খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা

আদায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাপি ঋণের আগ্রাসী ছোবলে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত। প্রতিনিয়ত এ ঋণ বেড়েই চলেছে। এর পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে সেগুলো কোনো সুফল দিচ্ছে না। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণ নবায়ন ও পুনর্গঠনে অবারিত সুযোগ থাকার পরও প্রতি প্রান্তিকেই এ ঋণের হার বেড়ে চলেছে।

গত ছয় মাসে এ ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ খাতে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। গত বছর ডিসেম্বরে যা ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। মাত্র ছয় মাসে বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এদিকে গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয়। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংকগুলোতে অনেক জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে যেগুলো ধরা পড়ার পর ঋণ আদায় না হওয়ায় সেগুলো সরাসরি খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আইন প্রয়োগ করে কঠোর নজরদারির কথা বলা হলেও খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রকৃত অর্থে খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সরকারের লুকোচুরি নিয়ে প্রশ্ন জাগে। তালিকা করে কেন এটি আদায়ে জোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? সন্দেহ নেই, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন না থাকায় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি অনাদায়ী ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক বিবেচনায় খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার প্রক্রিয়া।

আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে এখনই পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই উন্নত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা শুধু খেলাপি ঋণ আদায়ে বিভিন্ন ঘোষণা দেখতে চাই না, ঋণ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে