খান আতা ইস্যুতে উত্তাল এফডিসি

  বিনোদন সময় প্রতিবেদক

২০ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ০২:০৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি নিউইয়র্কে সাংস্কৃতিক অভিবাসীদের সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব-মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু প্রয়াত বরেণ্য নির্মাতা, সুরকার, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন। খান আতার নির্মিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটিকে তিনি নেগেটিভ ছবি হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। খান আতাকে ‘রাজাকার’ বলার কারণে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে গত কয়েক দিন ধরেই। সেই ইস্যুতে উত্তাল এফডিসিও। এ বিতর্কের জেরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল চলচ্চিত্রের বৃহত্তর সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবার। সংবাদ সম্মেলনের শিরোনাম ছিল ‘দুঃখের কিছু কথা বলতে চাই’। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসির জহির রায়হান ভিআইপি প্রজেকশন হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন চিত্রনায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক, নির্মাতা আমজাদ হোসেন, সিবি জামান, আজিজুর রহমান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, খান আতার মেয়ে সংগীতশিল্পী রোমানা ইসলাম, ছেলে সংগীতশিল্পী-অভিনেতা আগুনসহ আরও অনেকে। সংবাদ সম্মেলনে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের কিছু তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক। তিনি বলেন, “খান আতা পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। তখন বঙ্গবন্ধুর সরকার ক্ষমতায় ছিল। ছবিটি নিয়ে তখনই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন মায়া (বর্তমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী) ছবিটি রিভিউ করে এটি প্রদর্শনের অনুমতি দেন। মুক্তিযুদ্ধের সরকারই ছবিটি নিয়ে যখন আপত্তি করেনি তখন আপনি (নাসির উদ্দীন ইউসুফ) কেন খান আতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন? এ সরকার স্বাধীনতার পক্ষের, তার মানে আপনি স্বাধীনতার বিপক্ষে কথা বলছেন। জাতির কাছে এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে খান আতা সম্পর্কে এমন বিকৃত মন্তব্যের বিচার চাইছি।”

পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘খান আতা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঝুঁকি নিয়েও বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করেছেন। পাকিস্তানিদের হুমকি মাথায় নিয়েও যিনি কাজ করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার? খান আতা ছিলেন, আছেন, থাকবেন।’ পরিচালক সিবি জামান বলেন, ‘খান আতার মতো মানুষকে নিয়ে যারা এমন মন্তব্য করতে পারে তাদের ঘৃণা করি।’

খান আতার ছেলে কণ্ঠশিল্পী আগুন বলেন, ‘এভাবে গুণী মানুষদের ছোট করতে নেই। আমার বাবাকে দেশের সবাই চেনেন ও জানেন। আজকে হঠাৎ তাকে রাজাকার বলে দিলেই তাকে খাটো করা যাবে না। আমি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হয়ে থাকি তবে অবশ্যই এ যুদ্ধে আমি জয়ী হবই। প্রমাণ হবেই আমার বাবা (খান আতাউর রহমান) রাজাকার ছিলেন না। আমার সঙ্গে দেশবাসী রয়েছেন। সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। আমার বিশ্বাস বাচ্চু চাচা (নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু) তার ভুল বুঝতে পারবেন এবং তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেবেন।’ সবার বক্তব্য শেষে খান আতার ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি প্রদর্শিত হয়।

এর আগে একই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আরেক চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সোহেল রানা। তিনি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘২৫ মার্চের আগে রেডিও ও টিভিতে খান আতার প্রচারিত গানগুলোতে কি পাকিস্তানের গুণগান ছিল, না বাংলাদেশের কথা ছিল তা জানতে গানগুলো শোনেন। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে যারা গান, নাটক, সাহিত্য, আর্ট কালচার থেকে শুরু করে সব জায়গায় বিপ্লবী চেতনা নিয়ে এসেছে তারাই হচ্ছে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অংশ নিতে পেরেছে কি পারেনি সেটা পরের কথা। ২৫ মার্চের আগে বাংলাদেশের রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত গানের ৩০ ভাগের লেখক ও সুরকার খান আতাউর রহমান ছিলেন। আমি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুকে অনুরোধ করব এ গানগুলো যেন তিনি দয়া করে শোনেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাচ্চু সাহেবকে কেউ চিনত না, কিন্তু খান আতা সাহেবকে সবাই চিনত। ফলে বাচ্চু সাহেবের পালিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা যতটা সহজ ছিল, খান আতা সাহেবের জন্য ততটা সহজ ছিল না। যে কারণে তিনি সরাসরি যুদ্ধে যেতে পারেননি। এমন অনেকেই রয়েছেন যারা একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু স্বাধীনতার জন্য গান লিখেছেন, অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য টাকা সংগ্রহ করেছেন, খাবার দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশ, বিডিআর, আর্মি, শিক্ষক, চিকিৎসক পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বেতন নিয়েছেন। এখন তাই বলে কি তারা রাজাকার? আবার বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষ তো আর যুদ্ধ করতে যায়নিÑ তা হলে তারাও কি রাজাকার?’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে