এখন যেমন খাবার চাই

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরের মধ্যে ভ্যাপসা গরম। বাইরে গরমের সঙ্গে কড়া রোদের তাপ। গ্রীষ্মের শুরুতেই এমনি রোদ-গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ সময় খাবার গ্রহণে সতর্ক ও সচেতন না থাকলে যে কেউ যে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এ সময় কী ধরনের খাবার গ্রহণে সুস্থ ও সতেজ থাকা যাবে এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। লিখেছেনÑ কেয়া আমান

গরমে তাজা শাকসবজি ও সালাদ পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে শরীরকে সতেজ রাখে। তাই এ সময় প্রতি বেলার খাবারে দুই ভাগ সবজি ও সালাদ রাখুন। লাউ, চিচিঙ্গা, কুমড়া, পটোল, ঝিঙেসহ নানারকম শাকসবজি এ সময় শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখবে। গরমে করলা, উচ্ছে, গিমাশাক, হেলেঞ্চা, তেতো পাটশাকসহ নানারকম তেতো সবজি খেতে চেষ্টা করুন। তেতো শাকসবজি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পাকস্থলীর ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। সঙ্গে পূরণ করে খনিজ লবণ এবং মিনারেলের ঘাটতিসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের অভাব।

প্রতিবেলার খাবারে এখন অনেকটা সচেতন থাকতে হবে। এ সময় সকালের নাস্তায় তেলে ভাজা পরোটার বদলে খেতে পারেন আটার রুটি, চিড়া-দই প্রভৃতি। দুপুরের খাবারে রাখুন শসা, টমেটো, গাজর, পুঁদিনাপাতা, লেটুসপাতা, মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি করা এক বাটি সালাদ, এক বাটি সবজি, মাছ, ডাল আর এক কাপ ভাত। রাতের খাবারেও রাখুন সালাদ, সবজি। প্রতিবেলার খাবার ছাড়াও সকাল ও দুপুরের খাবারের মাঝে সালাদ খেতে চেষ্টা করুন। সপ্তাহে একদিনের বেশি মাংস না খাওয়াই ভালো।

পানিশূন্যতাসহ নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং ত্বক সতেজ ও স্নিগ্ধ রাখতে এ সময় প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন। বেশি পানি খেতে ইচ্ছে না করলে বিভিন্ন রকম তাজা ফলের জুস, শরবত, ডাবের পানিও খেতে পারেন। সকালে নাস্তায় ঘরে তৈরি এক মগ তাজা ফলের জুস শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করবে। কাঁচা আম, বেলের শরবতসহ বিভিন্ন ধরনের ঘরে তৈরি শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের সমস্যা দূর করে। পটাসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতেও শরবতের জুড়ি নেই।

গ্রীষ্মে বাজারে তরমুজ, বেল, বাঙ্গি, আনারস, কাঁচা আম, পেয়ারাসহ নানারকম মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। এগুলোও খেতে পারেন। কারণ ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। সেই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে। এ ছাড়া পেয়ারা, কলা, পাকা পেঁপে ও আনারস ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখে, ক্লান্তি দূর করে। তরমুজ ও বাঙ্গি রক্তশূন্যতায় উপকারী। তাই চেষ্টা করুন প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি ফল খেতে।

রোদ-গরমে বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল নিতে ভোলা যাবে না। আমরা অনেকেই দোকানের কেনা পানির বোতল, ফিল্টারের পানি বিশুদ্ধ মনে করে খাই। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই এসব পানি জীবাণুমুক্ত নয়। তাই সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখাই এ সময়ের জন্য উপযোগী। গরমে স্বস্তি পেতে দোকানের কেমিক্যাল মিশ্রিত পানীয় গ্রহণের অভ্যাস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। গরমে ছোট-বড় সবাই ঠা-া পানি খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। যতটা সম্ভব ঠা-া পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এ সময় ঠা-া পানি থেকে সর্দি-কাশি, টনসিলসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তরকারি ভুনা না করে এ সময় যতটা সম্ভব ঝোল খাওয়ার চেষ্টা করুন। মসলাও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। গরমে বাসি খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ বাসি খাবারে সৃষ্টি হয় ব্যাকটেরিয়া। তাই এসব খাবার গ্রহণে রোগজীবাণু হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

গরমকাল মানেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির আদর্শ সময়। আবার পানিবাহিত অসুখ যেমনÑ টাইফয়েড, জন্ডিসও এ সময় বেশি হয়। রাস্তার ধারের ফুচকা, চটপটি, শরবত, ঠা-া পানি, কাটা ফলসহ নানারকম খাবারে এসব রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যত পিপাসার্ত কিংবা ক্ষুধার্তই থাকুন না কেন, ভুল করেও রাস্তার ধারের জিনিস খাওয়া এ সময় উচিত নয়। গরমে প্রতিদিন দুই কাপের বেশি চা, কফি খাওয়া উচিত নয়। লেবু চা এ সময় বেশ উপকারী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে