বিখ্যাত যত রাজনৈতিক প্রেমকাহিনি

  অনলাইন ডেস্ক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০১:০৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রানি এলিজাবেথ (দ্বিতীয়)-প্রিন্স ফিলিপ
গ্রিস আর ডেনমার্কের রাজকুমার ফিলিপ ব্রিটেনের রাজকুমারী এলিজাবেথকে ভালবেসে বিসর্জন দিয়েছিলেন নিজের ড্যানিস পদবি। এলিজাবেথকে বিয়ে করবেন বলে বিয়ের পূর্বমুহূর্তে প্রিন্স ফিলিপ যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন ও মায়ের ডিকের মাউন্টব্যাটেন পদবি গ্রহণ করেন। বিয়ের দিন তিনি ডিউক অব এডিনবরা পদবিধারী হন। ১৯৪৭ সালে এলিজাবেথ আর ফিলিপ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর এ জুটি একসঙ্গে কাটিয়ে এসেছেন ৭০টি বসন্ত। এ বছরের বসন্তও এ দুজনের প্রেমের সাক্ষী থাকার জন্য তৈরি।

এ জুটির প্রথম সাক্ষাৎ হয় কৈশোরে। সে সময় রানির বয়স ছিল মাত্র ১৩। এর প্রায় ১০ বছর পরই তাদের বাগদান হয়। এমনকি প্রেম করার দিনগুলোতেও এ জুটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কঠোর

গোপনীয়তা বজায় রাখেন। তাদের কখনো জনসমক্ষে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়নি। বিয়ের আগে রাজকুমার ফিলিপ তার প্রেমিকা রাজকুমারী এলিজাবেথের কাছে লেখা এক চিঠিতে এই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, ‘যদি তিনি পুরোপুরি ও খোলাখুলিভাবেই এলিজাবেথের প্রেমে পড়তে পারতেন তাহলে হয়তো অনেক বেশি সুখী হতেন।’ ব্রিটিশ রাজপরিবারের আরও অনেক সদস্যের মতো এ দম্পতিও তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেন। এ জুটির হাত ধরাধরি করে তোলা কোনো ছবিও পাওয়া যাবে না। তাদের চার সন্তান রয়েছেÑ চার্লস, অ্যানি, অ্যান্ডরু ও এডওয়ার্ড।

ওবামা-মিশেল
সাধারণ আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক থেকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টÑ এই দীর্ঘ পথচলায় ওবামা এক ইতিহাসের নাম। এই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ওবামা-মিশেলের দাম্পত্য জীবন। সংসারের ছোটখাটো ঝুটঝামেলা বাদ দিলে এ দম্পতি জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও পরস্পরের প্রতি টান ছিল, ছিল প্রেম। ১৯৮৯ সালে শিকাগোর একটি ল ফার্মে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন মিশেল রবিনসন। সে সময় হার্ভার্ড ল কলেজ থেকে গ্রীষ্মকালীন সহযোগী হিসেবে মিশেলের অধীনে কাজ করেছিলেন বারাক ওবামা। তখনই শিকাগোর সাউথ সাইডে প্রথমবারের মতো বারাক ওবামা ডেটিংয়ের জন্য প্রস্তাব দেন মিশেল ওবামাকে। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা, মিশেলকে প্রথম ডেটিংয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে তার জীবনের সবচেয়ে সাহসের কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন। দীর্ঘদিন প্রেম-ভালবাসার পর ১৯৯২ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে। তাদের একজন মালিয়া অ্যান ওবামা (জন্ম ১৯৯৯) এবং আরেকজন নাতাশা ওবামা সাশা (জন্ম ২০০১)। এ জুটির প্রেম নিয়ে হলিউডে সিনেমাও তৈরি হয়েছে।

ইন্দিরা-ফিরোজ গান্ধী
১৯৩০ সালে হরতালের পিকেটিং করার সময় প-িত জওহরলাল নেহরুর স্ত্রী কমলা ও মেয়ে ইন্দিরার সঙ্গে পরিচয় ঘটে ভারতের পারসি সম্প্রদায়ের সদস্য ফিরোজ জাহাঙ্গীর গান্ধীর। তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টির একজন নবীন সদস্য। এরপর থেকে নেহরু পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয় এবং নেহরু পরিবারের খুব কাছের একজন হয়ে যান। ১৯৩৩ সালে তিনি ইন্দিরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন এটা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কমলা নেহরু। ইন্দিরা নেহরুর বয়স তখন মাত্র ১৬। ১৯৩৬ সালে কমলা নেহরু মারা যান এবং ইন্দিরা তখন খুব একা হয়ে যান। পিতা জওহরলাল তাকে অক্সফোর্ডে পাঠান পড়াশোনার জন্য। সেই সময় ফিরোজ গান্ধী ও অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়টাতেই ইন্দিরা ও ফিরোজ খুব ঘনিষ্ঠভাবে একে অন্যের কাছে চলে আসেন। সেই সময়ই ইন্দিরা তার পিতা জওহরলাল নেহরুকে প্রায় ১০০ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে একটা মাত্র বাক্য লেখা থাকত। তা হলো : ‘বাবা, আমি ফিরোজকে ভালবাসি।’ প-িত জওহরলাল নেহরু এই বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি বিয়েটি বাতিল করার জন্য মহাত্মা গান্ধীর শরণাপন্নও হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ১৯৪২ সালের মার্চে তারা বিয়ে করেন। জানা যায়, বিয়েটা হয় হিন্দু ধর্ম মতে। ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ের পরই ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী নেহরু হয়ে যান শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। আন্তঃধর্মীয় বিয়ের বিরুদ্ধে তখন পত্রপত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হতো। পরে অবশ্য তিনি তাদের সাদরে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বিয়েটাও সুখের হয়নি। ইন্দিরা ও ফিরোজ দম্পতির দুটি সন্তা, রাজীব ও সঞ্জয় গান্ধী। ১৯৬০ সালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ফিরোজ গান্ধী। আর ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের দেহরক্ষীদের হাতে নিহত হন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

পিয়েরে ট্রুডো-মার্গারেট সিনকিয়ার
১৯৬৬ সালে টিভি টকশোর হোস্ট মার্গারেট জোয়ান সিনকিয়ারের বয়স যখন ১৮, তিনি তখন ছুটি কাটাতে যান তাহিতি দ্বীপে। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ৫২ বছর বয়সী জোসেফ ফিলিপ পিয়েরে ইভস ইলিয়ট ট্রুডোর। যিনি তখন কানাডার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও আইন ও বিচারমন্ত্রী। কিন্তু পিয়েরে ট্রুডো তখন নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে একেবারে প্রেমিক তরুণের মতো প্রায় ৩০ বছর ছোট সুন্দরী মার্গারেটের কাছে প্রেম নিবেদন করেন। মার্গারেটও রাজনৈতিক পরিবারেরই মেয়ে। তার বাবা ছিলেন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। তারপর থেকে তারা খুব গোপনে ডেটিং করতে থাকেন। ১৯৬৮ সালের ২০ এপ্রিল পিয়েরে ট্রুডো যখন কানাডার ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখনো তাদের এই অভিসার গোপন ছিল। একজন ব্যাচেলর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তাদের এই অসম বয়সী প্রেম চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ৪ মার্চ মার্গারেট আর পিয়েরে ট্রুডো ক্যাথলিক চার্চে প্রাইভেটলি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পিয়েরে ট্রুডো তখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। পিয়েরে ট্রুডো ক্যাথলিক হওয়ায় বিয়ের সময় মার্গারেট রোমান ক্যাথলিজমে কনভার্ট হন। ওই বছর ক্রিস্টমাসে তাদের প্রথম সন্তান আজকের কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জন্মগ্রহণ করেন। পিয়েরে ট্রুডো ও মার্গারেট সিনকিয়ারের তিন সন্তান। জাস্টিন ট্রুডো, আলেক্সজান্দ্রে ট্রুডো সাচা ও মাইকেল ট্রুডো। নানা কারণে ১৯৮৪ সালে এই দম্পত্যির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

সু চি-মাইকেল অ্যারিস
১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউজ কলেজের স্নাতকের ছাত্রী অং সান সু চি’র সাথে দেখা হয় ব্রিটিশ নাগরিক মাইকেল অ্যারিসের সাথে। যিনি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচয় পরিণত হলো ভালোবাসায়। এর মধ্যেই অং সান সু চির অক্সফোর্ডের পালা শেষ হলো। তখন মাইকেল অ্যারিস ভুটানের রাজপরিবারের সদস্যদের শিক হিসেবে এবং সেই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুবাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই ভুটানেই মাইকেল অ্যারিসে অং সান সু চির পাণিপ্রার্থী হলেন। মাইকেল এরিসের কথায়, তাদের বিয়ের আগে আট মাসে সু চি তাকে ১৮৭টি চিঠি লিখেছিলেন। ১৯৭২-এর ১ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হলো। এই দম্পত্যির দুই সন্তান আলেক্সান্ডার ও কিম। বিয়ের পরে ১৬টি বছর অং সান সু চি আদর্শ গৃহবধূর জীবনযাপন করলেন। ১৯৮৮ সালে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে তাঁকে দেখতে ছুটে আসেন দেশে। তখন দেশজুড়ে চলছিল গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন। সেই আন্দোলন থেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি নিজেকে। গঠন করলেন এনএলডি-ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। রাজনৈতিক দল গঠন করে মুহূর্তেই চক্ষুশূলে পরিণত হলেন সামরিক জান্তার। ১৯৮৯ সালে গৃহবন্দী করা হলো তাঁকে। পারিবারিক জীবনেরও সমাপ্তি ঘটল সেখানেই। এরপর প্রায় দুই দশক গৃহবন্দী ও কারাগারে কাটালেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে শেষ দেখা ১৯৯৫ সালের বড়দিনে হলেও ছেলেদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এর চার বছর পর স্বামী মারা যান ১৯৯৯ সালের ২৭ মার্চ তার ৫৩তম জন্মদিনের দিনে। স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে পারেননি সু চি। তাদের প্রেম নিয়ে হলিউডে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে