শা র দী য় সাজে

প্রকাশ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

শরতের প্রকৃতিতেই যেন পূজার আমেজ। ম-পে ম-পে শঙ্খ-উলুধ্বনি। শুরু হয়েছে শারদীয় উৎসব। এ উৎসবে ঢাকাই শাড়িতে অঞ্জলি, দেবী-বন্দনা যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা। এমন দিনে আপনার সাজই বলে দেবে আপনি অদ্বিতীয়া। কীভাবে? পরামর্শ দিয়েছেন কানিজ আলমাস খান। বিস্তারিত জানাচ্ছেনÑ ইসমত জেরিন স্মিতা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সবচাইতে বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজার বড় আনন্দ মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ানো। তবে উৎসবের আনন্দে শুধু ঘুরে বেড়ালেই কি হবে? সাজতে হবে উৎসবের সাজে। পূজার জর্জেট পোশাক সাদা-লাল পেড়ে শাড়ি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাজেও এসেছে বর্ণিল ট্রেন্ড। পূজার ষষ্ঠী থেকে দশমী এই পাঁচ দিন সাজা যায় ইচ্ছেমতো। তবে দশমীর দিন ঘনিয়ে আসতে থাকা মানেই যেন সাজে গর্জিয়াস ভাব আসতে থাকা।

শারদীয় দুর্গপূজায় আপনার পোশাক হতে পারে দেশীয়। কিংবা ইচ্ছে হলে পাশ্চাত্য ঢঙের। তবে সাজতে হবে আপনার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, রুচি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে। আধুনিক, কিংবা সনাতনী যেভাবেই নিজেকে সাজান, তা হতে হবে স্নিগ্ধ। আবার নিজের সাজই যেন বলে দেয় আপনি অদ্বিতীয়া। সাজই আপনাকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করবে।

সপ্তমীতে লাবণ্যময়ী

সপ্তমীর সাজ একটু ভারী-ই হতে পারে। এদিন তেমন আড়ম্বরপূর্ণ কোনো আয়োজন থাকে না। তবু পূজাম-প এলাকা থাকে সরগরম। তাই এদিন যারা বের হবেন, তাদের সাজে লিপস্টিক, শ্যাডো, মাশকারা, লাইনার সবই একটু ভারী হলেও ক্ষতি নেই। পোশাকেও ষষ্ঠীর মতো হালকা ভাব, তবে শাড়িতে এদিন অনেকে কাতান, জর্জেট পছন্দ করেন। যেন পুরো সাজটাই আপনাকে লাস্যময়ী করে তোলে। তবে রাতের সাজে আরও ভিন্নতা থাকতে পারে।

পূজার সাজ নিয়ে কথা বলেছেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। তিনি বলেন, এখন গাউন টাইপের লং ড্রেসটাই সবাই বেশি পছন্দ করছেন। আবার একই সঙ্গে শর্ট ড্রেস পরারও একটা ট্রেন্ড চলছে। অল্প বয়সীরা সালোয়ার-কামিজ আর একটু বয়স্করা পাড়ওয়ালা শাড়ি পছন্দ করছেন। সবাই এখন ড্রেসআপের ব্যাপারে এতটাই সচেতন, তারা বোঝেন তাদের কোনটা মানিয়ে যায়। পূজার সাজের ব্যাপারে আমি বলব, তরুণরা এখন ন্যাচারাল বেজ পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে চোখটা অনেক শেড না লাগিয়ে হালকা রাখাই ভালো। এ ক্ষেত্রে হালকা রঙের আইশ্যাডো দেওয়া যায়। সময়টা যেহেতু গরমের তাই চোখে আইলাইনার, মাশকারা ওয়াটার প্রুফ লাগাতে হবে। যাতে ঘেমে গেলে নষ্ট হয়ে না যায়। যাদের লম্বা চুল, তাদের চুল বেঁধে

রাখা ভালো। কেননা গরমে চুল সেট করে বের হলেও কিছু সময় পর ঘেমে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বেঁধে রাখার জন্য ক্লিপ লাগিয়ে বা কোনো ডিজাইন করে চুলটাকে ম্যানেজ করে নিতে হবে। আর যাদের চুল ছোট, তারা শ্যাম্পু করে ব্লো-ডাই করে রাখতে পারেন। বড় চুলের চেয়ে ছোট চুল সামলানো সহজ। সপ্তমীতে বা অন্য সময় অঞ্জলিতে চুল বেঁধে রাখলে দেখতে আকর্ষণীয় লাগে। আর রাতের সাজে একটু ভারী মেকআপ নিলে ভালো।

অষ্টমীতে গর্জিয়াস

অষ্টমীতে সকালটা শুরু হয় অঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে। পাড়ার ম-পে কিংবা মন্দিরে গিয়ে এদিন দেবীকে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তরুণদের আগ্রহটাই বেশি দেখা যায়। তরুণরা একটু কালারফুল পোশাক পরতে পারে। তাতে একটা অন্য লুক আনা সম্ভব। এদিন বিবাহিত নারীরা কপালে মোটা করে সিঁদুর পরেন। চোখে কাজল টানেন। অষ্টমীতে পুরো দিন প্রায় সবাই-ই ভারী সাজে সাজতে পছন্দ করেন। শাড়ি-গহনা-মেকআপ, সবক্ষেত্রেই থাকা চাই গর্জিয়াস লুক। কানিজ আলমাস খান বলেন, অষ্টমীর দিন সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়। তাই এদিন বেড়ানোটাও বেশি হয়। হাতে সাজা যায় তাহলে ভালো। এতে বরং অনেক গর্জিয়াস এবং একটা স্পেশাল একটা লুক চলে আসবে।

নবমীতে পার্টি সাজ

নবমীতে হয় সান্ধ্য পূজা। তাই সবাই সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যান। আর সন্ধ্যার পর বলেই এদিন অনেকটা পার্টি সাজে সাজেন সবাই। ভারী গহনা, রঙবৈচিত্র্যময় পোশাক, ভারী মেকআপ, চুলের সাজ, তাজা ফুল এদিনের সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে থাকতে পারে।

দশমীতে সিঁদুর খেলায়

শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রধান আকর্ষণ হলো দশমী। পুজোর পাঁচ দিনের মূল অনুষ্ঠান থাকে দশমীতে। কেননা এ দিনই সাজের সবচেয়ে বৈচিত্র্য প্রকাশ পায়। দশমীর সাজ মানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, হলুদ পেড়ে লাল শাড়ি কিংবা একদম লাল রঙা শাড়ি। প্রায় সব বয়সী নারীর ক্ষেত্রেই এই সাজ দেখা যায়। অনেকে আবার প্রতিমার মতোও সাজতে পছন্দ করেন। চোখে কাজলের টানা লাইনার, লাল লিপস্টিক, স্নিগ্ধ মেকআপ আর সিঁদুর। এদিন ঠাকুরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়।

তবে দশমী মানেই যে সব সময় লাল পাড় সাদা শাড়ি পরতে হবে তার কোনও মানে নেই। জমিনে হালকা কাজ কিন্তু আঁচলটা ভারী, এমন শাড়ি পরা যেতেই পারে। যেমন হালকা কাজের বেনারসী মানিয়ে যায়। লাল, গোলাপী, গোল্ডেন এই ধরনের রঙের উপর ছোট বুটি, ভারী আঁচল। তার সঙ্গে মাথায় সিঁদুরের টিপ, খোঁপায় ফুল, এবং একটু গোল্ডেন গয়না। মাকে বরণ করে বিদায় জানাবার জন্য আদর্শ সাজ।