবাই। জানা গেছে, কমিশন চেয়ারম্যান, কমিশনার, মহাপরিচালকরা সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মহাপরিচালক (প্রশাসন) মুনীর চৌধুরী একজন চৌকস কর্মকর্তা, যেখানে ছিলেন সেখানেই দ্যুতি ছড়িয়ে এসেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি দুদকে যোগদান করেছেন। অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী অফিসার হিসেবে তিনি সর্বজন পরিচিত। তার সততা ও দক্ষতা দিয়ে তিনি দুদকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখবেন এ বিশ্বাস সবার রয়েছে। তা ছাড়া কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও কমিশনাররাসহ সবাই দুর্নীতি দমনে সদাতৎপর। যতটা জানা গেছে, এই পর্যন্ত দুদকে সর্বমোট অভিযোগ রয়েছে ৪,৩৪৪টি, যা অনুসন্ধানকৃত। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ৩,৩৮৭টি। ১,৭২৬টি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগ ব্যাংকের ঋণদান সংক্রান্ত। এসব মামলাকে কেন্দ্র করে দুদকের কতিপয় কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যাহোক দুর্নীতি দমন কমিশনের কতিপয় সদস্যের অপকর্মের দায়ভার গোটা কমিশন গ্রহণ করবে এমন ভাবা অর্থহীন। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স।

তাই দুর্নীতি দমন কমিশন তার নিজস্ব গতিতেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে এ বিশ্বাস করতেই পারি।

য় ফনিন্দ্র সরকার, কলাম লেখক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

 

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে