তারার স্টাইল

তাহাদের ভালোবাসা

  কেয়া আমান

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্দায় তারাদের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হই আমরা। পর্দার মতো তারাদের বাস্তব জীবনেও আছে ভালোবাসার মধুর কাব্য। ভালোবেসে তাদের কেউ কেউ হয়েছেন জীবনসঙ্গী। সাজিয়েছেন সুখের সংসার। তেমনি এক দম্পতি শোয়েব-মৌসুমী। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এই তারকা দম্পতি শুনিয়েছে তাদের প্রেম, ভালোবাসা আর দাম্পত্য রসায়নের গল্প। 

অভিনয়শিল্পী শোয়েব ইসলাম-মৌসুমী নাগের দাম্পত্য জীবন একে একে পেরিয়েছে চারটি বসন্ত। আর ভালোবাসা? উত্তরটি দিলেন শোয়েব। বলেন, ‘আমরা দুজনেই অভিনয় জীবনের মানুষ। অভিনয় শুধু আমাদের শখ বা পেশা নয়, অভিনয় আমাদের দুটি জীবনকেও বেঁধে দিয়েছে এক সুতোয়। অভিনয় করতে করতে কখন যে সত্যি সত্যি সেই ভালোবাসার এক সুতোয় বাঁধা পড়েছি, তা দিনক্ষণ গুনে বলতে পারব না। তবে আমিই প্রথম ভালোবাসার কথা বলেছিলাম।’ শোয়েবের কথার রেশ ধরেই মৌসুমী নাগ বলেন, ‘আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। চট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রেমকে পরিণাম দিতে আমরা তাই কিছুটা সময় নিয়েছি। এই সময়টাতে দুজন দুজনকে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। এর পরই ঘর বেঁধেছি। এ কারণেই হয়তো আমাদের বোঝাপড়াটা বেশ।’

২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পর্দা পেরিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন শোয়ের-মৌসুমী নাগ জুটি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গুছিয়ে নেন তাদের সংসার। যদিও মৌসুমী মনে করেন, আরও অনেক কিছুই এখনো বাকি আছে। বলেন, ‘সংসার গোছানোর কি আর শেষ আছে। এখনো চলছে সংসার গোছানোর কাজ। তবে অভিনয়, সন্তান আর সংসারে এই গোছগাছ বেশ আনন্দের।’

তবে কি মান-অভিমান নেই শোয়েব-মৌসুমীর সংসারে! শোয়েব বোধহয় আমার ভাবনাটি আঁচ করে ফেললেন। তাই হয়তো প্রশ্ন করার আগেই উত্তর দিয়ে দিলেন, ‘তাই বলে ভাববেন না মান-অভিমান নেই। মান-অভিমান সংসার জীবনেরই একটি অংশ। ভালোবাসা আর মান-অভিমান মিলেমিশে থাকাটাই হচ্ছে সুখী সংসারজীবন। তবে এই মান-অভিমানকে কখনই বাড়তে দেওয়া উচিত নয়। দুজন দুজনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা আর বিশ্বাস থাকলে মান-অভিমান খুব সহজেই মেটানো সম্ভব।’ একই মত মৌসুমীরও। বিশ্বাস আর আস্থা থাকলে যে কোনো রিলেশনই সুখের হয় বলে মনে করেন মৌসুমী।

কবে প্রথম ভালোবেসেছিলেন সেটা দিন গুনে মনে করতে না পারলেও মৌসুমীর ভালো লাগার দিকগুলো বেশ ভালোভাবেই আঁচ করতে পারেন শোয়েব। জানান, ‘ওর সবকিছুই আমার ভালো লাগে। শুধু গুণগুলো নয়, ওর দোষগুলোও আমার ভালো লাগে। তা ছাড়া ভালোবাসার মানুষের দোষ-গুণ সবকিছু মিলিয়েই ভালোবাসা উচিত। আমি একরোখা স্বভাবের। কিন্তু ও আমাকে ঠিকই মানিয়ে নিতে পারে। মৌসুমী খুব কেয়ারিং, মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসে, খুব ভালো রাঁধেও। ওর রান্না করা খিচুড়ি আর ঝাল মাংস আমার খুব পছন্দ।’ শোয়েবের সবকিছুতেই মুগ্ধ মৌসুমী বলেন, ‘আমি ওর সবকিছুতেই মুগ্ধ। এ মুগ্ধতার যেন শেষ নেই। শোয়েব খুব দায়িত্ববান, আমার সিদ্ধান্তের ওপর অনেক বেশি আস্থাশীল, বিপদে মানুষের পাশে থাকতে ভালোবাসে, খুব কেয়ারিং। আমার প্রেগনেন্সি অবস্থায় ও আমার অসম্ভব যতœ নিয়েছে।’ মৌসুমীর মনে এত বেশি মুগ্ধতা ছড়িয়ে আছে যে মানুষটি তার ছোটখাটো দু-একটি নেতিবাচক দিকে তাই আমলে নিতে চান মৌসুমী।

প্রচুর ঘুরতে পছন্দ করেন এই তারকা জুটি। মাঝে সন্তান ছোট থাকায় কিছুদিন একসঙ্গে খুব বেশি ঘুরতে না পারলেও কোনো দিবস, উপলক্ষ সেলিব্রেট করতে মিস করেন না তারা। এ ক্ষেত্রে ভালোবাসা দিবসটি দুজনেরই প্রিয় একটি উপলক্ষ। দুজনেই মনে করেন, দৈনন্দিন জীবনে কারোরই আসলে ঘটা করে ভালোবাসার কথা বলা হয়ে ওঠে না, এই দিনটিতে একটু ঘটা করে হলেও সে সুযোগটি চলে আসে। ভালোবাসার সম্পর্কে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া লাগে।

উপহার দেওয়ায় কে বেশি এগিয়ে জানতে চাইলে শোয়েব বলেন, ‘মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে আমার নিজের জন্য কখনো মোবাইল, ঘড়ি কেনা হয়নি। মৌসুমীই সব সময় এ জিনিসগুলো গিফট করে। গিফটের ক্ষেত্রে ও-ই বেশি এগিয়ে।’ কিন্তু শোয়েব আমাকে নিজ থেকে তেমন কিছু গিফট করে নাÑ অভিমানী সুরে জানালেন মৌসুমী। বলেন, ‘ওই যে বললাম এত এত মুগ্ধতার মাঝে দু-একটি নেতিবাচক দিক আমি আমলে নেই না। এটা হলো তার একটি। ও সারপ্রাইজ দিতে পারে না। আমাকে গিফট করার জন্য সব সময় আমাকেই সঙ্গে নিয়ে যায়। অবশ্য গত বছর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমার জন্য বিশাল একটি ফুলের তোড়া এনেছিল।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে