মাতৃত্বকালীন পাইলস একটি মারাত্মক সমস্যা

  অধ্যাপক ডা. এসএমএ এরফান

০৫ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাতৃত্বকাল হলো একজন নারীর সোনালি সময়। কিন্তু সে সময়ও বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ হতে পারে। এ সময় পাইলস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকেই রোগটি রয়েছে, তাদের রক্তপাতের হারও অনেক বেড়ে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, গর্ভকালীন পাইলসের প্রকোপ বাড়ে কেন? এ সময় জরায়ু ক্রমে বড় হতে থাকে। ফলে পেলভিসের (চবষারং) মধ্যে অন্য অঙ্গগুলোয় চাপের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রক্ত চলাচলকারী শিরাগুলোয় চাপ দেয়। এতে ওই সময় পা ফুলে যায়। একই কারণে পায়ুপথের শিরাগুলো রক্ত যথাযথভাবে ফেরত নিতে পারে না। মলত্যাগের সময় যখন মলদ্বারে ঘষা লাগে, তখন রক্তপাত হয়। গর্ভকালীন রক্তপাতে একজন মা, বিশেষ করে শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। রক্তশূন্যতার কারণে শিশুর বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। তাই গর্ভকালে পাইলস দেখা দিলে দ্রুত এর চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসা : এ ক্ষেত্রে প্রথম কথা হচ্ছে, যদি কোনো মায়ের গর্ভধারণের আগেই পাইলস হয়ে থাকে, তা হলে গর্ভধারণের আগেই রোগটির চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অপারেশনের প্রয়োজন পড়লে অপারেশন করিয়ে নেওয়া ভালো। তাতে গর্ভকালীন পাইলসের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। অপরদিকে গর্ভাবস্থায় পাইলস দেখা দিলে এর প্রথম চিকিৎসা হবে নন অপারেটিভ, অর্থাৎ ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, রক্তপাত বন্ধ করা। কারণ গর্ভাবস্থায় পাইলস হলে পরবর্তী সময় তা এমনিতেই দূর হয়। তাই গর্ভাবস্থায় পাইলস হলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো। সন্তান জন্মের পরও যদি পাইলসের প্রকোপ থেকে যায়, তা হলে পরে অপারেশন করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যদি রক্তপাত বন্ধ না হয়, তা হলে গর্ভাবস্থায় অপারেশন করাতে হবে। এ অপারেশনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপারেশন সম্পন্ন হলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়। রক্তপাতের কারণে যে ঝুঁকি থাকে, অপারেশনের ঝুঁকির শতভাগের একভাগও নয়।

লেখক : পাইওনিয়ার কোলোরেক্টাল সার্জন

চেম্বার : জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল

৫৫ সাতমসজিদ রোড, ধানম-ি, ঢাকা

০১৬২৬৫৫৫৫১১

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে