শিশুর অ্যাজমা (হাঁপানি)

ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

  ডা. মো. মোজাম্মেল হক

০৫ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু থেকে বৃদ্ধÑ সব বয়সী মানুষ হাঁপানিতে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট শিশু জনগোষ্ঠীর ৭.৪ শতাংশ হাঁপানিতে আক্রান্ত, যাদের বয়স ১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

রোগের কারণ : বংশগত কারণ ছাড়াও পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা এ রোগের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। আরও রয়েছে ধুলাবালি, অতিরিক্ত ঠা-া বা গরম, তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তন, শীতকাল, ঠা-া বাতাস, খাবার, যেমনÑ ইলিশ, চিংড়ি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ডিম, কলা, গরুর দুধ, পোকামাকড়, যেমনÑ মাইট, তেলাপোকা, মশার কয়েল, অ্যারোসল, পারফিউম, ধোঁয়া, ফুলের রেণু, পশুপাখির মল ও পশম, পশমি কাপড়, কার্পেট, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ, বিশেষ কিছু ওষুধ ইত্যাদি।

লক্ষণ : শ্বাসকষ্ট হাঁপানি রোগের বড় লক্ষণ। এ ছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া, বুকে চাপ অনুভব করার উপসর্গও থাকতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো কাশি। রাতে বা ভোরের দিকে বেশি কাশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাশিই হাঁপানির একমাত্র লক্ষণ হয়ে থাকে। আরও কিছু উপসর্গ হলোÑ ঘন ঘন নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখে চুলকানি, চর্মরোগ ইত্যাদি। এ রোগে জ্বর থাকে না। তবে জ্বর হলে উপসর্গগুলো বাড়ে।

চিকিৎসা : রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা ও রোগীকে পরীক্ষা করে হাঁপানি রোগ নির্ণয় সম্ভব। চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণÑ রোগ সম্পর্কে ধারণা, সাবধানতা এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন। হাঁপানি রোগ চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ইনহেলার। ছোট্ট শিশুর ক্ষেত্রেও ইনহেলার ব্যবহারে অত্যন্ত সহজ পদ্ধতি রয়েছে।

প্রতিরোধে করণীয় : হাঁপানি রোগের প্রভাবকগুলো যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। শিশুর বাবা-মাকে জানতে হবে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকা বলতে কী বোঝায়, কখন অসুখের তীব্রতা বাড়ে এবং হঠাৎ আক্রমণ করলে করণীয় কী। হাঁপানি পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রিভেনটিভ মেডিসিন ২ থেকে ৫ বছর ব্যবহার করা উচিত। হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। শিশু বয়সেই হাঁপানি রোগ যদি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগ থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে। তবে ইনহেলার ব্যবহারে ভয়ের কিছু নেই। এটি হাঁপানির শেষ চিকিৎসা নয় বরং এটি হাঁপানি রোগের অত্যন্ত কার্যকরী ও নিরাপদ চিকিৎসা।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল

শ্যামলী, ঢাকা

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে