হাতঘড়িতেও ভিন্ন ফ্যাশন

  হ এ. এস. এম. সাদ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু সময় দেখার কাজেই নয়, বর্তমানে হাতঘড়ি ফ্যাশনের অনুষঙ্গতে রূপান্তরিত হয়েছে। ছেলে-মেয়ে সবার কাছেই প্রয়োজনে হাতঘড়ি যেমন খুব দরকারি, ঠিক তেমনি ভালো ও আকর্ষণীয় ঘড়ির কালেকশন সবাই কমবেশি করতে চায়। তাই তো ফ্যাশন ও প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই তরুণ-তরুণী সবার কাছেই হাতঘড়ির ব্যবহারে এসেছে ভিন্নতা। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন রকমের ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে আছে বিভিন্ন রকমের ডায়াল ও চেইনে আছে ভিন্নতা। তবে তরুণদের কাছে ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলোই চাহিদার শীর্ষে। কারণ এগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, টেকেও অনেক দিন। এক্সটেসির মডেল তানযিম ইমরান সব সময় ফ্যাশনের জন্য হাতঘড়ি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, আমি চেইনওয়ালা আর কিছুটা বড় ডায়ালের ঘড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আর সেটা অবশ্যই নামিদামি ব্র্যান্ডের হতে হবে। ঘড়ি দিয়ে শুধু যে প্রয়োজন মেটে তা নয়, সঙ্গে সঙ্গে এটির দ্বারা ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধেরও প্রকাশ পায়। ইদানীং খেলার মাঠেও আমরা বড় বড় তারকার হাতে হাতঘড়ি ব্যবহার করতে দেখি, যার জন্য তরুণদের কাছে স্পোর্টসের হাতঘড়িগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ব্র্যান্ডের ঘড়ির নামগুলো
রোলেক্স, টাইটান, টাইম জোন, ফসিল, মাইকেল কোর্স, কেলভিন ক্লেইন, ফাস্ট ট্র্যাক, রাডো, টিসো, এম্পোরিও আরমানি ইত্যাদি ব্র্যান্ড জনপ্রিয়।

ঘড়ির ডিজাইন
স্থানভেদে ঘড়ির ডিজাইনেও আছে ভিন্নতা। কারণ সব রকমের ঘড়ি সব জায়গায় পরে যাওয়া যায় না। সাধারণত পাঁচ ধরনের হাতঘড়ি পাওয়া যায়, যা সময় ও স্থানভেদে সকলে পরে থাকে; যার প্রত্যেকটির মধ্যে আছে আলাদা বিশেষত্ব।

তবে নিচের প্রত্যেকটি ঘড়ি ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে।নিচে ঘড়ির ধরন দেওয়া হলোÑ

ড্রেস ওয়াচ
এটি সাধারণত বিভিন্ন অফিসের মিটিং ও বিয়ের অনুষ্ঠানে পরে থাকে। এই হাতঘড়িগুলো অফিশিয়াল পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

ফিল্ড ওয়াচ
সাধারণত ভ্রমণপিপাসুরা এ রকম ঘড়ি ব্যবহার করে থাকেন। ঘড়িগুলোর ওপর সূর্যের আলো পড়লেও সময় দেখা যায় এবং রাতে সময় দেখার জন্য রয়েছে আলো। তা ছাড়া ঘড়ির মধ্যে আছে কম্পাস, যা পথ দেখাতে সহায়তা করবে।

এভিয়েটর ওয়াচ
সাধারণত যারা বৈমানিক অথবা বিমানে চলাচল করেন, তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এই হাতঘড়িগুলো তৈরি করা হয়েছে। এ ঘড়ির বিশেষত্ব হচ্ছে- এ ঘড়ির মধ্যে আরও একটি সেকেন্ডের কাঁটা থাকে, যেটি প্রয়োজনমতো সুইচ চেপে ব্যবহার করা যায়।

ডাইভ ওয়াচ
এ ধরনের ওয়াচ সাধারণত ওয়াটার প্রুফ হিসেবে তৈরি করা হয়ে থাকে, যার জন্য বর্ষাকালে এসব ঘড়ি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।

রেসিং ও স্পোর্টস ওয়াচ
রেসিং ও স্পোর্টস ওয়াচ সবারই পছন্দ। বাইকার অথবা সাইকেলে যারা বেশি রাইড করেন, তাদের জন্য রয়েছে রেসিং ও স্পোর্টস হাতঘড়ি। আর যারা খেলোয়াড়, তাদের কাছে আছে নানা ব্র্যান্ডের স্পোর্টস ওয়াচ।

বাজারে এসেছে ঘড়ির নতুন ডিজাইন
মেয়েদের
বাজারে মেয়েদের জন্য এসেছে নতুন ডিজাইনের কোকো শ্যানেল হাতঘড়ি। নারীদের জন্য তৈরি এ ঘড়িতে প্রথমবারের মতো জুড়ে দেওয়া হয়েছে ইনহাউস মুভমেন্ট। ঘড়ির মূল ডায়ালের ভেতরে ছোট ছোট অনেক অংশ যোগ করে তৈরি করার এ প্রাযুক্তিক কারসাজিকে বলা হয় ইনহাউস মুভমেন্ট, যা কিনা গণ্য হয় ওয়াচ মুভমেন্টের ভিন্ন একটি ধারা হিসেবে। শ্যানেল অবশ্য তাদের ঘড়ির মধ্যে এই ডিজাইন জুড়ে দেওয়ার টেকনিককে বলছে ক্যালিবার। তাদের প্রথম ইনহাউস মুভমেন্ট ঘড়ির নাম ছিল ক্যালিবার ওয়ান নামে।

ছেলেদের
সুইস ঘড়ির ব্র্যান্ড ম্যাক্সিমিলান বুসার অ্যান্ড ফ্রেন্ডস (এমবিঅ্যান্ডএফ) সম্প্রতি নতুন একটি সময়যন্ত্র বাজারে ছেড়েছে। ঘড়িটির নকশা ক্যান এএম কার রেসে অংশগ্রহণ করা একটি গাড়ি থেকে উদ্বুদ্ধ। যার ডুডলের ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়েছে নীলাকান্ত মণি। সনি বাজারে আনছে এমন এক ঘড়ি, যা স্পর্শ করলেই পাল্টে যায় ঘড়ির রঙ। অর্থাৎ আপনার পছন্দ অনুযায়ী রঙ আপনি বদলে নিতে পারবেন। এরই মধ্যে অনেকে বলছেন, সনির ‘এফইএস’ ঘড়ি নিঃসন্দেহে ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।

মূল্য
অন্যান্য সাধারণ ঘড়ির তুলনায় ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলো একটু বেশি দামি। নিচে এর একটি তালিকা দেয়া হলো-
রোলেক্স- ২২ হাজার থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত। টাইটান- ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ লাখ পর্যন্ত। ফসিল- ৫ হাজার থেকে ১১ হাজার পর্যন্ত। কেলভিন ক্লেইন- ১ হাজার ২৫০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত। ফাস্ট ট্র্যাক- ১ হাজার ৫৮০ থেকে ২৪ হাজার পর্যন্ত। ডিজায়ার- ১ হাজার ১০০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত। রাডো- ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যন্ত। টিস- ৪ হাজার ৫০ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত। আরজন্ত- ৭০০ থেকে ৩৫ হাজার পর্যন্ত। আরমানি- ৫০০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত।

যেখানে পাওয়া যাবে
রাজধানীর প্রত্যেকটি বড় শপিংমলে এই নামিদামি ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলো পাওয়া যায়। তবে বরাবরই ক্রেতাদের কাছে পছন্দের কিছু শপিংমল থাকে, যেখানে এই হাতঘড়িগুলো পাওয়া যাবে।

এই জায়গাগুলো হলো, ঢাকার পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের বেইলি স্টার, ধানম-ির রাপা প্লাজা, এয়ার প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার, মোহাম্মদপুরে টোকিও স্কয়ার ও নিউমার্কেট।

অনলাইনে : অনলাইনে যারা কেনাকাটা করতে চান তাদের জন্য রয়েছে অনলাইন শপিং, যেখানে ক্রেতারা ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারবেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো-

কারেন্ট ওয়াচ বাংলাদেশি
ওয়াচ অনলাইন শপ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে