সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার

  অনলাইন ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীর প্রাচীনতম ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে গেলে যে বিষয়টি মানুষের মাথায় খেলা করে তা হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পুরকৌশল।। একজন সাধারণ মানুষ ইঞ্জিনিয়ার বলতে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকেই কল্পনা করে থাকেন। পুরকৌশল হলো পেশাদার প্রকৌশল ব্যবস্থার অন্যতম শাখা যেখানে নকশা, নির্মাণকৌশল, বাস্তবিক বা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পরিবেশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে সেতু, রাস্তা, পরিখা, বাঁধ, ভবন ইত্যাদি নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। মূলত পৃথিবীর সর্বত্র পুরকৌশলীদের কাজ রয়েছে। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ছোঁয়া লাগেনি। সবচেয়ে পুরনো, বড় এবং সব প্রকৌশল জ্ঞানের সমন্বয় এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। জানাচ্ছেনÑশামীম ফরহাদ

কাজ : সুউচ্চ ভবন, হাইওয়ে ব্রিজ, পানি প্রকল্প, পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি পরিকল্পনা, ডিজাইন, গঠন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার কাজ করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা জরিপের কাজ করে থাকেন, প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন দেন, এমনকি প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কাজও করে থাকেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে শিক্ষার্থী পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, রেলওয়ে, রিয়েল এস্টেট, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার নির্মাণে প্রকৌশলী, এনজিও-তে প্রকল্প প্রকৌশল হিসেবে এবং নিজস্ব নির্মাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পরিসর : যেহেতু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পরিসর বাড়ছে তাই এর অনেক শাখা বের হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ

১. মৃত্তিকা প্রকৌশল

২. স্ট্রাকচারাল প্রকৌশল

৩. পরিবহন প্রকৌশল

৪. পানিসম্পদ প্রকৌশল

৫. পরিবেশ প্রকৌশল

কাজের ধরন : সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের অফিস এবং মাঠ উভয় পর্যায়ে কাজ করতে হয়। চুক্তিকারী এবং পরামর্শক ইঞ্জিনিয়ারদের একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে হয়। তাদের দুর্যোগ প্রশমন এবং ব্যবস্থাপনার মতো সংকটময় পরিস্থিতির সমাধানও করতে হয়। নির্মাণ প্রকৌশলীরা তেল রিগস, বহুতল বিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা অথবা বাড়ির নকশা এমনভাবে তৈরি করেন, যাতে নির্মাণ কাঠামোটি যে ভার বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে তা নিশ্চিৎ করা যায়। তারা নতুন নতুন নির্মাণসামগ্রী ও কৌশল উদ্ভাবন করে থাকেন।

আয়-রোজগার : চাকরিতে নতুন যোগদানকারীদের বেতন ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার (মাসিক) থেকে শুরু হয়। একটু অভিজ্ঞতা থাকলে ৫০ হাজার বা ৯০ হাজার (মাসিক) থেকে শুরু হয় এবং ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে মাসে লক্ষাধিক বেতনে চাকরি করতে পারে।

হতে পারেন ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার : বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চালু হওয়া ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর কোর্স। তবে একজন শিক্ষার্থীকে এ কোর্সের ব্যাপারে সর্বোপরি সহযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট।

যোগ্যতা : এ কোর্স করার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যা যা প্রয়োজনÑ ন্যূনতম এসএসসি পাস (সাধারণ/ভোকেশনাল/দাখিল/সমমান) এবং পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫/২য় বিভাগ এবং গণিত/উচ্চতর গণিতে কমপক্ষে জিপিএ ২ বা ৪০ শতাংশ নম্বরসহ পাস করতে হবে। খরচÑ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা : বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও পিএইচডি করা যায়।

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি যোগ্যতা : এইচএসসি (বিজ্ঞান) বা সমমান। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৫.৫০ থাকতে হবে। ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। অথবা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে) কমপক্ষে জিপিএ ২.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে বুয়েট, কুয়েট, এবং রুয়েটে ভর্তি হতে হলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতিতে ৫-এর স্কেলের কমপক্ষে জিপিএ ৪.০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। খরচ : ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা।

বিস্তারিত জানতে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) িি.িনঁবঃ.ধপ.নফ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) িি.িৎঁবঃ.ধপ.নফ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) িি.িশঁবঃ.ধপ.নফ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) িি.িপঁবঃ.ধপ.নফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে