গল্প

একগাড়ি আমের মালিক

  আমীরুল ইসলামের

০৫ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোরবেলা উঠেই আমি রেডি হতে থাকি। বাবার সঙ্গে স্কুলে যাই। আমাদের স্কুলের নাম মিকিমাউস কিন্ডার গার্টেন। অনেক বড় খেলার মাঠ আছে স্কুলে। খেলার অনেক সরঞ্জাম আছে। তাই স্কুলে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। মামা আদর করে বলেনÑ কি রে, এত সকালে কেন?

আমি হাসতে হাসতে বলিÑ আমার যে ম্যাডাম আছে, সে জুতা খুলে আমাকে মারবে। ভীষণ রাগী। ক্লাসে একটুও দেরি করা যাবে না।

মামা শুনে হাসেন। আজকাল স্কুলে টিচাররা স্টুডেন্টদের গায়ে হাত তুলতে পারে না। এটা একেবারেই নিষেধ।

ড্রাইভার রুবেল আংকেল ভোর সাড়ে ছয়টায় হাজির হন। গাড়ি রেডি করেন। তখন ভোরের আলো ফুটতে থাকে, আকাশ ফর্সা হয়। পাখিরা ডাকে।

বাবার হাত ধরে আমি গাড়িতে উঠি। দশ মিনিট লাগে স্কুল যেতে। ভোরসকালে রাস্তার দুপাশে নানাকিছু দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। একটা ছেলেকে দেখি প্রতিদিন। সে আমার চেয়ে বেশ বড়। হাফপ্যাট আর ছেঁড়া টি-শার্ট তার পরনে। প্রতিদিন ছেলেটি একই কাপড় পরে। তার একটা ভ্যানগাড়ি আছে। সে ফলমূল বিক্রি করে। এখন তার গাড়িভর্তি পাকা আম। আমি বাবাকে একদিন বললামÑ বাবা, ওই গাড়ি আমের কি উনি মালিক? ওনার এত আম? আমার কথা শুনে বাবা হাসলেন, হ্যাঁ। সব আম ওই ছেলেটির।

আমি যখন বড় হব, তখন আমারও এতগুলো আম থাকবে। বাবা হাসেন। আর আমি স্কুল যেতে যেতে স্বপ্ন দেখিÑ অনেক আমের মালিক হব আমি।

বাবাকে সুধাইÑ এত আমের মালিক কী করে হওয়া যায়? বাবা বলেনÑ ওই ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করতে হবে। সত্যি সত্যি একদিন ছেলেটির সঙ্গে আমার মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল। আমাদের বাড়ির গেটের সামনে ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। আমি সরাসরি বললামÑ এই যে ভাই, আপনি এত আমের মালিক কী করে হলেন?

ছেলেটি চুপ।

এত আম আপনার? তখন ছেলেটি বললÑ আমের মালিক হওয়া খুব সোজা। যদি তুমি ভ্যানগাড়ি চালাতে শেখো, তা হলেই হবে। গাড়িভর্তি আম নিয়ে তুমি তখন পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করতে থাকবে। সারাদিন আম বিক্রি শেষ হবে। তারপর আবার এক গাড়ি আম কিনবে। আবার পরদিন বিক্রি করবে।

আমি খুব মজা পেলাম।

বাবাকে বললামÑ বাবা, আমি আম কিনব। আমি বিক্রি করব। একটা ভ্যানগাড়ি থাকবে আমার। বাবা হো হো করে হেসে উঠলেন। আমি এক গাড়ি আমের মালিক হবÑ এ আনন্দে বাবার সঙ্গে হো হো করে হাসতে লাগলাম।

হ অলংকরণ : শাহীনূর আলম শাহীন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে