কলকাতার ছবি বাংলাদেশে দেখছে কেন দর্শক?

  বিনোদন সময় প্রতিবেদক

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুক্রবার সারা দেশের ৮১ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে কলকাতার অভিনেতা দেব ও বাংলাদেশের নায়ক রোশন অভিনীত ‘ককপিট’। এটি পরিচালনা করেছেন ‘চাঁদের পাহাড়’খ্যাত নির্মাতা কমলেশ্বর মুখার্জি। একই দিনে ৬০ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত ‘চল পালাই’। অ্যাকশন ও থ্রিলার ধাঁচের এ ছবিতে অভিনয় করেছেন শিপন, শাহরিয়াজ, তমা মির্জা, শিমুল খান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, জাদু আজাদসহ অনেকে।

সাফটা চুক্তির আওতায় কলকাতার অনেক ছবিই মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে। কিন্তু সেগুলো খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। মানে আমাদের দর্শক সেসব ছবি দেখেননি বললেই চলে। কারণ ছবিগুলো ভিডিও দেখার সাইট ইউটিউবে আগেই দেখেছেন অনেকে। কিন্তু ‘ককপিট’ ইউটিউবে প্রকাশ হয়নি। ফলে এই ছবির প্রতি দর্শক আগ্রহ কমেনি। বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি দেখতে সিনেমা হলে লাইন দিয়েছেন তারা। ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। বাংলাদেশে মুক্তির আগে এটি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল গেল দুর্গাপূজায়। ‘ককপিট’-এ অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন দেব। তার সঙ্গে আরও রয়েছেন কোয়েল মল্লিক, রুক্সমণী মৈত্র, বাংলাদেশের নাদের চৌধুরী। বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

অপরদিকে চার বছর পর নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ফিরছেন ‘চল পালাই’ নিয়ে। এই ছবির প্রতি অনেকের আগ্রহ ছিল। ছবির প্রচারণায়ও কমতি ছিল না। তার পরও দর্শক ছবিটি দেখছে না। এর কারণ কী? চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলছেন, কলকাতার ছবিগুলো স্কিন সুন্দর। তা ছাড়া তাদের গল্প একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। মানে একটি ছবিতে হাসি, প্রেম, বিরহ সবই আছে। এদিক থেকে আমাদের ছবিগুলো অনেক পেছানো। শুধু তাই নয়, কলকাতার ছবিগুলোর নামের সঙ্গে গল্পের মিল পাওয়া যায়, যা আমাদের এখানে খুব কম ছবিতে থাকে। যদিও পরিচালক দেবাশীষ বলেছেন, ‘চল পালাই’ নামের সঙ্গে গল্পের মিল রয়েছে। পালানোর একটা ব্যাপার আছে। গল্পে দেখা যাবে শিপন তমা মির্জাকে ভালোবাসে কিন্তু এ প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তমার বাবা। শিপন তমার বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে তমাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর পথে সাহায্য করে শাহরিয়াজ। শাহরিয়াজ একটা সময় তমাকে ভালোবেসে ফেলে তাই শিপনকে ফাঁকি দিয়ে তমাকে নিয়ে পালিয়ে যায় শাহরিয়াজ।

কলকাতার ছবি কেন বাংলাদেশে মুক্তি পাবে? এমন প্রশ্ন অনেকদিন ধরেই করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সিনেমা হলের সংখ্যা। চলচ্চিত্র আমদানির সঙ্গে জড়িতদের মতেÑ ‘বাংলাদেশের সিনেমা হলের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, ১৩০০ সিনেমা হলের জায়গায় এখন ২০০ সিনেমা হলও টিকে নেই। আমাদের দেশে যে পরিমাণ ছবি মুক্তি পায়, তাতে বাকি হলগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা যেহেতু সিনেমা হলের ব্যবসা করি, তাই আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমাদেরই কাজ করতে হবে।’

কিন্তু এখন তো আমাদের অনেক ভালো ছবি হচ্ছে। বাজেট বাড়ছে, লোকেশনে নতুনত্ব এসেছে, পর্দা আগের চেয়েও চকচকে! এর পরও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ছবি দেখছে না দর্শক।

পরিচালক, শিল্পী, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজকদের কয়েকজন জানালেন, ভালো গল্পের ছবি হলে এমনিতেই দেখে দর্শক। আসলেই তাই। দর্শক হল থেকে বের হয়ে চিন্তা করে গল্পটি তাকে আন্দোলিত করেছে বা বিনোদন দিয়েছে কিনা। হৃদয় ছুঁয়ে গেলেই সে আরেকজনকে ছবিটি দেখার জন্য বলে। এভাবেই দর্শক বাড়ে। তাই সিনেমার মূল প্রাণ গল্প ও চিত্রনাট্যের ওপর জোর দিতে হবে। আসল কথা হচ্ছে, মানুষকে হলে বসিয়ে রাখার মতো গল্প ও চিত্রনাট্য লাগবে। ভালো পরিবেশ হলে অল্প কিছু সিজনাল দর্শক পাবেন, এই যা!

আমাদের দেশের সবাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে পরিবর্তন করার চিন্তা করি। কিন্তু নিজেকে পরিবর্তনের চিন্তা করি না। দর্শককে নতুনত্ব দিতে হবে, বৈচিত্র্য দিতে হবে। তা হলে প্রতি সপ্তাহেই বা দু-তিন সপ্তাহ পরপর হিট ছবি আসবেই।

বর্ষীয়ান প্রযোজক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু ভালো প্রযোজকের অভাবের কথা বললেন। তার মতে, পুরো সিনেমা দেখভাল করার মতো প্রযোজক এখন খুব একটা নেই। অন্যদিকে টানা কাজ করার মতো সিরিয়াস অভিনয়শিল্পীও নেই, যা আছে কলকাতার ছবির। তারা গল্প ও নির্মাণ বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বাজার কৌশল নিয়েও ভাবে। তা ছাড়া আমাদের থেকে কারিগরিভাবে অনেক এগিয়ে তারা। কলকাতার ছবির সঙ্গে জড়িত সবাই নতুনভাবে সবকিছু ভাবে। সবচেয়ে বড় কথা কলকাতার ও আমাদের ছবি নিয়ে দর্শক বলেন, আমাদের পুরো সেটআপেই সমস্যা আছে। যার যা কাজ তা আমরা করছি না। যেমন গল্প অনুযায়ী হয়তো যাকে ডিমান্ড করছে তাকে নেওয়া হচ্ছে না, যা কলকাতার ছবির ক্ষেত্রে হয়। তাই তাদের ছবির দর্শক বেশি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে